এ খাত দেশের উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের অন্যতম চালিকাশক্তি।
বর্তমানে বড় সমস্যা হলো প্রকল্পের বিল বা রাজস্বের ওপর অগ্রিম আয়কর কেটে নেয়া হয়, অথচ প্রকৃত করদায় পরে নির্ধারিত হয়। আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী উৎসে কর্তিত বা সংগৃহীত কর করদাতার পক্ষে পরিশোধিত কর হিসেবে গণ্য হয়ে কর নির্ধারণের সময় ক্রেডিট পাওয়ার কথা এবং অতিরিক্ত কর পরিশোধিত হলে রিফান্ডের ব্যবস্থাও আইনে স্বীকৃত। অর্থাৎ নীতিগতভাবে অ্যাডভান্স ট্যাক্স সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর নয়।
কিন্তু বাস্তবে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা হলো অগ্রিম কর এমনভাবে আটকে থাকে যেন সেটিই চূড়ান্ত কর। প্রকৃত করদায় কম হলেও উদ্বৃত্ত অংশ দ্রুত সমন্বয় বা ফেরত পাওয়া যায় না। এতে ব্যবসার কার্যকর মূলধন দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে যায়। নির্মাণ খাতে এ সমস্যা আরো গুরুতর, কারণ এখানে আগে ব্যয় হয়, পরে বিল আসে, আর প্রকৃত লাভ আরো পরে স্পষ্ট হয়। তার ওপর বিল ছাড়ে দেরি হলেও কর কর্তন দেরি করে না।
তাই বাজেটে একটি স্পষ্ট নীতিগত সংশোধন প্রয়োজন। যেসব ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর কেবল অ্যাডভান্স কালেকশন অব ট্যাক্স, সেসব ক্ষেত্রে তা অ্যাডজাস্টেবল ট্যাক্স ক্রেডিট হিসেবে কার্যকর করতে হবে। প্রকৃত করদায় কম হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় বা রিফান্ড নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড় দ্রুততর করা এবং নির্মাণসামগ্রী ও প্রকল্প সহায়ক উপকরণের কর ও শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা জরুরি। এতে ব্যবসার তারল্য রক্ষা পাবে, প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব ভিত্তিও আরো শক্তিশালী হবে।










