খাতটির বিকাশের পথে কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। তুলনামূলকভাবে উচ্চ করহার, বীমা সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার অপ্রতুলতা এবং নতুন পণ্যের অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বীমা কোম্পানিগুলোর ওপর করপোরেট করহার ৪০ শতাংশ, যা আমাদের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। অথচ ভিয়েতনামে এ হার ২০ শতাংশ, সৌদি আরবে ২০, নেপালে ২৫ ও শ্রীলংকায় ৩০ শতাংশ।

করপোরেট করহার যুক্তিসংগত পর্যায়ে, যেমন ৩০ শতাংশে নির্ধারণ করা হলে বীমা খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে পলিসি হোল্ডারদের লভ্যাংশের ওপর আরোপিত ভ্যাট পুনর্বিবেচনা এবং জীবন বীমা পলিসির মেয়াদপূর্তির অর্থের ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার হলে বীমা আরো গ্রাহকবান্ধব হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়তে পারে।

ডিজিটাল রূপান্তরও এ খাতের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল স্ট্যাম্প ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের প্রবর্তন, ইন্স্যুরটেক ও ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্সে প্রণোদনা প্রদান এবং ব্যাংকাস্যুরেন্সের ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত সহায়তা বীমা সেবাকে সহজলভ্য করতে পারে। পাশাপাশি মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রম শুধু লাইসেন্সপ্রাপ্ত বীমা কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনার সুযোগ দেয়া হলে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য বীমাসেবা আরো বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। আমরা মাইক্রো-ইন্স্যুরেন্সের আওতায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে বীমাসেবার অন্তর্ভুক্ত করতে পেরেছি।

ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে আরো দ্রুত ও কার্যকর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাজেটে যদি বীমা খাতের জন্য করহার যৌক্তিকীকরণ, ডিজিটাল প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ এবং নতুন পণ্যের দ্রুত অনুমোদনের মতো বাস্তবমুখী নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হয়, তবে এ খাতের প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে।