এই উচ্চ করহারের কারণে নিট মুনাফা কমে যায়। এ করহার অন্তত ২ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ কমানোর দাবি জানাচ্ছি।
এছাড়া বর্তমানে ব্যাংক কোনো এনবিএফআইকে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিচ্ছে না, যা আগে নিয়মিত দিত। ফলে তারল্য ব্যবস্থাপনায় কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তারল্য সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে পারে। যা এ সেক্টরের তারল্য পরিস্থিতিকে সহনীয় করে তুলবে।
ব্যাংকগুলো কারেন্ট বা সেভিংস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে খুব কম খরচে টাকা সংগ্রহ করে, যা এনবিএফআইগুলোর জন্য সম্ভব নয়। এ সমস্যা সমাধানে সরকারি বা আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বৃত্ত তহবিলের একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১০-১৫ শতাংশ) বাধ্যতামূলকভাবে এনবিএফআইতে রাখার বিধান করা যেতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারি বা বেসরকারি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করা উচিত। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মন্দ ঋণগুলো এ কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেবে। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূলধন আটকে থাকবে না এবং তারা স্বাভাবিক ব্যবসা করতে পারবে।
বাজেটে যদি এনবিএফআইতে রাখা আমানতের মুনাফার ওপর কর কমানো হয় বা একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত মুনাফা করমুক্ত ঘোষণা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ আবার এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এনবিএফআইগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ আসে হাউজিং লোন বা আবাসন ঋণ থেকে। এ খাতের জন্য আগের মতো ৯ শতাংশ সুদে দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ তহবিলে জোগানের ব্যবস্থা করা দরকার।
ব্যাংকের মতো কলমানি মার্কেটে এনবিএফআইগুলোর অংশগ্রহণ আরো সহজ ও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
এনবিএফআইগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের জন্য জিরো কুপন বন্ড বা পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যু করে বাজার থেকে টাকা তোলার প্রক্রিয়া সহজ করে দেয়া যেতে পারে। জিরো কুপন বন্ডের ওপর ট্যাক্স সুবিধা দিলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এনবিএফআইয়ের বন্ডে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হবে।










