এছাড়া জাতীয় জিডিপির প্রায় ১২-১৪ শতাংশ অবদান এ খাত থেকে আসে, যা এটিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত করেছে। সরকার ভ্যাট, রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি, এআইটি ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করে থাকে।
তবে এ সম্ভাবনাময় খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রথমত, উচ্চ নির্মাণ ব্যয়—বিশেষ করে রড, সিমেন্ট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার এবং গৃহঋণ প্রাপ্তির জটিলতা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃতীয়ত, জমির অপ্রতুলতা এবং নগর পরিকল্পনার দুর্বলতা আবাসন উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সৃষ্টি করছে। এছাড়া নিবন্ধন খরচ ও কর কাঠামো তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে লেনদেন নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
এ সংকট উত্তরণে বাজেটে কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। প্রথমত, নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর ও শুল্ক কমানো হলে প্রকল্প ব্যয় হ্রাস পাবে এবং ফ্ল্যাটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে। দ্বিতীয়ত, গৃহঋণের সুদের হার কমানো ও সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা চালু করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনলে লেনদেন বাড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
একই সঙ্গে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। গ্রিন বিল্ডিং ও পরিকল্পিত নগরায়ণে কর রেয়াত প্রদান করলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
রিয়েল এস্টেট খাতকে সহায়ক নীতি ও প্রণোদনা প্রদান করা হলে এটি শুধু আবাসন সমস্যা সমাধানেই নয়, বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে আরো বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি বাস্তবমুখী ও বিনিয়োগবান্ধব বাজেটই পারে এ খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।










