দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক বাজারে মেমোরি ও বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সরাসরি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়াচ্ছে, যার ফলে ডিভাইসের বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তা চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং বাজারের প্রবৃদ্ধি মন্থর করছে। তৃতীয়ত, স্থানীয় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো এখনো পুরোপুরি সহায়ক নয় এবং বিক্রয় ও বিপণন পর্যায়ে সরকার আরোপিত ভ্যাট স্মার্টফোনের দাম গ্রাহকের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে।
এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। প্রথমত, স্থানীয় উৎপাদন ও অ্যাসেম্বলি শিল্পকে উৎসাহিত করতে কাঁচামাল ও কম্পোনেন্ট আমদানিতে শুল্ক সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। বিক্রয় ও বিপণন পর্যায়ের ভ্যাট সহজ ও সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক মূল্য অস্থিরতার প্রভাব কমাতে নীতিগত সহায়তা ও কর-সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে, যাতে কোম্পানিগুলো মূল্য স্থিতিশীল রাখতে পারে। তৃতীয়ত, নিয়মবহির্ভূত আমদানি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিং ও কঠোর আইন বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এছাড়া, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ট্যাক্স ইনসেনটিভ এবং সহজ অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
দেশে এখনো বিপুলসংখ্যক ফিচার ফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন, যাদের স্মার্টফোনে রূপান্তরের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে।
সর্বোপরি, বাজেটে যদি উৎপাদনবান্ধব নীতি, যৌক্তিক কর কাঠামো এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবে এ খাতের প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে।










