বীমা খাত থেকে সরকার ভ্যাট, করপোরেট কর এবং স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ বছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জন করে।
বীমা খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আস্থার সংকট। বিশেষ করে লাইফ বীমা খাতে কিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্বল সুশাসনের কারণে সামগ্রিক খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোটর বীমার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে বীমা ছাড়া যানবাহন সড়কে চলাচল করছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে মোটর বীমাকে ঐচ্ছিক করার ফলে বীমা খাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি সরকারও প্রতি বছর প্রায় ৮০০ কোটির বেশি সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে। আগের মতো মোটর বীমা বাধ্যতামূলক করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।
বিদেশে পুনঃবীমার প্রিমিয়াম পাঠাতে ডবল ভ্যাট চার্জসংক্রান্ত অস্পষ্টতা আসন্ন বাজেটে দূর করা প্রায়জন। কৃষি বামা, গবাদিপশু বীমা, শস্য বীমা, স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়ামের ওপর ভ্যাট রহিত করণসহ উপযুক্ত নীতি সহায়তা প্রদান করলে এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে।
সর্বোপরি জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বীমা খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো অনেকাংশে দূর হবে। ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বীমা খাত ব্যাংক খাতের মতোই একটি শক্তিশালী আর্থিক খাতে পরিণত হতে পারে। তখন এ খাত কেবল নিজেই বিকশিত হবে না, বরং দেশের রাজস্ব বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।










