একই সঙ্গে টাইলসসহ সিরামিক খাত থেকে সরকার প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে।

তবে এ সম্ভাবনাময় শিল্প বর্তমানে কিছু মৌলিক সংকটের মুখোমুখি। প্রথমত, গ্যাস ও বিদ্যুতের অপ্রতুলতা এবং উচ্চমূল্য উৎপাদন ব্যয়কে অস্থিতিশীল করে তুলছে। দ্বিতীয়ত, কাঁচামালের ওপর উচ্চ আমদানিনির্ভরতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বল ক্লে, ফেল্ডস্পার ও কোয়ার্টজের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। বিশেষ করে ইলাস্টিক বা বল ক্লে উচ্চ আর্দ্রতাসহ আমদানি করা হলেও শুল্ক ও কর নির্ধারণ করা হয় মোট ওজনের ওপর। বাস্তবে উৎপাদনের আগে এ আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় কার্যকর কাঁচামালের পরিমাণ কমে যায়, ফলে উৎপাদন খরচ অযৌক্তিকভাবে বাড়ে। তৃতীয়ত, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয়ের অস্থিরতা এবং বন্দর ও লজিস্টিক জটিলতা ব্যবসার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এ সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে কিছু পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে ময়েশ্চার-অ্যাডজাস্টেড বা কার্যকর ওজনের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক দক্ষতা বাড়িয়ে আমদানি সময়-খরচ কমানো যাবে। এছাড়া কিছু নীতিগত সহায়তা এ খাতকে আরো গতিশীল করতে পারে। যেমন ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়া দ্রুততর করা, ডাবল ট্যাক্সেশন কমানো ও শিল্প ঋণের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। নতুন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর ছাড় প্রদান করলে উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি টাইলস রফতানিতে প্রণোদনা প্রদান করলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।