বিশেষত, কৃষিভিত্তিক শিল্পগুলোর মধ্যে পোলট্রি, মাছ, গবাদিপশু ও খাদ্য শিল্প বর্তমানে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠেছে। পোলট্রি, মাছ ও গবাদিপশুর উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মানসম্মত ফিড অপরিহার্য। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ফিড শিল্প শক্তিশালী হলে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতও দ্রুত এগিয়ে যায়। তাই আসন্ন বাজেটে এ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য কিছু বাস্তবমুখী নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

আমাদের অভিজ্ঞতায় এ শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কাঁচামালের বাজারদরে অস্থিরতা। ফিড উৎপাদনের প্রধান উপাদান যেমন ভুট্টা, সয়াবিন মিল, গম ও অন্যান্য উপকরণের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে খামার পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং অনেক ছোট ও মাঝারি খামার আর্থিক চাপে পড়ছে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, সহজ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তাও উৎপাদন ব্যাহত করে। একই সঙ্গে কর কাঠামোর কিছু অসামঞ্জস্য ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেক সময় ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহারও খাতটির টেকসই উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সংকটগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য বাজেটে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা এগ্রো ফিড শিল্পকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের একটি কৌশলগত সহায়ক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে নীতিগত সহায়তা দেয়া। এতে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, তেমনি খাদ্য উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী নীতিগত পদক্ষেপ নেয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

Agriculture-Outline-Final