এ অবস্থায় কর ও শুল্ক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করে জ্বালানির মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্যনির্ধারণ করা গেলে এয়ারলাইনসগুলো স্বস্তি পাবে এবং যাত্রীদের জন্য টিকিটও সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।

বর্তমানে উচ্চ জ্বালানি মূল্য দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মতো সংস্থাগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে। জ্বালানির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে এ খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

পরিচালন ব্যয় কমানোও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিমান লিজ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমা খাতে ব্যয় কমাতে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। সরকার যদি এ খাতে প্রণোদনা দেয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে, তাহলে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো আরো শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে।

অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া এভিয়েশন খাতের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। আধুনিক বিমানবন্দর, উন্নত কার্গো হ্যান্ডলিং ও দক্ষ গ্রাউন্ড সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। পাইলট, প্রকৌশলী ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে হবে।

নীতিগত সংস্কার এ খাতের উন্নয়নের কেন্দ্রে রয়েছে। কর কাঠামো সহজীকরণ, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো ও বেসরকারি খাতে সমান সুযোগ সৃষ্টি—এসব পদক্ষেপ খাতটিকে গতিশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

সমন্বিতভাবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে এভিয়েশন খাত শুধু বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাবে না, বরং এটি দেশের অর্থনীতির এক শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত হবে।