সদ্য নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যেখানে অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের বিস্তারের মতো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাসহ বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে।
এ অবস্থায় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, কারণ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়লে তা অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ধারাবাহিক ও মানসম্মত জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, এখন উদ্বেগের একটি প্রধান ক্ষেত্র। শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাংক খাতে কার্যকর সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার শক্তিশালী ভূমিকা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে এসব সংস্কারের গুরুত্ব আরো বেড়েছে। উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে রফতানি খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে উঠবে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় টেকসইতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি প্রায় ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে হলে করের আওতা বাড়ানো, কর ফাঁকি কমানো এবং কর ব্যবস্থাকে আরো ডিজিটাল করা জরুরি। একই সঙ্গে করপোরেট রিপোর্টিংয়ে স্বচ্ছতা বাড়ানো রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর করবে।










