সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ব্যয় কাঠামোকে প্রভাবিত করেছে। ফলে অ-আবশ্যিক খাতে, বিশেষ করে লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন পণ্যে ব্যয় করার প্রবণতা কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিক্রয়ের ওপর। আর ভ্যাটের হার বাড়ায় ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব প্রতিফলিত হচ্ছে পণ্যের দামে। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এ ধরনের পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকছেন। এতে একদিকে চাহিদা কমছে, অন্যদিকে বিক্রয় ও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংকটগুলো কাটিয়ে উঠতে একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, দেশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যথাযথভাবে ভ্যাট সংগ্রহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই ভ্যাট প্রদানে বৈষম্য দেখা যায়, যা নিয়মিত করদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
আর দ্বিতীয়ত, সরকার যদি ভ্যাটের হার যৌক্তিকভাবে কমায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম কমাতে পারবেন। এতে বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং তারা উৎসাহিতও হবেন। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিক্রয় বৃদ্ধি এবং রাজস্ব প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
সেবা ও ভোগ্যপণ্য খাতের উন্নয়নে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, যেমন সহজ কর কাঠামো, ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই সঙ্গে ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে মানসম্মত পণ্য, সাশ্রয়ী মূল্য এবং আকর্ষণীয় অফার নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং কর কাঠামোয় ভারসাম্য আনার মাধ্যমে লাইফস্টাইল খাত গতিশীল হয়ে উঠতে পারে। সঠিক নীতিগত সহায়তা ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়া গেলে এ খাতের বিকাশের পাশাপাশি সামগ্রিক রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।










