স্বাধীনতার ৫০
বছর
পেরিয়ে
এক
গৌরবোজ্জ্বল
ইতিহাসের
দ্বারপ্রান্তে
আজ
বাংলাদেশ।
মহান
মুক্তিযুদ্ধের
মাধ্যমে
১৯৭১
সালের
১৬
ডিসেম্বর
দখলদার
পাকিস্তানি
বাহিনীকে
পরাজিত
করে
বিশ্বমানচিত্রে
জায়গা
করে
নেয়া
বাংলাদেশ
এরই
মধ্যে
আর্থসামাজিক
উন্নয়নে
অনেক
ঈর্ষণীয়
সফলতা
অর্জন
করেছে।
কিন্তু
স্বাধীনতার
অব্যবহিত
পর
বাংলাদেশের
আর্থসামাজিক
অবস্থা
ছিল
খুবই
শোচনীয়।
বিশ্বের
অন্যতম
ঘনবসতির
এতদঞ্চলে
জনসংখ্যা
বৃদ্ধির
হার
ছিল
প্রায়
৩
শতাংশ।
প্রায়
এক
কোটিরও
বেশি
মানুষ
গৃহহারা
হয়ে
উদ্বাস্তু
হিসেবে
আশ্রয়
নেয়
প্রতিবেশী
দেশ
ভারতে।
দখলদার
বাহিনী
পরাজয়
আঁচ
করতে
পেরে
তাদের
স্থানীয়
দোসরদের
সহায়তায়
এদেশের
ব্যবসায়ী,
বুদ্ধিজীবী,
উদ্যোক্তা,
প্রশাসকসহ
লাখ
লাখ
মানুষকে
হত্যা
করে।
তাদের
এ
পোড়ামাটি
নীতির
অন্যতম
লক্ষ্য
ছিল
যাতে
স্বাধীনতা
অর্জন
করলেও
এদেশ
মাথা
উঁচু
করে
দাঁড়াতে
না
পারে।
পাকিস্তান
সরকারের
শাসন-শোষণ
এবং
হত্যাযজ্ঞের
কারণে
স্বাধীনতার
পর
এদেশের
জনগণ
অবর্ণনীয়
দুঃখ-দুর্দশায়
পতিত
হয়।
বৈদেশিক
মুদ্রার
নামমাত্র
রিজার্ভের
কারণে
এদেশের
স্থানীয়
মুদ্রা
টাকা
বিনিময়
মূল্য
হারাতে
থাকে।
মূল্যস্ফীতি
হার
প্রায়
৪০০
শতাংশ
অতিক্রম
করে।
দেশের
অনেক
অঞ্চলে
দুর্ভিক্ষ
দেখা
দেয়
এবং
অনেক
মানুষ
খাদ্য,
বস্ত্র
ও
চিকিৎসার
অভাবে
মৃত্যুবরণ
করে।
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র
এবং
বিশ্বব্যাংকের
নেতৃত্বে
২৬
জাতির
‘বাংলাদেশ
সহায়তা
গ্রুপ’
প্রতিষ্ঠিত
হয়।
বলাবাহুল্য,
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র
এদেশকে
সে
সময়
তলাবিহীন
ঝুড়ি
বা
‘বাস্কেট
কেস’
আখ্যা
দেয়।
এ
রকম
দুর্বিষহ
অবস্থার
এক
অর্থনীতি
থেকে
ঘুরে
দাঁড়ানো
মোটেই
সহজসাধ্য
কাজ
ছিল
না।
কিন্তু
বাংলাদেশ
যে
শুধু
সেই
অসাধ্য
সাধন
করেছে
তা-ই
নয়,
জাতীয়
উৎপাদন,
শিক্ষা,
স্বাস্থ্য
ও
মানব
উন্নয়ন
সূচক,
মাথাপিছু
আয়,
দারিদ্র্য
বিমোচন
ও
গড়
আয়ু
বৃদ্ধিতে
বাংলাদেশ
আজ
অনেক
দেশের
কাছেই
উদাহরণ
হিসেবে
পরিগণিত
হচ্ছে।
স্বাধীনতার অব্যবহিত
পর
বাংলাদেশের
ব্যাংক
খাতের
অবস্থাও
ছিল
তথৈবচ।
১৯৭১
সালে
বাংলাদেশের
ব্যাংকিং
বলতে
ছিল
তত্কালীন
পাকিস্তানের
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
তথা
স্টেট
ব্যাংক
অব
পাকিস্তানের
দুটি
শাখা
অফিস
যার
দায়
এবং
পরিসম্পদ
নিয়ে
পরবর্তী
সময়ে
বাংলাদেশের
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
বা
বাংলাদেশ
ব্যাংক
নামে
যাত্রা
করে।
সে
সময়
এতদঞ্চলে
১৭টি
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
কাজ
করলেও
তাদের
অধিকাংশই
ছিল
পাকিস্তানিদের
মালিকানায়।
কয়েকটি
ছোট
ছোট
আঞ্চলিক
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
থাকলেও
তাদের
ব্যবসার
গণ্ডি
ছিল
মূলত
শহরকেন্দ্রিক।
সদ্য
স্বাধীন
বাংলাদেশের
সরকার
বাংলাদেশে
অবস্থিত
ব্যাংকিং
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
বিভিন্ন
নামে
পুনর্গঠনের
পর
জাতীয়করণ
করে।
তত্কালীন
সরকার
ব্যাংকিং
ব্যবস্থাকে
পুনর্গঠনের
পাশাপাশি
ব্যাংকবহির্ভূত
অন্যান্য
আর্থিক
প্রতিষ্ঠান
যেমন—বীমা
কোম্পানি,
বহুমুখী
ঋণদানকারী
প্রতিষ্ঠান
ইত্যাদি
পুনঃপ্রতিষ্ঠায়
মনোযোগী
হয়।
স্বাধীনতার পরপর
বাংলাদেশের
সরকার
সত্তরের
দশকের
শেষে
এবং
আশির
দশকের
শুরু
থেকেই
কৃষি
উন্নয়ন
এবং
বেসরকারি
শিল্প
উদ্যোগকে
ত্বরান্বিত
করার
লক্ষ্যে
সরকারি
ও
বেসরকারি
খাতের
সমন্বিত
উদ্যোগ
এবং
সহযোগিতার
কথা
ভাবতে
থাকে।
কৃষিপ্রধান
অর্থনীতির
এদেশে
১৯৭৩
সালে
প্রতিষ্ঠিত
বাংলাদেশ
কৃষি
ব্যাংক
কৃষক
ও
জেলেদের
ঋণদান
কার্যক্রমে
অভূতপূর্ব
সাফল্য
দেখায়।
সরকারের
বিজাতীয়করণ
এবং
বেসরকারি
শিল্প
উদ্যোগে
সহায়তার
নীতির
ফলস্বরূপ
শহর-গ্রামগঞ্জে
ব্যাংক
ও
আর্থিক
প্রতিষ্ঠানগুলোর
শাখা-উপশাখা
বাড়তে
থাকে।
উদাহরণস্বরূপ,
১৯৭৭
থেকে
১৯৮৫
সালের
মধ্যে
এদেশে
তফসিলি
ব্যাংকগুলোর
শাখার
সংখ্যা
প্রায়
দ্বিগুণেরও
বেশি
হয়ে
৩
হাজার
৩০০-তে
দাঁড়ায়।
কৃষি
খাতে
১৯৭৯
অর্থবছরে
যেখানে
তফসিলি
ব্যাংকগুলোর
ঋণ-
জিডিপি
অনুপাত
ছিল
সবেমাত্র
২
শতাংশ,
তা
১৯৮৭
সালে
গিয়ে
শতকরা
১১
শতাংশে
উপনীত
হয়।
বাংলাদেশ
ব্যাংক
এবং
বিশ্বব্যাংকের
নীতি
সহায়তায়
ওই
সময়কালে
বেসরকারি
খাতে
ঋণ
প্রবাহ
১৩
শতাংশ
থেকে
বেড়ে
৫৩
শতাংশে
বৃদ্ধি
পায়।
১৯৭৬
সালে
সরকারের
একটি
বিশেষ
প্রজেক্ট
হিসেবে
গ্রামীণ
ব্যাংকের
যাত্রা
হলেও
১৯৮৩
সালে
এসে
তা
একটি
স্বতন্ত্র
ধরনের
প্রতিষ্ঠানে
রূপ
নেয়
এবং
গ্রামগঞ্জের
দরিদ্র
মানুষের
মাঝে
ঋণদান
এবং
ঋণ
আদায়ে
উল্লেখযোগ্য
সফলতা
দেখায়।
গ্রামীণ
ব্যাংকের
উল্লেখযোগ্য
দিক
হলো,
গ্রামীণ
সমাজের
মানুষকে
প্রাতিষ্ঠানিক
ঋণ
কাঠামোর
আওতায়
নিয়ে
আসা।
শুরুতে
গ্রামীণ
ব্যাংকের
গ্রাহকের
মাথাপিছু
জামানতবিহীন
ঋণ
ছিল
মাত্র
২
হাজার
টাকা,
বর্তমানে
তা
লক্ষাধিক
টাকা
এবং
ঈর্ষার
বিষয়
তাদের
ঋণ
আদায়ের
হার
প্রায়
শতভাগের
কাছাকাছি।
গ্রামীণ
ব্যাংকের
এ
ঋণদান
মডেল
বিশ্বের
অনেক
দেশেও
জনপ্রিয়তা
পেয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি
আইন
১৯৯১-এর
আওতায়
বাংলাদেশে
বর্তমানে
৬১টি
ব্যাংক
তাদের
কার্যক্রম
পরিচালনা
করছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত,
ইসলামিক,
বিশেষায়িত,
বেসরকারি
ইত্যাদি
প্রকারের
ব্যাংকগুলোকে
প্রধানত
দুই
ভাগে
ভাগ
করা
যায়
যথা—রাষ্ট্রায়ত্ত
ও
বেসরকারি
মালিকানার
বাণিজ্যিক
ব্যাংক।
সে
হিসেবে
এদেশে
বর্তমানে
ছয়টি
রাষ্ট্রায়ত্ত
এবং
বাকিগুলো
বেসরকারি
মালিকানার
বাণিজ্যিক
ব্যাংক।
এতসব
ব্যাংক
মিলিয়ে
শহর-গ্রামে
ব্যাংকগুলোর
শাখার
পরিমাণ
১৩
হাজারেরও
বেশি।
বাংলাদেশ
ব্যাংক
জাতীয়করণ
অর্ডার,
১৯৭২
অনুযায়ী
সোনালী,
রূপালী,
জনতা,
অগ্রণী,
পূবালী
ও
উত্তরা
ব্যাংকের
প্রতিষ্ঠা
হয়,
যা
কিনা
পাকিস্তান
আমলে
প্রচলিত
ব্যাংকের
ধারাবাহিকতা
মাত্র।
এদেশে
ব্যাংক
খাতে
বৈচিত্র্য
আনয়নের
লক্ষ্যে
বিজাতীয়করণ
এবং
বেসরকারীকরণ
নীতিমালার
আওতায়
দুভাবে
পুনর্গঠন
পরিচালিত
হয়।
এক.
রাষ্ট্রায়ত্ত
খাতের
ব্যাংক
বেসরকারি
খাতে
ছেড়ে
দেয়া
এবং
দুই.
নতুন
করে
ব্যাংক
কোম্পানি
প্রতিষ্ঠার
অনুমোদন
দেয়া।
প্রথমোক্ত
নীতির
আলোকে
উত্তরা
ও
পূবালী
ব্যাংক
বেসরকারি
খাতে
ছেড়ে
দেয়া
হয়।
আর
পূর্ণাঙ্গভাবে
বেসরকারি
উদ্যোগে
প্রতিষ্ঠিত
ব্যাংক
হলো
আরব
বাংলাদেশ
ব্যাংক,
যা
১৯৮২
সালে
যাত্রা
করে।
ঠিক
পরের
বছরই
ন্যাশনাল
ব্যাংক
লিমিটেড
এবং
ইসলামী
ব্যাংক
বাংলাদেশ
লিমিটেড
নামে
আরো
দুটি
বাণিজ্যিক
ব্যাংকের
প্রতিষ্ঠা
এবং
কার্যক্রম
শুরু
হয়।
১৯৮৩
সালের
শেষের
দিকেই
আরো
কিছু
ব্যাংকের
অনুমোদনের
মাধ্যমে
মূলত
বেসরকারি
খাতে
বাংলাদেশে
বাণিজ্যিক
ব্যাংকের
পথচলা
সুগম
হয়।
সেদিক
থেকে
এযাবতকালে
প্রতিষ্ঠিত
বাংলাদেশের
বেসরকারি
বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলোকে
প্রথম
প্রজন্ম,
দ্বিতীয়
প্রজন্ম
ও
তৃতীয়
প্রজন্মের
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
হিসেবে
অনেকে
আখ্যা
দিয়ে
থাকে।
সে যা-ই
হোক,
বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক
উন্নয়নের
ক্রমবিকাশ
এবং
বেসরকারি
উদ্যোগে
ব্যাংকিং
খাতের
পথচলা
একে
অপরের
সঙ্গে
অঙ্গাঙ্গীভাবে
জড়িত।
১৯৭২
সালে
বাংলাদেশের
জাতীয়
উৎপাদন
ছিল
মাত্র
৫
দশমিক
৭০
বিলিয়ন
মার্কিন
ডলার।
আজ
২০২১
সালে
এসে
এদেশের
মোট
দেশজ
উৎপাদন
প্রায়
৩৫২
দশমিক
৯১
বিলিয়ন
মার্কিন
ডলার।
ক্রয়
সক্ষমতার
সমতা
(পার্চেজিং পাওয়ার
প্যারিটি)
বিবেচনায়
বাংলাদেশের
অর্থনীতির
অবস্থান
বিশ্বে
৩১তম।
বর্তমানে
নিম্ন
মধ্যম
আয়ের
স্তর
পেরিয়ে
২০৪১
সাল
নাগাদ
বাংলাদেশ
একটি
উন্নত
অর্থনীতির
দেশে
হওয়ার
লক্ষ্যমাত্রা
নিয়ে
এগিয়ে
যাচ্ছে।
বাংলাদেশের
প্রতিটি
অর্জনের
সঙ্গে
এদেশের
ব্যাংক
খাত
ওতপ্রোতভাবে
জড়িত।
বাংলাদেশের
স্থিতিশীল
অর্থনৈতিক
উন্নতির
ধারাবাহিকতায়
তিনটি
খাত
অভূতপূর্ব
অবদান
রেখে
চলেছে।
এক.
কৃষি,
দুই.
শিল্প
এবং
তিন.
সেবা
খাত।
নিকট
অতীতে
জাতীয়
অর্থনীতিতে
কৃষি
খাতের
অবদান
ক্রমহ্রাসমান
হলেও
শিল্প
এবং
সেবা
খাতের
অবদান
উত্তরোত্তর
বাড়ছে।
সেক্ষেত্রে
দেশে
কর্মসংস্থান
তৈরি
এবং
বৈদেশিক
মুদ্রা
অর্জনে
তৈরি
পোশাক
শিল্প
এখন
মুখ্য
ভূমিকা
পালন
করছে।
অন্যান্যের
মধ্যে
আবাসন
সাব-সেক্টর,
পরিবহন,
যোগাযোগ,
বিদ্যুৎ,
সেচ,
ভোগ্যপণ্য
ইত্যাদি
শিল্পও
ক্রমবর্ধমান
প্রবৃদ্ধি
অর্জন
করে
চলেছে।
ব্যাংকিংসহ
অন্য
আর্থিক
সেবা
প্রতিষ্ঠানগুলোর
প্রবৃদ্ধিও
ধনাত্মক।
সর্বোপরি
এদেশের
দেশীয়
শিল্প,
কলকারখানা
স্থাপন,
পুনর্গঠন,
আমদানি-রফতানি
বাণিজ্য
এরূপ
অর্থনীতির
প্রতিটি
খাতে
ব্যাংক
সহায়ক
ভূমিকা
পালন
করে
যাচ্ছে।
বাংলাদেশের মতো
উন্নয়নশীল
দেশে
ব্যাংক
ব্যবস্থা
আর্থসামাজিক
উন্নয়নে
অন্যান্য
দিকেও
প্রভূত
ভূমিকা
পালন
করে
চলেছে।
প্রথমত,
আসা
যাক
মূলধন
গঠন
এবং
সঞ্চয়
প্রবণতা
বৃদ্ধির
কথায়।
দরিদ্র
দেশে
মূলধন
স্বল্পতার
কারণে
উৎপাদন
ব্যাহত
হয়।
কার্যকরী
মূলধন
না
থাকার
কারণে
দেশে
উৎপাদিত
সামগ্রীর
ক্ষেত্রে
জাতীয়
অর্থনীতির
অংশগ্রহণ
সীমিত
হয়ে
পড়ে।
আমদানীকৃত
পণ্যের
মাধ্যমে
সিংহভাগ
মূলধন
বিদেশে
চলে
যায়।
অন্যদিকে
জনগণের
খরচযোগ্য
আয়
(ডিসপোজেবল ইনকাম)
কম
হওয়ার
জন্য
মানুষ
সঞ্চয়
করতে
পারে
না।
জনগণ
কাঙ্ক্ষিত
মাত্রায়
সঞ্চয়
করতে
পারে
না
বিধায়
মূলধন
গঠনে
অবদান
রাখতে
পারে
না।
এ
রকম
রূঢ়
বাস্তবতায়
যেকোনো
দেশের
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
সেদেশের
জনগণকে
সঞ্চয়ে
উৎসাহ
প্রদান
করে।
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
বিভিন্ন
হিসাবে
আমানত
সংরক্ষণ
করে
এবং
তার
ওপর
সুদ
প্রদান
করে
এবং
জনগণকে
বর্তমান
ভোগ
থেকে
বিরত
থেকে
অথবা
বর্তমান
ভোগ
ব্যয়
কমিয়ে
ভবিষ্যতের
জন্য
সঞ্চয়ে
উদ্বুদ্ধ
করে।
বিশ্বের
অনেক
দেশের
বাণিজ্যিক
ব্যাংকের
মতো
বাংলাদেশের
বাণিজ্যিক
ব্যাংকও
এক্ষেত্রে
সফলভাবে
জাতীয়
সঞ্চয়
বৃদ্ধি
এবং
মূলধন
গঠনে
অবদান
রেখে
চলেছে।
দ্বিতীয়ত, দেশের
জনগণ
এবং
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
অন্তর্ভুক্তিমূলক
সেবার
আওতায়
নিয়ে
আসা।
অতীতে
এদেশের
মানুষের
প্রাতিষ্ঠানিক
ঋণ
প্রাপ্তির
মাত্রা
এবং
সম্ভাবনা—এ
দুই-ই
ছিল
সীমিত।
দেশীয়
মহাজন
এবং
তাদের
ঋণের
জালে
অনেক
মানুষ
তাদের
সর্বস্ব
খোয়াতো।
বিশ্বের
অনেক
দেশ
আছে
যেখানে
শতকরা
প্রায়
১০০
ভাগ
মানুষ
ব্যাংকের
মাধ্যমে
তাদের
আর্থিক
পরিষেবা
গ্রহণ
করে।
বাংলাদেশে
দুঃখজনকভাবে
ব্যাংকিং
সেবার
আওতায়
মানুষের
সংখ্যা
বেশ
কম।
দেশে
বর্তমানে
শতকরা
২৫
ভাগ
মানুষও
ব্যাংকিং
সেবার
আওতায়
আসেনি।
এ
পরিসংখ্যানটি
যেভাবে
সত্য,
ঠিক
উল্টোভাবে
বলতে
গেলে
প্রায়
২৫
ভাগ
মানুষ
এদেশে
ব্যাংকিং
সেবার
আওতায়
এসেছে,
এটিও
বেশ
আশাজাগানিয়া।
সেক্ষেত্রে
সরকারি-বেসরকারি
সব
ধরনের
ব্যাংকের
অবদান
অনস্বীকার্য।
তৃতীয়ত, এদেশের
মানুষের
জীবনমান
উন্নয়নেও
ব্যাংকের
ভূমিকা
অপরিসীম।
ব্যাংক
মানুষকে
উন্নত
জীবনের
স্বপ্ন
দেখায়
এবং
তা
বাস্তবায়নে
সহায়তা
করে।
ক্ষুদ্র
সঞ্চয়
এবং
মূলধন
দিয়ে
মানুষ
বড়
কোনো
উদ্যোগ
গ্রহণ
করতে
পারে
না।
ব্যাংক
এসব
ক্ষেত্রে
মানুষকে
বাড়ি
করা,
গাড়ি
কেনা,
নিত্যপ্রয়োজনীয়
ভোগ্যপণ্য,
বিলাসবহুল
উপকরণ
ক্রয়,
শিক্ষা
ঋণ,
চিকিৎসা
ঋণ
এবং
সহায়তা
ইত্যাদি
নানা
ক্ষেত্রে
বহুমুখী
ঋণ
দিয়ে
থাকে।
যেকোনো
দেশের
ব্যাংকিং
সেবার
মতোই
বাংলাদেশেও
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
এরূপ
সেবা
দিয়ে
জনগণের
জীবনমান
উন্নয়নে
প্রভূত
ভূমিকা
রাখছে।
চতুর্থত, ব্যাংক
মানুষের
আর্থিক
নিরাপত্তা
দেয়।
অন্যান্য
দেশের
মতো
বাংলাদেশেও
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
মানুষের
সঞ্চয়
গচ্ছিত
রেখে
যেমন
নিরাপত্তা
দেয়,
ঠিক
তেমনি
দেশে-বিদেশে
অর্থ
স্থানান্তরে,
দ্রুত
সময়ে
অর্থ
প্রেরণ,
বিনিময়ের
মাধ্যম
হিসেবে
চেক,
কার্ড
ইত্যাদি
প্রচলনের
মাধ্যমে
মানুষের
মানুষের
আর্থিক
নিরাপত্তা
সাধন
করে
চলেছে।
বাংলাদেশে ব্যাংক
খাতের
বিগত
পাঁচ
দশকের
পথচলায়
আলোচিত-সমালোচিত
অনেক
ঘটনাও
উল্লেখযোগ্য।
অন্যান্যের
মধ্যে
কু-ঋণ
বা
এনপিএল
এদেশের
ব্যাংক
খাতের
অস্থিতিশীলতার
অন্যতম
কারণ।
সরকারি
হিসাবেই
এদেশে
খেলাপি
ঋণের
পরিমাণ
শতকরা
১০
ভাগেরও
বেশি।
খেলাপি
ঋণের
আন্তর্জাতিক
মানদণ্ড
যেখানে
শতকরা
২
ভাগেরও
কম,
সেখানে
বাংলাদেশে
শতকরা
১০
ভাগেরও
ওপরে
খেলাডি
ঋণ
নিয়ে
বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলো
কীভাবে
টিকে
আছে
তা
এক
অবাক
বিস্ময়ই
বটে।
মজার
বিষয়
হলো,
অনেক
ব্যাংকের
খেলাপি
ঋণ
যেমন
বেশি,
আবার
তাদের
মুনাফার
হারও
বেশি।
সেক্ষেত্রে
নির্ঘাত
আমানতকারীরা
কিছুটা
হলেও
ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে।
নিকট
অতীতে
কি
রাষ্ট্রায়ত্ত
বা
বেসরকারি
অনেক
ব্যাংকেই
বড়
ধরনের
আর্থিক
কেলেঙ্কারির
প্রমাণ
মিলেছে।
দুর্ভাগ্যজনক
সত্যি
কথা
হচ্ছে,
এরূপ
ক্ষেত্রে
খোদ
ব্যাংকের
পরিচালক
থেকে
শুরু
করে
ব্যাংক
ব্যাবস্থাপকদেরও
সংশ্লিষ্টতা
পাওয়া
গেছে।
এসবের
পাশাপাশি
অনেক
ছোট
ব্যাংক
যারা
কিনা
বড়
এবং
পুরনো
ব্যাংকগুলোর
সঙ্গে
অসম
প্রতিযোগিতার
সম্মুখীন
হচ্ছে।
মাত্রাতিরিক্ত
প্রতিযোগিতা
এবং
ব্যবস্থাপনায়
অদক্ষতার
কারণেও
অনেক
ব্যাংক
পথে
বসার
জোগাড়।
বাংলাদেশের
ব্যাংক
খাতে
বিগত
পাঁচ
দশকের
যে
গৌরবময়
অর্জন,
তা
ধরে
রাখা
এবং
দেশের
কাঙ্ক্ষিত
আর্থসামাজিক
উন্নয়নে
ব্যাংকের
সহায়ক
ভূমিকা
নিশ্চিত
করার
লক্ষ্যে
ব্যাংক
ব্যবস্থায়
ঘুণে
ধরা
এসব
সমস্যা
আশু
সমাধান
জরুরি।
ড. শহীদুল জাহীদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষক





