১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের পর একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতি ও ভঙ্গুর অবকাঠামো নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে আর্থিক খাত পুনর্গঠনের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তার নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বীজ বপন করা হয় ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ নং ১২৭/১৯৭২ বলে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত। বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে ব্যাংক এবং অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম, লেনদেনের বিষয়গুলো তদারক ও নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া আর্থিক খাতে একটি শক্তিশালী ও সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা অর্থাৎ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) এবং ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির (ইডরা) সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বাধীনতার পর থেকে ব্যাংক খাতের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কারে বড় পরিবর্তন ও বিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাত ধরে—ধাপে ধাপে, বিভিন্ন দশকে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের আর্থিক খাত পুনর্গঠন এবং উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ‘বাংলাদেশ ব্যাংক জাতীয়করণ আদেশ ১৯৭২’-এর আওতায় ব্যাংকগুলোকে সরকারি খাতে পরিচালনার উদ্যোগের মাধ্যমে। তত্কালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাদেশ ব্যাংক খুব জোরেশোরে কৃষি ও শিল্প খাতে ঋণ প্রদান কার্যক্রমে উৎসাহ দেয়। বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক, বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক নামে তিনটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠন করে এ সময় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রয়াস নেয়া হয়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণের প্রবাহ সৃষ্টিতে স্বাধীনতার প্রথম দশকে সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশকিছু উন্নয়ন ও প্রণোদনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল।

আর্থিক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়ার কারণে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বড় পরিবর্তন আসে আশির দশকের শুরু থেকে। মূলত ১৯৮০ সালে দুটি ব্যাংককে বেসরকারি খাতে রূপান্তরিত করা হয় এবং বেসরকারি খাতে নতুন ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি প্রদানের মধ্য দিয়ে আর্থিক খাত সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। তাছাড়া আর্থিক খাত সংস্কারের প্রাথমিক পর্যায়গুলো চিহ্নিত করার লক্ষ্যে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘মানি, ব্যাংকিং ও ক্রেডিট কমিশন’ গঠন করা হয়। সংস্কারের অংশ হিসেবে ১৯৮৯ সালে ঋণ শ্রেণীবিন্যাসকরণ ও এ-সংক্রান্ত সঞ্চিতির বিধান-সংক্রান্ত নতুন নিয়ম চালু করা হয় এবং এ নিয়মের ভিত্তিতে প্রাথমিক হিসাবায়নও সম্পন্ন করা হয় ১৯৯০ সালে। সংস্কার কর্মসূচি ও বেসরকারি ব্যাংকের উপস্থিতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে শুরু করে।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর অ্যাডজাস্টমেন্ট ক্রেডিট (এফএসএসি)’ চুক্তি স্বাক্ষরের পর ব্যাপকভাবে আর্থিক খাত সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ১৯৯০ সালে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর রিফর্ম প্রজেক্ট (এফএসআরপি)’-এর আওতায় বিশদ আকারে ব্যাংক খাত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। তাছাড়া সুদহার কাঠামো ক্রমহ্রাসমান বা নিম্নমুখী করা, অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করে বাজারকেন্দ্রিক প্রণোদনা প্রদান এবং ঋণ আদায় কার্যক্রমকে আরো উন্নত ও সুসংহত করা সংস্কারের কর্মসূচির আওতাভুক্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে গৃহীত ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর রিফর্ম প্রজেক্ট (এফএসআরপি)’ কার্যক্রমের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘ব্যাংক রিফর্ম কমিটি (বিআরসি)’ গঠন করা হয়। ব্যাংকের কার্যাবলি অধিকতর সুসংহত ও শক্তিশালী করা এবং কার্যকর একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তদারকি ব্যবস্থায় জোর দেয়া, যথোপযুক্ত বিধিমালা প্রণয়ন, সংশোধন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের ওপর অধিকতর গুরুত্ব দেয়াই ছিল এ কমিটি গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য। ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর রিফর্ম প্রজেক্ট (এফএসআরপি)’-এ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ এবং ব্যাসেল-১ অনুসরণ করার বিষয়টি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।

‘বিআরসি’ ও ‘সিবিএসপি’ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে একত্র করার জন্য উল্লেখযোগ্য অনেকগুলো নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ও তদারকিমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে সে অনুযায়ী সংশোধনকৃত বিধিমালাগুলো প্রয়োগ করা হয়। ১৯৮৯ সালে অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলি তদারক করার জন্য ‘নন-ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অর্ডার’ প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলির সঙ্গে সংগতি রেখে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদে ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন অ্যাক্ট ১৯৯৩’ প্রণয়ন করা হয় এবং এর বলে বাংলাদেশ ব্যাংক অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যাবলি দেখভাল করার দায়িত্ব লাভ করে।

২০০০ সাল-পরবর্তী ব্যাংক খাতে আমরা যে সংস্কার দেখতে পাই, প্রকৃতপক্ষে সেখানে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত তদারকি বিষয়ে এফএসআরপি প্রদত্ত সুপারিশের প্রতিফলন পাওয়া যায়। ২০০৩ সালে ‘দ্য সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ট্রেনদেনিং প্রজেক্ট (সিবিএসপি)’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়, যার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংক খাতে তদারকি ও নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যকর বিধিমালা নিরূপণ করা। বিশেষত আইনি কাঠামো, অটোমেশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হয় এ প্রজেক্টের আওতায়। প্রতিযোগিতামূলক একটি বেসরকারি ব্যাংক ব্যবস্থা এবং সরকারি খাতে পরিচালিত ব্যাংকগুলোর পরিচালন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের (করপোরেটাইজেশন) মাধ্যমে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে বিশ্বব্যাংক ২০০৪ সালে ‘দ্য এন্টারপ্রাইজ গ্রোথ অ্যান্ড ব্যাংক মডার্নাইজেশন’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি মূল ব্যাংকিং ইস্যু যথা ঋণঝুঁকি, বৈদেশিক বিনিময় বা লেনদেন-সংক্রান্ত ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তিগত ঝুঁকি ও সম্পদ-দায় ব্যবস্থাপনা (অ্যাসেট লায়াবিলিটি ম্যানেজমেন্ট) সংক্রান্ত ঝুঁকি বিষয়ে পাঁচটি গাইডলাইন প্রণয়ন করে যেগুলো সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এছাড়া ব্যাংক ও অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সমন্বিত বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। প্রকৃতপক্ষে ২০০৭-০৮ সালের বিশ্বমন্দার সময় বৈশ্বিক আর্থিক খাত যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, তার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক মান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলো তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ-সম্পর্কিত বিধিমালা সংশোধনে উদ্যোগী হয় এবং সমগ্র বিশ্বের আর্থিক খাত একযোগে এসব বিধি অনুসরণ করছে বা করা শুরু করেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে অনুসরণীয় পদ্ধতি গ্রহণ এবং ব্যাংকের সম্পদের অধিকতর নিরাপত্তা, সর্বোপরি অধিকতর কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ব্যাসেল-২-এর সঙ্গে সংগতি রেখে ২০০৯ সালে ‘গাইডলাইনস অন রিস্ক বেজড ক্যাপিটাল অ্যাডেকোয়েসি ফর ব্যাংকস’ প্রণয়ন করা হয়। ব্যাসেল-৩-এর সঙ্গে সংগতি রেখে ২০১৪ সালে এটি হালনাগাদ করা হয়। ব্যাংকগুলোতে ব্যাসেল-৩ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৫ সালে একটি রোডম্যাপ প্রদান করে (যা ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হয়েছে)। এর ভিত্তিতে ২০১৯ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোর ‘ক্যাপিটাল অ্যাডেকোয়েসি’ হার ১২.৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সংগতি রেখে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে অনেক নতুন বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বিদ্যমান অনেক নীতি সংশোধনপূর্বক সময়োপযোগী করা হয়েছে।

তদারকি ও ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। বিশেষত তদারকি ব্যবস্থা এবং সেবা প্রদানের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সম্মিলন ঘটানোর যুক্তিযুক্ত প্রয়াস নেয়া হয়েছে। তদারকি ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিরাপদ ই-ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে পেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি)’ থেকে অনলাইনে যাবতীয় তথ্য অনুসন্ধান করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ অটোমোটেড ক্লিয়ারিং হাউজ (বিএসিএএইচ), বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনএফটি) ইত্যাদি আমাদের ব্যাংকিং ইতিহাসের অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গাইডলাইনও প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়সহ সব শাখা কার্যালয়ে ‘গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ সেন্টার’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে টেলিফোন, ই-মেইল ও ডাকযোগে গ্রাহকের অভিযোগ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবহিত হতে পারছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক, পরিবেশবান্ধব ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যক্রমকে মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সাল থেকে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক খাতে জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ ও গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিনির্ধারকরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছেন। আর্থিক খাতকে ব্যবহার করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ করার জন্য ‘বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইউ)’ উল্লেখযোগ্য অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গ্রাহকের অভিযোগ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিপার্টমেন্ট (এফআইসিএসডি)’ নামে একটি বিভাগ চালু করেছে। এ বিভাগের ‘ভিজিলেন্স অ্যান্ড অ্যান্টিফ্রড ডিভিশন’ দুর্নীতি প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষ অভিযানও পরিচালনা করে। উপরন্তু, গ্রাহকের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য ২০১২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং শাখা অফিসগুলোতে ‘কাস্টমার ইন্টারেস্ট প্রটেকশন সেন্টার (সিআইপিসি)’ স্থাপন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাতে ‘ন্যাশনাল ইন্টেগ্রিটি স্ট্র্যাটেজির (এনআইএস) উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য পূরণের জন্য ব্যাংক ও অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়ন করে। ব্যাংক খাতে করপোরেট গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা উন্নত করার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে পরিচালিত ব্যাংকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করার জন্য ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ টেস্ট সংক্রান্ত গাইডলাইন, অডিট কমিটি গঠনের নীতিমালা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত বিধিমালা ইত্যাদি প্রণয়ন করেছে। এছাড়া অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে করপোরেট গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা উন্নত করা এবং দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক উপযুক্ত গভর্নিং বোর্ড গঠনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাত সারা বিশ্বের মতো একটি অনন্য মাত্রার মন্দার মুখোমুখি, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনার আওতায় অর্থনীতি এবং আর্থিক খাতকে পুনরুদ্ধার ও সমৃদ্ধ করার প্রয়াসে সম্পৃক্ত।

 

ড. শাহ মো. আহসান হাবীব: অধ্যাপক, বিআইবিএম