পাকিস্তানি শাসন চক্রের বঞ্চনায় তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান ছিল বৈষম্যের শিকার ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। স্বাধীনতার আগে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প-বাণিজ্যের বিকাশ ঘটেনি। হাতেগোনা কয়েকটি শিল্প এ অঞ্চলে গড়ে ওঠে যেমন পাট, চা ও কৃষিপণ্য। বাঙালির মুক্তির প্রেরণার নেপথ্যে অনেকটাই ছিল দুই পাকিস্তানের মাঝে অর্থনৈতিক বৈষম্য। সে বৈষম্য দূর করতে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন ছয় দফা, যা পরে বাঙালির মুক্তির সনদ বা ‘ম্যাগনা কার্টা’। এরই ধারাবাহিকতায় মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর অর্থনীতিতে একটি নতুন ধারার সূচনা হয়। আর স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিল জাতির জনকের হাত ধরেই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত একটি উন্নত স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ গড়ার। সে লক্ষ্যে ১৯৫৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি এ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক দুর্দশা মোচনের চিন্তা করেছিলেন। এ লক্ষ্যে পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানে ইপিএসসিআইসি প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে বিসিক হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত গত পাঁচ দশকে বেড়েছে দেশে জিডিপির পরিমাণ ও অর্থনীতির আকার। বিভিন্ন শিল্প খাত পরিবর্তনের একটি তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, কৃষির উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প খাতে পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক, ওষুধ ও সিরামিক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, এ ছাড়া বিস্তৃত হয়েছে সেবা খাত।

স্বাধীনতা-পরবর্তী শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মোট বিনিয়োগের প্রায় ২০ শতাংশ রাখা হয়েছিল শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য। নানা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-কারখানা রাষ্ট্রায়ত্ত করে সেক্টর করপোরেশন গঠন করার ফলে সেসব সেক্টর দেশ স্বাধীনের প্রথম বছরেই ৫৬-৬২ শতাংশ অধিক উৎপাদনে সক্ষম হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু নীতি প্রণয়ন করেন, যেখানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ লাখ থেকে উন্নীত করে ৩ কোটি করা হয়। সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংক ও দুটি বীমা সংস্থা। শিক্ষা খাত ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের জন্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সত্তর দশকের শেষে এসে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি দশমিক ৭ শতাংশ হারে বাংলাদেশের জিডিপির আকার দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। যেখানে কৃষি ও সেবা খাতের অবদান কমলেও শিল্প খাত জিডিপিতে তার অবদান বাড়ায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করেই ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ। ১৯৭৬ সালের পর দেশে প্রথমবারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাইভেট ব্যাংক এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা হয়। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন প্রতিষ্ঠা ও পুঁজিবাজার চালু করা হয়। কৃষি শিল্পের উন্নয়নে ১৯৭৭ সালে জাতীয় বীজ অধ্যাদেশ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে বীজ শিল্প বিকশিত হয় এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। এ দশকে সূচনা হয় তৈরি পোশাক রফতানি শিল্পের। বর্তমানে পোশাক শিল্প দেশের প্রধানতম রফতানিমুখী ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী শিল্প এবং বিশ্বে বাংলাদেশ এ খাতে তৃতীয় বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।

আশির দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণকে উৎসাহিতকরণের মাধ্যমে দশকের শেষে এসে জিডিপির বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জিডিপির মোট আকার ছিল ৪০ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান বেড়ে গেলেও শিল্প ও সেবা খাতে কমে যায়। এ দশকে সরকার শিল্প ও সেবা বেসরকারীকরণ করে কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি শিল্প এবং সেবা খাত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। সূচনা হয় দেশের বেশ কিছু শিল্প গ্রুপের, পরবর্তী সময়ে তারাই শিল্প প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখে। রফতানিমুখী শিল্পের বিকাশে ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই সফল ইপিজেড মডেল দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রচলন করা হয়। এ সময় বেসরকারীকরণের অংশ হিসেবে ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেয়া হয় বীমা অধ্যাদেশ (সংশোধিত) ১৯৮৪-এর মাধ্যমে। এ দশকে সেবা খাতে সূচনা হয় রাষ্ট্রীয় ও প্রাইভেট মালিকানার টেলিকম সেবা। শিক্ষা খাতের জন্যও নানামুখী সংস্কার, নীতি প্রণয়ন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এ সময় আরেকটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে ওষুধ শিল্পে, ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের ফলে সূচনা হয় দেশীয় ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের। বাংলাদেশ এখন শুধু দেশীয় বাজারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা নয়, বিদেশেও ওষুধ রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। পাশাপাশি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বিকশিত হয়, যা বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি সক্ষম হয়ে উঠেছে। সরকারের নানামুখী সহায়তায় এ দশকে দেশীয় অনেক কসমেটিক পণ্যের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

নব্বইয়ের দশকে বিশ্বব্যাপী মুক্তবাজার অর্থনীতির ব্যাপক প্রসার ঘটে। বিশ্বায়নের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তবাজার অর্থনীতির ফলে অনেক বহুজাতিক কোম্পানি তাদের সেবা ও শিল্পের প্রসার ঘটাতে থাকে। পাশাপাশি এলডিসিভুক্ত দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার শুল্ক সুবিধা, দাতা দেশগুলো থেকে সহজ শর্তে ঋণ, ওষুধ শিল্পে প্যাটেন্ট সুবিধাসহ নানামুখী সুবিধার মাধ্যমে দেশের শ্রমনির্ভর শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়। ফলে দশকের শেষে এসে দেখা যায়, জিডিপির বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং মোট আকার ৬৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। শিল্প বিকাশের ফলে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কমে গিয়ে ২৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়, শিল্প খাত অবদান বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছে, সেবা খাত অবদান বাড়ায় ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশে। এ সময় সরকার আর্থিক খাতের উদারীকরণের আওতায় আর্থিক খাত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে, যেমন সুদের হার নমনীয়, মূলধন পর্যাপ্ততা বৃদ্ধি, পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী, আর্থিক খাতে নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান এবং পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নতি ও বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠাকরণ। ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয় দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠান। রফতানি শিল্পের বিকাশের জন্য ঢাকায় দেশের দ্বিতীয় রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়। নব্বই দশকে টেলিকম পলিসি প্রণয়নের মাধ্যমে টেলিকম সেবা খাতের উদারীকরণ হয় এবং যোগাযোগ খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। শিল্পের উন্নয়নে এনার্জিতেও আসে বড় ধরনের পরিবর্তন, তেল ও হাইড্রো ইলেকট্রিকের পরিবর্তে প্রাধান্য পায় প্রাকৃতিক গ্যাস। শিল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হতে থাকে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। দেশের ঐতিহ্যবাহী চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের শিল্প ওয়েট ব্লু উৎপাদনের সীমিত পরিসর পেরিয়ে ক্র্যাশড ও ফিনিশড লেদার, জুতা, ব্যাগ ও অন্যান্য চামড়াজাত পণ্যের রফতানিতে বৈচিত্র্য আনে। বর্তমানে এ খাত তৃতীয় বৃহৎ রফতানিকারক খাত। অর্থনীতির প্রসার ও সহজলভ্য কাঁচামালপ্রাপ্তির ফলে বিকশিত হয় প্লাস্টিক শিল্প। তবে মুক্তবাজারে টিকতে না পেরে সমস্যায় জর্জরিত হয় কসমেটিকস শিল্প।

একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই চলতে থাকে মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারা। বড় পরিবর্তন আসে জিডিপিতে, বার্ষিক ৫ শতাংশ গড় প্রবৃদ্ধি নিয়ে দশকের শেষে জিডিপির আকার ছিল ১১৫ বিলিয়ন ডলার। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান অনেক কমে গিয়ে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। শিল্প ও সেবা খাতের অবদান দাঁড়ায় যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৯ এবং ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশে। ভৌত অবকাঠামো স্থাপন, বিশেষ করে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ দশকে খুবই গুরুত্ব দেয়া হয়। পাশাপাশি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনেক সড়ক নির্মাণ করা হয়। এ দশকে টেলিকম সেবা খাতের ব্যাপক প্রসার হয়, বেশ কয়েকটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ খাত বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। আজ যে ইন্টারনেটভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে তার সূচনা কিন্তু এ দশকেই। এছাড়া হোম টেক্সটাইল আরেকটি রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে বিকশিত হয়। সিরামিক শিল্পেও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিনিয়োগ হয়, যা এ শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। রফতানির ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী নীতি গৃহীত হয় এবং আরো পাঁচটি নতুন রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে ওঠে এবং স্থানীয় কাঁচামালনির্ভর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ শিল্পের বিকাশ হয়।

উল্লেখ্য, দেশের অর্থনীতির প্রাণ এমএসএমই খাত দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত হিসেবে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে সংযুক্ত হয়ে ৮০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এমএসএমই খাত অর্থনৈতিকভাবে অনেক তাত্পর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ দেশের প্রথম এসএমই নীতি এ দশকেই প্রণীত হয়।

২০১০ সাল পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে একটি অন্যতম সফল অধ্যায়। যেখানে জিডিপির আকার হয়েছে ৩৩০ বিলিয়ন ডলার। ২০২০ সাল নাগাদ এবং ২০১৯ সালে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ রেকর্ডসংখ্যক জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। এ দশকে কৃষি উৎপাদন বাড়লেও শিল্প ও সেবা খাতের অধিকতর উন্নয়নের ফলে জিডিপিতে অবদান কমেছে কৃষির। ২০২০ সালে এসে জিডিপিতে কৃষির অবদান দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৬৫ শতাংশ, শিল্পের ২৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং সেবা খাতের ৫৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে অবকাঠামো, বৈদেশিক বাণিজ্য, ব্যবসা, পরিবহন, টেলিকম, আর্থিক সেবা, পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা। এ দশকে রফতানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য বেপজার পাশাপাশি বেজা প্রতিষ্ঠা করা হয়। অবকাঠামো উন্নয়নেও একটি নবদিগন্তের সূচনা হয়েছে। অনেক মেগা প্রকল্প যেমন পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মাধ্যমে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল অবকাঠামো হিসেবে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ৩০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ৩২টি হাইটেক পার্ক আইসিটি ও সেবা খাতের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেবা খাতের সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয় এ দশকে। ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় দেশ আইসিটিতে অনেক উন্নতি লাভ করেছে, যা তৃতীয় ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রযুক্তি বাস্তবায়নে দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরো ত্বরান্বিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের বিকশিত শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশ সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। ক্রমাগত আমাদের শিল্প ও সেবা খাত প্রসারিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, গত অর্থবছরের রফতানি আয়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অপ্রচলিত শিল্পের পণ্য রফতানিও অনেকাংশে বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি আমদানি যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে রফতানিমুখী হওয়ার লক্ষ্যমাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্পোন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অথনৈতিক উন্নয়ন ছিল এ দেশের স্বাধীনতার অন্যতম লক্ষ্য। আর সে ভাবনা থেকেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ আজ অগ্রসরমাণ। সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণে ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উত্তরণের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশের শিল্প ও সেবা খাত।

 

রিজওয়ান রাহমান: সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)