১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করা মোহাম্মদ আজমান মিয়া আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত টমি মিয়া নামে। মাত্র ১০ বছর বয়সে মৌলভীবাজার ছেড়ে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। রন্ধনশিল্পে ক্যারিয়ার শুরু করে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। এডিনবার্গের পুরস্কারপ্রাপ্ত রাজ রেস্টুরেন্ট ও ‘দি অরিজিনাল রাজ হোটেল’-এর স্বত্বাধিকারী তিনি। প্রতিষ্ঠা করেছেন বহুল পরিচিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান শেফ অব দ্য ইয়ার কম্পিটিশন’। অধিকাংশ সময় তাকে ব্রিটেনের ‘কারি কিং’ হিসেবে পরিচিত করিয়ে দেয়া হয়। ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশী খাদ্যাভ্যাসের সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেয়া প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করছেন তিনি। রান্না করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের জন্যও। নিজের অভিজ্ঞতাকে ছড়িয়ে দিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন দ্য টমি মিয়া’স হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট। রান্নার বাইরেও বাংলাদেশে ও যুক্তরাজ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি সরাসরি যুক্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল ইসলাম
মৌলভীবাজার
থেকে অল্প
বয়সেই যুক্তরাজ্যে
পা রেখেছিলেন।
সে যাত্রা
স্মৃতি মনে
আছে কি?
মৌলভীবাজার থেকে ১০ বছর বয়সে বাবা-মার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে এসেছিলাম এবং ইংরেজিতে অল্প শিক্ষা নিয়েই ছাত্রাবস্থায় কর্মজীবন শুরু করি।
কখন
সিদ্ধান্ত নিলেন
যে আপনি
রন্ধনশিল্পী হবেন?
যুক্তরাজ্যের একটি রেস্তোরাঁয় থালাবাসন ধোয়ার কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু হয় এবং তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম যে রান্নাকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেব, এ থেকেই আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
আপনার
ক্যারিয়ারের শুরুর
গল্পটা জানতে
চাই।
খাবার ও রান্নার প্রতি আগ্রহ থেকেই ক্যাটারিং শিল্পে কাজ শুরু করি। ১৭ বছর বয়সে নিজস্ব ছোট একটি টেক আউট রেস্তোরাঁ শুরু করেছিলাম এবং বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসায় সাফল্যের দেখা পাই।
আপনার
‘কারি কিং’
হয়ে ওঠার
রহস্য কি?
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের জন্য রান্না করতে হয়েছিল এবং ব্রিটেনে তখন ডাউনিং স্ট্রিটে কারি কিং হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি।
যুক্তরাজ্যে
কারি ইন্ডাস্ট্রিতে
বাংলাদেশীদের ভূমিকা
কেমন?
যুক্তরাজ্যে কারি ইন্ডাস্ট্রিতে সেরা রন্ধনশীল্পি হিসেবে যখন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছি, তখন থেকেই বিভিন্ন সুস্বাদু রান্না জনপ্রিয়তা পায় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছি। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ও ভারতীয় রান্নার উদ্ভাবন গুণমানকে উন্নতি করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে টমি মিয়াস শেফ অব দ্য ইয়ার প্রতিষ্ঠা করি, যা এখন আরো অনেকেই এটা করে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে
বাংলাদেশী কমিউনিটির
জন্য কিংবা
বাংলাদেশে সামনে
কিছু করার
পরিকল্পনা আছে
কি?
যুক্তরাজ্যেসহ পুরো পৃথিবীতে গ্লোবাল ফেস্টিভ্যাল শুরু করেছি, যেখানে বাংলাদেশী কমিউনিটি রিপ্রেজেন্ট হবে। এছাড়া বাংলাদেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে টমি মিয়া’স হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছি এবং ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় তা প্রতিষ্ঠা করা।






