১৯৫৬ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের সিরাজনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ইকবাল আহমেদ। বাংলাদেশ ছেড়ে যখন যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তখন তার বয়স মাত্র ১৫। একাত্তরের সেই নৃশংসতার সময়ই অক্টোবরে অনেকটা পালিয়ে মা, দুই ভাই ও বোনকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান ইকবাল। তখন ইকবাল আহমেদের বাবা ওল্ডহ্যামে বসবাস করতেন, সেখানে একটি বাড়িও কিনেছিলেন। সেই শুরু তার প্রবাসজীবন। তবে শুরুতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে ইকবালকে। সেখানকার আইন অনুযায়ী বয়স ১৫ হয়ে গেলে তাকে আর বিনামূল্যে স্কুলে পড়ার সুযোগ দেয়া হবে না। তখন ইকবালের বয়স সাড়ে ১৫। ফলে তার বাবার পক্ষে তাকে সাধারণ কোনো স্কুলে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। কারণ সেই খরচ বহন করা বাবার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাছাড়া ইংরেজি শেখার জন্য তখন ভাষা প্রশিক্ষণেরও দরকার ছিল ইকবালের। ফলে সব মিলিয়ে বাংলাদেশের স্কুলে শেখা সামান্য কিছু ইংরেজিই ছিল তার পুঁজি। সেই অবস্থা থেকে তাকে টেনে তোলেন তারই এক চাচা। তিনি ইকবালকে লন্ডনে পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, এখানে রাতের স্কুল রয়েছে। সেখানে সে ইংরেজিও শিখতে পারবে।
ইকবাল আহমেদ ব্যবসায়ী জীবনের শুরুটা করেছিলেন ওল্ডহ্যামের একটি ছোট্ট মুদি দোকান থেকে। সত্তরের দশকে এই পারিবারিক ব্যবসায় প্রথম যোগ দেন ইকবাল। তার পরই তাদের খুচরা পণ্যের দোকানটি পাইকারি বিক্রির দোকান হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে তিনি জড়িত হন নানা পণ্য আমদানির ব্যবসায়। শুরু করেন আম আমদানি। সেই সময়ে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে আম আমদানি করতেন তিনি। তারপরে যখন দেখেন বাংলাদেশী, ভারতীয়, পাকিস্তানি পরিবারগুলো সেখানে এসে মাছ খেতে চায় তখন নতুন ভাবনার উদয় হয় ইকবাল আহমেদের মাথায়। বুঝতে পারেন মাছেও রয়েছে সম্ভাবনার দ্বার। আমদানির তালিকায় যুক্ত হয় মাছ। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ভারত আর কেনিয়া থেকে মাছ আমদানি শুরু করেন ইকবাল আহমেদ। ১৯৮৪ সাল থেকে তারা কনটেইনারে করে হিমায়িত চিংড়ি ও সামুদ্রিক খাবার আনতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ব্যবসার পরিসর এত বেশি বেড়ে যায় যে পুরো পরিবারসহ ইকবাল আহমেদ ইস্ট ম্যানচেস্টারে হিমাগার আছে এমন জায়গায় স্থানান্তরিত হন। তবে সেখানেও পরিবর্তন আনেন নিজের প্রচেষ্টায়। ১৯৯১ সালের দিকে ম্যানচেস্টারে নিজস্ব চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা স্থাপন করেন তিনি। স্বদেশ থেকে সামুদ্রিক টাইগার চিংড়ি যুক্তরাজ্যে আমদানি করে ইকবাল আহমেদ তার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। সেই সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টার কারণে পেয়েছেন নানান স্বীকৃতি। ক্রমাগত তিনি জড়িত হয়েছেন অনেক রকম কাজ ও সংগঠনের সঙ্গে। ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অবদানের জন্য তিনি ওবেই (অফিসার অব দ্য মোস্ট এক্সিলেন্ট অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার) নিয়োগ পান এবং ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি তাকে ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হিমায়িত সামুদ্রিক খাদ্যপণ্যের জন্য বিশেষায়িত সিমার্ক পিএলসির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী তিনি। ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে ব্ল্যাক টাইগার চিংড়ি ও বাংলাদেশের আরো অনেক খাদ্যপণ্যের পরিচয় ঘটিয়েছেন ইকবাল আহমেদ। এটিই তার পারিবারিক ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায় পরিণত করেছে। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ রফতানিকারকদের একজন ছিলেন তিনি। এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও দাতা পরিচালক, ইউকেবিসিসিআইয়ের (ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্টস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ডিপার্টমেন্টের বোর্ড অব ট্রেডের উপদেষ্টা তিনি। সেন্ট জেমস ক্লাবের সাবেক এ সদস্য বাংলাদেশের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সদস্য। রফতানির পরিমাণ অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় ১৯৯৮ সালে যুক্তরাজ্যের কুইনস অ্যাওয়ার্ডও পান ইকবাল আহমেদ। ওই সময়ে পুরো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানি করছিলেন তিনি।
ইকবাল আহমেদের স্ত্রী সালমা আহমেদ। যেকোনো বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে ভোলেন না সফল এ ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তাদের তিন সন্তান শহীদা, মঞ্জুর ও হামিদাকে নিয়ে এখন যুক্তরাজ্যে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। ইকবাল আহমেদের প্রতিষ্ঠান সিমার্ক (সি ফুড মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড) অনেক বড় আর সফল। তার সফলতার বেশির ভাগই এসেছে এ প্রতিষ্ঠান থেকে। বিশ্বজুড়ে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মী চার হাজারের বেশি। এসবের পাশাপাশি ইকবাল আহমেদ তার জীবনের নানা পর্বের গল্প শুনিয়েছেন বণিক বার্তার পাঠকদের জন্য। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শানজিদ অর্ণব।
ওবিই
অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন
আপনি? সেটা
প্রিন্স চার্লসের
কাছ থেকে
নিয়েছেন। সেই
স্মৃতিটাই আমি
আপনার কাছে
আরেকবার শুনতে
চাই।
প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ১৯৯৩ সালে। সেবার আর্লস কোর্ট লন্ডনে একটা ফুড এক্সিবিশন হয়, ওই বছরে প্রিন্স চার্লস ছিলেন চিফ গেস্ট। আমি তখন ব্রিটিশ ফ্রোজেন ফুড ফেডারেশনের সক্রিয় সদস্য ছিলাম। তখন একটা নতুন ফ্যাক্টরি খুলি এ দেশে। ব্রিটিশ ফ্রোজেন ফুড ফেডারেশন আমার নাম রেকমেন্ড করল। তারা আমাকে জানাল যে প্রিন্স চার্লস আমার স্টলে আসবেন। তখন আমি বাংলাদেশ থেকে গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি নিয়ে এখানে প্রমোট করা শুরু করেছি। প্রক্রিয়াজাত করে আমার ফ্যাক্টরিতে সেটাতে ভ্যালু অ্যাডিশন করি। প্রিন্স চার্লস পরিদর্শন করার জন্য কয়েকটা স্টল নির্ধারণ করেছেন, তার মধ্যে আমারটা পড়েছে। আমাকে ডিরেক্টর জেনারেল বললেন আপনার স্টলে উনি আসবেন। শুনে তো আমার খুবই ভালো লাগল। তাকেও খুব ভালো লাগল। খুবই মাই ডিয়ার পারসন প্রিন্স চার্লস। তিনি খুব ভালো মানুষ। তারপর যখন তিনি রাজা হলেন তখন তো আমার খুশির শেষ নেই। যিনি এখন রাজা তার সঙ্গে আমার ত্রিশ বছর আগেই পরিচয়। শুধু তিনিই নন, তার বোন রয়েল প্রিন্সেস অ্যান। বাংলাদেশে ডেভিড কার্টার যখন হাইকমিশনার ছিলেন, তখন আমার চিটাগাং ফ্যাক্টরি উনার মাধ্যমে স্থাপন করি। যেহেতু এটা ব্রিটিশ ইনভেস্টমেন্ট ছিল। এটাও আমার একটা গর্ব। ২০০০ সালে যখন ওবিই সম্মান নেয়ার জন্য গেলাম তখন সঙ্গে ছিলেন আমার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে। আমরা বাকিংহাম প্যালেসে গিয়েছি। উনিই আমাকে ওবেইর মেডেলটা লাগিয়ে দিলেন। কথাবার্তা শেষে আমাকে একটা সার্টিফিকেট দিলেন। ওটা একটা আনন্দের মুহূর্ত বা দিন ছিল আমাদের জন্য।
বাংলাদেশী
হয়ে ব্রিটিশ
রাজপরিবার ও
প্রশাসনের সঙ্গে
আপনার সম্পর্ক
তৈরি হয়েছে।
এটা কীভাবে
সম্ভব হলো?
এটুকু বলতে পারি, আমি সবসময় ইনোভেটিভ ছিলাম, চ্যালেঞ্জিং ছিলাম, জানার একটা আগ্রহ ছিল এবং সব জায়গায় অংশগ্রহণ করতাম। প্রথম বাংলাদেশী বা এশিয়ান হিসেবে আমি চ্যালেঞ্জ নিই এখানে একটা ফ্যাক্টরি করব, একটা বিল্ডিং করব, তারপর সমাজের সেবা করব। আমি জাতি হিসেবে ভেদাভেদ না করে বরং একজন ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে কমিউনিটি ওয়ার্ক করেছি। সেটা করতে করতে স্বীকৃতি পেয়েছি লোকাল কমিউনিটিতে, তারপরে সেটা ন্যাশনালি গিয়েছে, তারপরে হয়তো সেটা রাজপরিবারের চোখে পড়েছে।
প্রিন্স চার্লসের একটা অর্গানাইজেশন আছে, প্রিন্সেস ট্রাস্ট নামে। সেখানে কয়েকটা জায়গায় আমাকে ডেকেছে, আমি গিয়েছি। তখন একটা প্রোগ্রাম ছিল মোজাইক। মোজাইকের মাধ্যমে অনেক ইমিগ্র্যান্ট এসেছে আফ্রিকা, বাংলাদেশ থেকে, ৯০-এর শুরুর দিকে। তারা ব্রিটিশ সোসাইটির সঙ্গে মিশত না। তখন আমাদের একটা টিম গঠন করে দিলেন। স্কুলগুলোতে গিয়ে আমরা যে বিদেশীরা এসে ব্রিটিশ সোসাইটির সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে উপাধি পেয়েছি বা সার্থক হয়েছি সেগুলো পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। আমরা ওখানে গিয়ে বলতাম। তাদের অনুপ্রেরণা দিতাম ব্রিটিশ কমিউনিটিতে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য। বর্তমান কিংয়ের প্রতিষ্ঠানে এক বছরের একটা প্রোগ্রাম ছিল, স্কুলগুলোতে দেখতে হতো সেখানে পড়াশোনা কেমন হচ্ছে, পরে সেটার রিপোর্ট লিখতে হতো। তারপরে কিন্তু এ এলাকার স্কুলগুলো অনেক উন্নত হলো। ৭-১০ বছরে সেটার এত বেশি পরিবর্তন হলো যে দেখা গেল মেইনস্ট্রিমের স্কুলগুলোর থেকেও এ স্কুলগুলো ভালো করছে। তারপর আমাকে বিভিন্ন অ্যাডভাইজরিতে ডাকা হতো। আমি সেগুলোতে পার্টিসিপেট করতাম। আমি কথা বলতে পছন্দ করতাম। প্রথম প্রথম ভুলভাল হলেও আমি চালিয়ে গিয়েছি। আমি শুধু ব্যবসা করিনি, সমাজের সেবা করেছি। ইংল্যান্ডে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে সমাজের সেবা করলে আপনি স্বীকৃতি পাবেন। তাছাড়া আমরা এক্সপোর্ট করছি এখান থেকে। বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য এনে এখানে প্রসেসিং করে আমরা এক্সপোর্ট করছি। ইউরোপীয় কমিউনিটি এবং সেটা ছাড়িয়ে যাওয়ায় সেবার সবচেয়ে বড় এক্সপোর্টার হলাম আমি। ১৯৯৮ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সর্বাধিক রফতানির জন্য আমাকে কুইন্স অ্যাওয়ার্ড দিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসে ডেকে আমিসহ আরো কয়েকজনকে এ অ্যাওয়ার্ড দেন তিনি।
আপনার
ইউনিক পণ্য
টাইগার চিংড়ি,
যা আপনি
ব্রিটেনে নিয়েছেন।
আইডিয়াটা কীভাবে
আপনার মাথায়
এল?
চলার পথে আমরা অনেক সুযোগ পাই। তখন আপনাকে বেছে নিতে হয় আপনি কোনটা নেবেন, কোনটাতে ভালো করবেন। ১৯৭১-এ এ দেশে চলে আসি। বলব না রিফিউজি হিসেবে। তখন আমার বাবা লন্ডনে ছিলেন। উনি উনার বন্ধুবান্ধবদের মাধ্যমে আমাদের এখানে নিয়ে আসার পরে আমি আমার বাবার ব্যবসায় ঢুকলাম। ৮০ সালের পরে ইংল্যান্ডে খাবারের একটা বিপ্লব এল। এর আগে এত বেশি ফুডের কালচার ছিল না। তখন ইন্ডিয়ান, কোরিয়ান, চায়নিজ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার প্রচার হলো। বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টও খোলা হলো আর সেটা জমজমাট হলো। এখানে সবাই বিফ, পোলট্রি সাপ্লাই করছে, আর হালাল খাবারেরও খুব চাহিদা। আমি দেখলাম দেশে তো প্রচুর চিংড়ি মাছ হয়। বঙ্গোপসাগরে জাপানিজ কোম্পানি জয়েন্ট ভেনচার শুরু করেছে, আমেরিকায়ও এ মাছ রফতানি হয়। তখন গলদা চিংড়ি রফতানি হতো আর টাইগার চিংড়ির কেবল অবস্থা তৈরি হচ্ছে। তখন আমার মাথায় এল, আমি এ ব্যবসা করব। তখন আমি এই চিংড়ি মাছ এনে আমার ব্যবসায় সংযুক্ত করলাম। ধীরে ধীরে যেখানে আমার মুনাফা কম, সেসব বাদ দিয়ে আমি এখানে বেশি বেশি ফোকাস করা শুরু করলাম। ওই সুযোগ নেয়ার পরে মাছ ধরার জাহাজও কিনলাম, ফার্মিং, হ্যাচারি শুরু করলাম, এভাবে একটার পর একটা শুরু হলো।
আপনার
দাদা থেকে
শুরু করে
সবারই ব্রিটিশদের
সঙ্গে মেলামেশার
পারিবারিক সম্পর্ক
দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশী
হিসেবে ব্রিটিশ
সোসাইটিতে মিশতে
কেমন লেগেছে?
বাংলাদেশীদের সঙ্গে
সম্পর্কের ক্ষেত্রে
তারা আসলে
কেমন?
আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশী। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। ৭০-৮০-এর দিকে বাংলাদেশ যখন গরিব একটা দেশ ছিল তখনো আমি গর্বের সঙ্গেই বলতাম যে আমি বাংলাদেশী। দ্বিতীয়ত এখানে আসার পরে যেটা শিখেছি। ৫০-৬০টি দেশে আমি গিয়েছি। কিন্তু ব্রিটিশনেস যে বিষয়টা সেটা খুব কম পেয়েছি সব জায়গায়। তারা একটা ডিসিপ্লিন জীবন যাপন করে। তাদের মধ্যে একটা টলারেন্স আছে। রানী নিজেই বলতেন, প্রতিশোধ নেয়ার থেকে টলারেন্স রাখা অনেক বড় জিনিস। আমি মনে করি এ ক্ষমতা তাদের মধ্যে সব থেকে বেশি। আর তারা এত বেশি শিক্ষিত গুণী যেটা কেউ ভাবতে পারবে না। তাদের কোয়ালিটি এডুকেশন, এনভায়রনমেন্টাল এডুকেশন, হেলথকেয়ার, লাইফ সিকিউরিটি এসব অসাধারণ।
একটা
বড় সময়
আপনি ইংল্যান্ডকে
দেখেছেন। এর
মধ্যে অনেক
বাংলাদেশী ওখানে
গেছেন ও
যাচ্ছেন। ওখানে
বসবাসরত বাংলাদেশী
সমাজের যে
বিবর্তন দেখেছেন,
সেই সম্পর্কে
কিছু বলবেন
আমাদের।
মেজরিটি বাংলাদেশী কমিউনিটি এখানে আসার কারণ হলো অর্থনৈতিকভাবে ভালো হওয়া। সব মিলিয়ে এটা একটা ভালো জায়গা। সবাই শুরুতে সামান্য অর্থ নিয়ে এখানে এসেছেন। ৭০-৮০-এর দিকে বলব বাংলাদেশীরা খুব একটা ভালো ছিলেন না। গত ২০-২৫ বছরে এখন যারা এসেছেন তাদের বাংলাদেশী কমিউনিটি খুব ভালো। এরা লেখাপড়ার দিক থেকেও ভালো। প্রথম দিকে যারা এসেছেন তারা অনেক সংগ্রাম করেছেন। পরে তারা বুঝেছে আমরা যে স্ট্রাগল করেছি, সেটা সন্তানদের করতে দেব না। তাই তাদের সন্তানদের তারা শিক্ষিত করে তুলেছেন। এই বিবর্তনটা আমি দেখেছি। তারা এখন খুব সফল। এটা আরো দ্রুত এগোচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা স্থায়ী হওয়ার জন্য অনেক উৎসাহী। তবে এটা বলতে চাই বাংলাদেশীরা যুক্তরাষ্ট্রে খুব স্বচ্ছন্দ।
বেশির
ভাগ সময়
কীভাবে কাটে?
আমি মূলত ফ্যামিলি ম্যান। কাজের বাইরে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, নাতনিদের আমি বেশি সময় দিই। আমি ব্যবসার দিকে বেশি অ্যাক্টিভ। বয়স হয়েছে, তাই অলস হতে চাই না। আমি জিম করি, সুইম করি, বেড়াতে যাই। পাইপলাইনেও ২-১টি প্রজেক্ট আছে। সেগুলো নিয়েও কাজ করছি।
ভবিষ্যতের
জন্য আর
কোনো পরিকল্পনা
রয়েছে আপনার?
একটা কথা যোগ করতে চাই, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হবে যদি আমি মানুষকে কিছু জ্ঞান দিতে পারি। আমার ভালো অভিজ্ঞতা যদি মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারি। সেজন্য বই লেখার চেষ্টা করি। সেজন্য আমার গ্রামে যে স্কুলে আমি পড়াশোনা করেছি সেটার নাম বুরুঙ্গা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ। আমার সার্থকতা ও সফলতা দেখে আমার শিক্ষকরা সেই স্কুল আমার নামে দিয়েছে। এছাড়া সেখানে আমি একটা কলেজ করেছি। আমার এলাকার ছেলেমেয়েরা এসএসসি পাস করার পরে আর পড়েও না, কিছুই করে না। বিদেশে চলে যায়। পরে সেখানে কলেজ দিয়ে সফলভাবে ১০-১২ বছর আমি চালাই। তারপরে সেটা এমপিওভুক্ত হয়ে গেছে। সেজন্য সরকারকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমার এলাকায় তখন গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা খুব কম ছিল। কিন্তু গত ১০-১৫ বছরে ঘরে ঘরে গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু এখন সমস্যা হলো উচ্চশিক্ষায় আমি শিক্ষিত করতে পারছি না, দক্ষতা আনতে পারছি না। সেজন্য এলাকার শিক্ষিত গুণীজনরা মিলে পরিকল্পনা করেছি রুরাল ইউনিভার্সিটি করার। জানি না আমার আয়ুকালে সেটা করতে পারব কিনা, তবে সেটা একসময় না একসময় হবেই। যেহেতু আমরা অনেকে মিলে বসে এ উদ্যোগ নিয়েছি। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে আমি নিয়মিত স্কলারশিপ দিই। সেক্ষেত্রে আমি দরিদ্র বাংলাদেশীদের প্রায়োরিটি বেশি দিই। আমার জ্ঞানটা সুশিক্ষার খাতে দিতে পারলেই আমি আমার জীবনকে সার্থক মনে করব।






