যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে কাজ করছেন অনেক বাংলাদেশী চিকিৎসক। যুক্তরাজ্যে ছাড়া জার্মানি, সুইডেন, নরওয়েতেও তারা কাজ করছেন। উন্নত কর্মপরিবেশ ও প্রশিক্ষণের সুযোগকে তারা যুক্তরাজ্যের বড় সুযোগ মনে করেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের (গভর্নমেন্ট ফান্ডেড) প্রায় সব বিভাগেই এখন বাংলাদেশী চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যাবে। বেশির ভাগ মেডিসিন ও ইমার্জেন্সিতে কাজ করেন।

বাংলাদেশী চিকিৎসকদের অনেক আছেন ট্রেইনি আবার অনেকে নন-ট্রেইনি পদে। ট্রেইনি পোস্টে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানালেন যুক্তরাজ্যে কর্মরত চিকিৎসক ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানালেন, ট্রেইনি পোস্টে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বাড়ছে। যুক্তরাজ্যে ডাক্তারদের ট্রেনিং ব্যবস্থা খুবই উন্নত, কার্যকর। সবাই উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন কিনা তা নিশ্চিত করা হয়। তার কথায়, যুক্তরাজ্যের ব্যবস্থায় ‘সবাই নিরাপদ ও একাডেমিক পরিবেশ পান।’ কাজের ব্যস্ততা থাকলেও সবকিছু ঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে বাংলাদেশী চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্যে ভালোভাবে জীবন কাটাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।

সরকারি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার, রেজিস্ট্রার ও কনসালট্যান্ট পদে বাংলাদেশীদের দেখা যায় বলে জানালেন যুক্তরাজ্যে কর্মরত চিকিৎসক অভিজিৎ দে। বাংলাদেশীরা আর সব জাতির অশ্বেতাঙ্গদের মতো জীবনের কোনো একটি সময় কিছু বৈষম্যের শিকার হলেও সংগ্রাম করে নিজের জায়গা করে নিতে পারলে যুক্তরাজ্যে ভালোভাবে জীবন কাটানো যায় বলে জানালেন তিনি। দেশটিতে চিকিৎসকরা বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারেন। কমবেশি সব চিকিৎসকই সমানভাবে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পান।

ইউনিভার্সিটি হসপিটালস সাসেক্সে ভাস্কুলার সার্জারি ফেলো হিসেবে কাজ করছেন অমিয় হাসান। জানালেন কাজের প্রচণ্ড ব্যস্ততা থাকলে কর্মপরিবেশ নিরাপদ এবং নতুন নতুন বিষয় শেখার জন্য সহায়ক।

জিব্রান গজনভি লন্ডনের একটি হাসপাতালে কাজ করছেন। জানালেন সম্প্রতি অনেক বাংলাদেশী ডাক্তার যুক্তরাজ্যে প্ল্যাব (পিএলএবি) পাস করেছেন এবং এমআরসিপি/এমআরসিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। কর্মপরিবেশে বাংলাদেশী হিসেবে তেমন কোনো বৈষম্যের মুখে পড়তে হয়নি তাকে। জানালেন কর্মক্ষেত্র বিশেষে হয়তো কিছু ঘটনা দেখা যায়।

মুহাম্মদ হোজাইফ উল্লাহ যুক্তরাজ্যে তার কাজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করলেন এভাবে, ‘ডায়াগনোসিস পুরাটাই বলতে গেলে ইনিভেস্টিগেশন নির্ভর। নাইটে ঘুমানো যায় না।’ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কর্মপরিবেশের একটা যায়গায় মিল পেয়েছেন তিনি—‘নার্সরা দুই জায়গায়ই একই রকম, দেশে অবশ্য জুনিয়রদের গোনে না, এখানে সিনিয়রদেরও পাত্তা দেয় না।’ তার কাছে জানা গেলে সার্জারিতে বাংলাদেশীরা আগের চেয়ে ভালো করছেন। আগে এক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের চান্স পাওয়ার সংখ্যা কম থাকলেও সম্প্রতি অনেকে চান্স পেয়েছেন।

চিকিৎসক রিফাত বিনতে রেদুয়ান কয়েক বছর হলো বাংলদেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। সেখানকার কর্মপরিবেশ নিয়ে বললেন, ‘আমার কাছে কাজের পরিবেশ অনেক গোছানো মনে হয়েছে। নিয়মিত সুপারভিশনের সিস্টেম ও নির্দিষ্ট সুপারভাইজার থাকার কারণে কাজ করা অনেক সহজ হয়। ক্যারিয়ার প্রগ্রেশনের জন্য অনেক সুযোগ পাওয়া যায়। অতিরিক্ত কাজের চাপ একজনের ওপর পড়ার সম্ভাবনা কম। পড়লেও সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলে কাজের পরিধি নির্ধারণ করা যায়। ছুটির জন্য কাউকে সুপারিশ করতে হয় না- যেই জিনিস আমার প্রাপ্য সেই জিনিস নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ করার প্রয়োজন হয় না।’

কর্মপরিবেশে কোনো বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয় কিনা এমন বিষয়ে জানালেন, ‘সিস্টেম বুঝতে একটু সময় লাগে, কিন্তু একবার সিস্টেমে ঢুকে যেতে পারলে আর কোনো সমস্যা হয় না। আমি নিজে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হইনি। তবে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার সুবাদে কিছু কিছু সময় রোগীর কাছে ভার্বাল ও ফিজিক্যাল এবিউজের স্বীকার হয়েছি আমিসহ আমার ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় কলিগ। সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং আমাদের প্রপার সাপোর্ট দেয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে।’

 

এসএম রশিদ: লেখক