দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও দমনের নিষ্পেষণ বাঙালি জাতিকে অক্টোপাসের মতো ঘিরে ধরতে শুরু করেছিল। বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতিকে সমূলে ধ্বংস করার নীলনকশা পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির অব্যবহিত পর থেকেই বাস্তবায়নের প্রয়াস শুরু হয়েছিল। বাঙালির রক্তে কেনা উপমহাদেশের স্বাধীনতার সূর্য যেন শাসকগোষ্ঠীর কোপানলের মতো বাঙালিকেই জ্বালিয়ে দিতে উদ্যত হয়ে উঠেছে। পুরো ভারতবর্ষে স্বাধীনতার জন্য সর্বাপেক্ষা বেশি রক্ত দেয়া জাতি বাঙালিরা জাতীয়তা ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী সব পদক্ষেপকেই বীরত্বের সঙ্গে রোধ করেছে। এ সাক্ষী ইতিহাসে দেদীপ্যমান। পাকিস্তান স্বাধীনের পর পরই বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক চক্রের ষড়যন্ত্র বাঙালিদের কাছে দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশ হওয়ার পর পরই বাঙালিদের মধ্যে প্রবল তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক প্রকাশিত এ পুস্তিকা অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন তত্কালীন ইত্তেফাক পত্রিকার সম্পাদক আবুল মনসুর আহমদ, অধ্যাপক আবুল কাসেমসহ বরেণ্য বাঙালিদের রচনায় সমৃদ্ধ হয়েছিল। এ বইয়ের মুখবন্ধে অধ্যাপক আবুল কাশেম সুস্পষ্টভাবে বাঙালি জাতির পক্ষে লিখেছিলেন, ‘বাংলা ভাষাই হবে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন, আদালতের ভাষা ও অফিসাদির ভাষা।’ এবং পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই শুরু হয়ে গিয়েছিল বাঙালির ভাষার লড়াই।
সারা দেশে এ লড়াই প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন একটা সংগঠিত হতে না পারলেও সূর্য সেন, প্রীতিলতার জন্মভূমি বীর চট্টলার মাটি প্রারম্ভিক সময় থেকেই বাঙালির অন্যান্য মুক্তির লড়াইয়ের মতো ভাষার সংগ্রামও সূচানা করেছিল, ত্রিশের যুব বিদ্রোহ ও তত্পরবর্তী বামপন্থী আন্দোলন, মাহবুব উল আলম চৌধুরীসহ অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র ও যুবকদের স্বপ্নের পত্রিকা সীমান্ত, সুচরিত চৌধুরীর প্রাচী, বাম প্রগতিশীল নাট্য সংগঠন প্রান্তিক নবনাট্য সংঘ, রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী সবকিছু মিলিয়ে বীর চট্টগ্রাম সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লকলকিয়ে জ্বলছিল উত্তাল চল্লিশে। সাতচল্লিশের ভ্রাতৃঘাতী সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার মধ্যে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সাম্যবাদী বাণী নিয়ে সীমান্ত, প্রাচী ইত্যাদি পত্রিকার প্রকাশ ভূ-ভারতে নজির স্থাপন করেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানি সরকার কর্তৃক চট্টগ্রামের হালদা নদীর কাছে মাদারসার টেকে কমরেড আব্দুস সাত্তারের নৃেতত্বে সংঘটিত কৃষক বিদ্রোহে গুলি করে আটজন কৃষক নেতা হত্যার ঘটনায় সারা চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে আগুন জ্বলে ওঠে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর পরই পাকিস্তান আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রকর্মী মফিজুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম চৌধুরী (পরবর্তী আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভার সদস্য), রুহুল আমিন নিজামি, শামসুল হক, ফজলুল হক বিএসসি ও চৌধুরী হারুনুর রশীদের স্বপ্নভঙ্গ ঘটে এবং প্রায় সবাই প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৪৮ সালের মার্চে চট্টগ্রামে তত্কালে নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টি ও তার ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা এর বৈঠক আহ্বান করেছিলেন। সভায় মুসলিম লীগ নেতা রফিকউদ্দিন সিদ্দিকীকে আহ্বয়াক এবং পার্টি নেতা মাহবুব উল আলম চৌধুরী ও শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা মাহবুবুল হককে যুগ্ম আহ্বায়ক করে পাকিস্তান সরকারের মূলনীতিবিরোধী সংগ্রাম কমিঠি গঠন করা হয়। সর্বদলীয় এ সংগ্রাম কমিটি কর্তৃক আয়োজিত লালদীঘির মাঠের জনসভায় মূলত সরকারের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিরোধ যুদ্ধের শুভ সূচনা। এ সংগ্রাম কমিটি তত্কালে এ. কে. খান ও নুর আহম্মদ চেয়ারম্যানের বাসভবন ঘেরাও করে এবং গণপরিষদের এ দুই প্রভাবশালী সদস্য থেকে এ মর্মে অঙ্গীকার আদায় করে যে, ‘মূলনীতিতে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি অর্জিত না হলে’ তাঁরা পদত্যাগ করবেন। এ সময় চট্টগ্রামের সর্বত্র বাংলা ভাষার দাবিতে মিছিল-সমাবেশ অব্যাহত থাকে। এরই মধ্যে (১৯৪৮) বাংলা ভাষার দাবিতে লালদীঘি ময়দানে আরো একটি জনসভা আহ্বান করেছিল পাকিস্তান সরকারের মূলনীতিবিরোধী সংগ্রাম কমিটি। সভার প্রচারের জন্য ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে মাইকিং করেন ভাষাসৈনিক মাহবুবুল আলম চৌধুরী, শহীদ সাবের, গোপাল বিশ্বাস প্রমুখ। ১৯৪৮ সালের প্রথম মাসেই এ প্রচেষ্টা নিখিল পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের প্রতিক্রিয়াশীল কর্মীদের দ্বারা সশস্ত্রভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। মাইকিং করার সময় মাহবুবুল আলম চৌধুরী, শহীদ সাবের, গোপাল বিশ্বাসদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এ রকম খণ্ড হামলা ও সশস্ত্র বাধার কারণে নির্ধারিত জনসভাটি ভণ্ডুল হয়ে যায়। এখানে স্মর্তব্য যে, এ জনসভাই সারা দেশে বাংলা ভাষার দাবিতে আহ্বানকৃত প্রথম প্রকাশ্য বৃহৎ জনসভা।
১৯৪৮ সালে চট্টগ্রাম শহরে ভাষার আন্দোলন সশস্ত্র বাধা পেলে এ খবর হু-হু করে সারা চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকায় এলাকায় পাকিস্তানবিরোধী কমিটি গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ পূর্ব বাংলার রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে ধর্মঘট পালিত হয়। তত্কালীন কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের কানুনগোপাড়া কলেজ ও স্কুল, ধলঘাট, কেলিশহর, সারোয়াতলী, কাটির হাট, নানুপুর নোয়াপাড়া, আর্যমিত্র, কোয়েপাড়া, মহামুনি, রাধারানী কলিজিয়েট স্কুলসহ চট্টগ্রামের প্রায় সব স্কুল-কলেজের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এ ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে। সারা চট্টগ্রাম মিছিল-সমাবেশে বিস্ফোরিত হয়ে পড়ে। শোভাযাত্রায় বাংলা ভাষার দাবিতে বর্ণাঢ্য পোস্টার-ফেস্টুন শোভিত হয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ পাকিস্তান সরকার অনেক ছাত্রকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে ছেড়েও দেয়।
চট্টগ্রামে ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক এ পর্যায়ে তমদ্দুন মজলিস চট্টগ্রাম শাখার নেতা অধ্যাপক আবুল কাশেম, রফিক উল্লাহ চৌধুরী ও আজিজুর রহমান প্রমুখ ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ছাত্র তমদ্দুনের ফরমান উল্লাহ খান পরবর্তীতে অ্যাডভোকেট মো. সোলায়মান, শামসুদ্দীন মো. ইসহাক (পরবর্তীতে অধ্যক্ষ), মাকসুদ (পরবর্তীতে ডাক্তার), মো. ফরিদ (পরবর্তীতে সিএসপি), মো. ফরিদ, এজহারুল হক, মেডিকেল কলেজের ছাত্র মঈনুল হাসান সিদ্দিকীরা ভাষা আন্দোলনের প্রগতিশীল ছাত্র রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রামে এলে চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ফরমান উল্লাহ, মোহাম্মদ এজহারুল হক ও মো. ইসহাক আরবি হরফে বাংলা চালু করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং বক্তব্যের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানান।
এ অপরাধে চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষ ফরমান উল্লাহ ও শামসুদ্দীন মো. ইসহাককে কলেজ থেকে বহিষ্কার করেন। মইনুল হাসানও গভীরভাবে আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত থাকার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি। এঁরা ছাড়াও প্রগতিশীল অনেক ছাত্র সে সময় অনিশ্চিত শিক্ষাজীবন যাপন করেছিলেন। পাকিস্তান সরকারের লোকাল এজেন্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাকিস্তানপন্থী শিক্ষক ও কর্তাদের রোষানলে পড়ে।
১৯৪৭-এর রক্তপাতবিহীন পাকিস্তানের স্বাধীনতা, (যা পক্ষান্তরে বাঙালিদের আবারো প্রকারান্তরে পরাধীনতার নামান্তর), ১৯৪৮-এর উত্তাল বিদ্রোহের সময় ও খণ্ডিত স্বাধীনতার নামে বিদ্রোহ দমন করতে যেয়ে কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল কর্মীদের পুনরায় আত্মগোপন ও আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়ার ঘটনা এসব কিছুর আবর্তে ‘বীর চট্টগ্রামে’ আরো এক তরঙ্গ এসে উত্তাল করে দেয় ১৯৫০-এর বছরকে। সারা দেশে দাঙ্গার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে এরই মধ্যে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রুখতে সূর্য সেনের চট্টগ্রামের প্রগতিশীল কর্মীরা (যারা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের আড়ালে নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল) পাড়ায় পাড়ায় ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলল। ১৯৫০ সালে জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জনসমাবেশ আয়েজিত হয়েছির। সর্বাংশে সফল এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রফিকউদ্দিন সিদ্দিকী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর রফিকউদ্দিন সিদ্দিকী, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, আবু হেনা, আব্দুল হক দোভাষ, আবুল ফজল, মোতাহার হোসেন, শওকত ওসমান, যোগেশ সিংহসহ প্রগতিশীল নেতাকর্মীদের এক মিছিল সারা শহর প্রদক্ষিণ করে বাঙালিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র রোখার দাবিতে। এ সময় নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে (খুরশিদ মহলের উপরের তলায়) সর্বদলীয় সম্প্রীতি পরিষদ গঠন করা হয়। রফিকউদ্দিন সিদ্দিকী এ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। তাছাড়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন— সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী হারুনুর রশিদ ও গোপাল বিশ্বাস। এরই মধ্যে প্রান্তিক নবনাট্য সংঘ গঠন হয়। গঠন হয় বিশ্বশান্তি পরিষদের শাখা। আব্দুল হক দোভাষ ও মাহবুবুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশ্বশান্তি পরিষদ চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে আণবিক বোমার বিরুদ্ধে প্রায় আট লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগৃহীত হয়েছিল। ১৯৫১ সালের মার্চে চট্টগ্রামে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সম্মেলন ভাষা আন্দোলন-পূর্ববর্তী সময়ে সর্বাপেক্ষা কার্যকর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রান্তিক নবনাট্য সংঘের নেতৃত্বে আয়োজিত সর্বস্তরের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে এ সম্মেলন ঋদ্ধ ছিল এবং দেশব্যাপী ভাষা আন্দোলনের কর্মীদের তুমুলভাবে প্রণোদিত করেছিল।
চট্টগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টি এ সময় ‘সংস্কৃতি বৈঠক’ নামে সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছিল। তাছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকর্মীরা প্রগতিশীল অংশকে সংহত করে যাচ্ছিলেন। সে সময় পূর্বে গঠিত মূলনীতিবিরোধী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। মওলানা ভাসানীর আহ্বানে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির হরতালকে সর্বাত্মক সফল করার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছিল চট্টগ্রামে।
৪ ফেব্রুয়ারি মুসলিম আওয়ামী লীগের অফিসে সর্বদলীয় এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এ সভা সফল হয়েছিল এবং এ সভায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদে প্রথমে আহ্বায়ক নির্বাচিত হন মফিজুল ইসলাম। পরবর্তীতে এমএ আজিজ এ দায়িত্ব পালন করেন। সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা চৌধুরী হারুনুর রশীদ ও মাহবুবুল আলম চৌধুরী। তখন সংগ্রাম পরিষদের ছাত্রকর্মীরা রেয়াজুদ্দিন বাজার, খাতুনগঞ্জ এলাকা থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে তহবিল জোগাড় করেছিল। সারা শহরে প্রতিদিন পথসভা, বাংলা শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোড়ে মোড়ে বাংলা ভাষার জন্য গান ও এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতো। ওবায়দুল হক, সালেহ আহমদ প্রমুখ গলায় হারমোনিয়াম বেঁধে রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে বেড়িয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টি ও মুসলিম আওয়ামী লীগের কর্মীরা ছাড়াও তমদ্দুন মজলিসের কর্মীরা আলাদাভাবে বাংলা ভাষার পক্ষে সংগ্রাম ও প্রচারকাজ পরিচালনা করেছিল। চট্টগ্রামে ভাষা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তমদ্দুন মজলিসের একেএম রফিকুল্লাহ চৌধুরী, এজহার হক, শ্রমিক নেতা জহুর আহমদ চৌধুরী, ছাত্রনেতা মওলানা আহমেদুর রহমান আজমী, ডা. সৈয়দুর রহমান চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী, কাজী ফরিদ, আব্দুল হাই, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, আবুল মোমেন, সুচরিত চৌধুরী, মাহমুদ কামাল (ছাত্রলীগ), এসএমএ বারী, আব্দুল হালিমসহ (ছাত্রলীগ) অনেক তরুণের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। তাছাড়া মণি ইমাম, ননী বালা বড়ুয়া, রওশন আরা রহমান, ফাতেমা সালাম, উমরতুল ফজল, মুশতারী শফি, কামেলা শরাফীসহ অনেক নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা চট্টগ্রামে বাংলা ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করেছে।
এসএমএ বারী ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কাটিরহাট রেলস্টেশনে অন্য ছাত্রকর্মীদের নিয়ে রেললাইন উৎপাটন করেন। অকুস্থল থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে ছয়দিন হাজতবাসের পর তিনি ছাড়া পান।
মাসব্যাপী প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি হরতাল সর্বাত্মক সফলতা লাভ করেছিল। চট্টগ্রামের কোনো রাস্তায় সেদিন কোনো গাড়ি চলেনি। অফিস-আদালত, কল-কারখানা সবকিছুই বন্ধ ছিল। বেলা আড়াইটার সময় ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের খবর চট্টগ্রামে এলে শত শত মিছিলের গগনবিদারী স্লোগানে বীর চট্টগ্রামবাসীর প্রতিবাদী হুঙ্কারে সবুজ চট্টল ভূমি প্লাবিত হয়ে গিয়েছিল। অধ্যাপক আবুল ফজলের নেতৃত্বে সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা সংগঠিত হয়েছিল মিছিলের জন্য। তাছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন কলেজ ও স্কুল থেকে বেরিয়ে আসছিল হাজার হাজার ছাত্র। জনতার স্লোগানে ভেসে গিয়েছিল চট্টগ্রামের রাজপথ।
ছাত্র ফেডারেশন নেতা ননী ধর অসুস্থ ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরীকে ঢাকায় ছাত্রহত্যার খবর জানালে তিনি তত্ক্ষণাৎ (২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২) ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি জানাতে এসেছি’ শিরোনামের দীর্ঘ এক কবিতা লিখে ননী ধরকে দেন। ননী ধরের প্রাথমিক উদ্যোগে কবিতাটি রাতারাতি কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেস থেকে ছাপিয়ে পুস্তকাকারে বিলি করা হয়। কোহিনূর ইলেকট্রিক প্রেসের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের অনুমতিক্রমে তত্কালীন প্রেস ম্যানেজার দবির আহমদ চৌধুরী অসীম সাহসিকতার সঙ্গে রাতারাতি ছাপিয়ে ফেলেন। পরদিন এটি বিলি করা হলে পাকিস্তান সরকার তা বাজেয়াপ্ত করে। একুশের ভাষা শহীদদের নিয়ে রচিত সর্বপ্রথম কবিতা বাজেয়াপ্ত হয়ে গেলে কবিয়াল সম্রাট রমেশ শীল তত্ক্ষণাৎ এক গান বেঁধে মানুষের কণ্ঠে তুলে দেন। কবিয়াল রমেশ শীল লিখেছিলেন: ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন করিলিরে বাঙালি ও ভাই ঢাকার শহর রক্তে রাঙাইলি। বৃটিশ যুগে চালাইতো গুলি হাঁটুর নীচে এখন স্বাধীন দেশের ভাইয়ে ভাইয়ে উড়ায় মাথার খুলি।
ভাষার জন্য আন্দোলন করিলিরে বাঙালি। ভাষার জন্য জীবন হারাইলি বাঙালি ভাইরে, রমনার মাটি রক্তে ভাসাইলি। বাঙালিদের বাংলা ভাষা জীবনে মরণে, মুখের ভাষা না থাকিলে জীবন কেনে। ধমনীতে রক্তবিন্দু থাকে যতক্ষণ। রাষ্ট্রভাষা বাঙলার জন্য জীবন মরণ পণ।’
প্রকাশিত পুস্তিকা বাজেয়াপ্ত করে কবিতা নিষিদ্ধ করলেও কবিয়াল রমেশ শীলের গান মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের এ গান গাইতে থাকে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয় চট্টগ্রামে এবং বিকালে লালদীঘি ময়দানে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভাষাসৈনিক চৌধুরী হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে বাংলা ভাষার দাবিতে বিশাল এক মিছিল সারা শহর প্রদক্ষিণ করে। এ জনসভা থেকে চট্টগ্রামে ভাষা আন্দোলনের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী হারুনুর রশীদ।
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির নেতারা ২৩ ফেব্রুয়ারি বায়ান্নতে চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে শহীদ মিনার নির্মাণ করেন দিনে দিনে। ছোটখাটো বেদির আঙ্গিকে নির্মিত শহীদ মিনারটি কয়েক দিনের মধ্যে পুলিশ ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা আবারো নির্মাণ করা হয়। চট্টগ্রামে ভাষা আন্দোলনের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিতে প্রতিদিনই সভা, মিছিল-সমাবেশ, প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভাষা শহীদদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা ইত্যাদি কর্মসূচি ছিল ধারাবাহিকভাবে। ১৯৫২ সালের ২৩-২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লালদীঘি ময়ধানে পাঁচটি বৃহৎ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব জনসভায় মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, পুলিশি জুলুমের নিন্দা, খুনিদের শাস্তি, শহীদ ছাত্রদের পরিবারবর্গকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি, সর্বোপরি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবি জানানো হয়েছিল। এ সময় চট্টগ্রামে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই,’ ‘ভাষা শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না,’ ‘মন্ত্রিসভার পদত্যাগ চাই’ ইত্যাদি স্লোগান চট্টগ্রামের আকাশে বাতাসে রণিত হচ্ছিল।
সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে ১৯৫২ সালের ৫ মার্চে ভাষা শহীদদের স্মরণে শোক দিবস পালন করা হয়। দিবসটি দেশের অন্যান্য জেলায় তেমন সফল না হলেও জালালাবাদের রক্তে রাঙা চট্টগ্রামে সর্বাত্মক সফল হয়েছিল। ওইদিন লালদীঘি ময়দানে দেশের সর্বাপেক্ষা বড় জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সারা চট্টগ্রামের ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ সেদিন পাকিস্তান সরকারের নীতি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শপথ ঘোষণা করেছিল। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ মোজাফ্ফর আহম্মদ। সভা শেষে একটি মিছিল সারা শহর প্রদক্ষিণ করে।
সেদিন চট্টগ্রামের মানুষ ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে লালদীঘি সম্পর্কে রাষ্ট্রভাষা শহীদ পার্ক, চট্টগ্রামের লয়েল রোডকে শহীদ সালাহ উদ্দিন, টেরিবাজার রোডটিকে শহীদ বরকত সড়ক, লাভ লেইন রোডকে শহীদ জব্বর সড়ক ও রাষ্ট্রভাষা শহীদ সড়ক নামে অভিসিক্ত করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছিল।
চট্টগ্রামে বাংলা ভাষার সংগ্রাম যেমন পাকিস্তান সৃষ্টির পর শুরু হয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত চলেছে এ ধারাবাহিক সংগ্রাম। রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পেয়েই বসে থাকেনি চট্টগ্রামের মানুষ। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে অসাম্প্রদায়িক ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের তরুণেরা পুরো দশকব্যাপী চালিয়ে গেছে বাংলা ভাষার সংগ্রাম। প্রান্তিক নবনাট্য সংঘ ও অন্যান্য প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংস্কৃতিক সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তত্কালীন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আবদুল্লাহ আল হারুন চৌধুরী, এমএম শহীদুল্লাহ, আবুল কাশেম সন্দ্বীপ, আবুল মোমেন, আহমেদুর রহমান, আজমী, মাহবুবুল হকসহ অসংখ্য ছাত্র রাজনৈতিক কর্মী ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় ফেজে কাজ শুরু করেছিলেন। সর্বস্তরের কার্যকর অর্থেই রাষ্ট্রভাষা গড়ে তোলার এক সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন। তাঁরা সাত-আটটি দলে বিভক্ত হয়ে উর্দু ও ইংরেজি ভাষার সব সাইনবোর্ড, গাড়ির নাম্বার প্লেটসহ যাবতীয় লেখাকে বাংলা করে দিতেন। রাতের মধ্যেই এ কর্ম সম্পাদন হয়ে যেত। ফলে সকালে উঠে দেখা যেত, পুরো এলাকায় উর্দু বা বিজাতীয় ভাষার কোনো কিছুই চোখে পড়ত না। বাংলা প্রচলনের এ উদ্যোগটি সারা চট্টগ্রামে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।
তাছাড়া প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীরা নানা কর্মকাণ্ড নানা স্থানে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। ১৯৫২ সালের আড়াই মাসে চট্টগ্রামের প্রান্তিক নবনাট্য সংঘের সম্মেলনের স্থান নির্ধারিত হয় কুমিল্লায় (বিভাগীয় যুক্তিতে এ আয়োজন কুমিল্লায় সম্পন্ন হয়েছিলে)। একুশের পরে এটিই সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
গম্ভীর বর্ণাঢ্য রাজকীয় রঙ্গমঞ্চে সেই প্রথম চট্টগ্রামের শিল্পী-সাহিত্যিকদের সুসংগঠিত আত্মপ্রকাশ। এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন মাহবুব-উল আলম চৌধুরী, গোপাল বিশ্বাস, সুচরিত চৌধুরী, শওকত ওসমান, সুনীল চক্রবর্তী, সমরেন্দ্র দত্ত, অধ্যাপক আহমদ শরীফসহ পশ্চমবঙ্গের অনেক শিল্পী-সাহিত্যিক। ভাষা আন্দোলনের নিকট দূরের এ সাংস্কৃতিক সম্মেলনে বাঙালি জাতির স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা ফুটে উঠেছিল সর্বাত্মকভাবে। ভাষা আন্দোলনসংশ্লিষ্ট ঘটনার মধ্যে এটি অতি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। এ সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ বলেন, ‘আজ প্রশ্ন উঠিয়াছে, বাংলা আমাদের সাংস্কৃতিক ভাষা হইতে পারে না। আমাদের ধর্ম, ঈমান এই ভাষায় অটুট থাকিতে পারে না। এই প্রশ্নের জবাব দেয়া আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার। বাদুড়ের ডানার ঝাপটায় চাঁদটি মুখ কুণ্ঠিত করিয়া থাকে? আজ বোধ হয়, তাঁহারা দেশকে পাপে ডুবাইতে চাহেন, যাঁহারা প্রশ্ন তুলিয়াছেন, বাংলা ভাষা আমাদের সংস্কৃতির বাহন হইতে পারে না। সংস্কৃতি ধ্বংসের অনেক পথ আছে। জনসাধারণবিরোধী ও সমাজবিরোধী গোঁয়ার নীতি তার অন্যতম উপায় বটে। কিন্তু তার পরিণাম ফল পারস্যে আরবদের ভাগ্যের সবই হইতে বাধ্য।’
জ্ঞানতাপস আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ শুধু পাকিস্তানিদের দমন নীতির পরিণামের কথাই বলেননি, নির্ধারণ করে দিয়েছেন তরুণদের কর্তব্য। তার দিকনির্ণয়ী বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘...আমাদের সংস্কৃতি ধ্বংসের যে হীন আয়োজন নেপথ্যে চলিতেছে, তাহা ব্যর্থ করিতে পারন কেবল আপনারাই। কারণ সংস্কৃতির নির্বাণোন্মুখ দীপশিখা আবার আপনারাই জ্বালাইতে পারেন। একটি কথা আপনারা প্রায় শুনিয়া থাকেন জীবন বোধ। কিন্তু দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ছবি সম্মুখে থাকিলেই শুধু জীবন বোধ জাগ্রত হইতে পারে। এই পথে অগ্রসর হইতে হইলে মানুষের ইতিহাস জানা দরকার। এক কথায় স্বদেশ প্রেমের মালা গাঁথিয়া গলায় পরা আবশ্যক। জ্বলন্ত স্বদেশপ্রেম ছিল বলিয়াই রবীন্দ্রনাথ, নজরুল জাতীয় কবির মর্যাদা লাভ করিয়াছেন। আমাদের এই বিশ্বাস আছে যে, আমার দেশের মৃত্যু নাই, আমার দেশের আত্মা যে জনগণ, তাতেও মৃত্যু নাই, তেমনই অমর আমার এই বাংলা ভাষা।’
আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদের আবেদন বৃথা যায়নি, ১৯৫৪ সালে ঢাকা সাহিত্য সম্মেলন, তত্পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ও সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সবকিছুই এর সাক্ষ্য বহন করে। চট্টগ্রাম থেকে যে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, চট্টগ্রামের বীর জনতা প্রতিটি পদক্ষেপই তার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছে।
ভাষা আন্দোলনের এত বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা ভাষা শুধু স্বীকৃতিই পায়নি, সে ধারাবাহিকতার সূত্র ধরে বাংলাদেশও স্বাধীন হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসরূপে। এ তো আমাদের ভাষান্তর সংগ্রামের বিশ্বজনীন স্বীকৃতি। কিন্তু চট্টগ্রামের ভাষা আন্দোলন ও তৎসমেয়র তত্পরতা নিয়ে গবেষণামূলক বড় মাপের তেমন কাজ এখনো হয়নি, হয়নি চট্টগ্রামের ভাষাসৈনিকদের মূল্যায়ন, রাজধানীকেন্দ্রিকতার কারণে শুধু চট্টগ্রাম কেন অন্যান্য স্থানের ও জেলার ভাষা সংগ্রামও তেমনভাবে মূল্যায়িত হয়নি, আর মূল্যায়ন হয়নি অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের। জাতির ইতিহাস উত্তর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অতি অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। আজকে থেকেই শুরু হতে পারে সেই কর্মোদ্যোগ, সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতায়।
লেখক: সাংবাদিক






