২০০৫ সালের দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্ব নিই, তখন স্যামসন এইচ চৌধুরী সাহেবের বেশ বয়স হয়ে গেছে। বিভিন্ন সভায়, চেম্বারে উনার সঙ্গে আমার নানান উপলক্ষে বহুবার আলাপ হয়েছে। এছাড়া তিনি দুএকবার ব্যক্তিগতভাবে আমার অফিসে ব্যাংকিং সমস্যাসংক্রান্ত বিষয়ে দেখা করতে এসেছেন। একবার ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) রিপোর্টসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে এসেছিলেন। নানান রফতানিযোগ্য শিল্প পণ্য উৎপাদন করতেন বলে রিপোর্ট তৈরিতে সময় লাগলে উনার ব্যবসায়ে একটু অসুবিধা হতো। বিষয়টি সমাধান করে দেয়ায় তিনি খুব সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

২০০৮-০৯-এর দিকে গাজীপুরে যখন প্লান্ট করলেন, আমাকে একবার ঘুরতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার সময়ের অভাবে উনি আমার সুবিধার জন্য বলেছিলেন আমরা হেলিকপ্টারে গিয়ে দ্রুতই ফিরে আসব। সেজন্য আমি উনাকে ধন্যবাদ জানাই। উনার সবদিকে খেয়াল ছিল, সবার প্রতি যত্ন ছিল। এত বড় একজন ব্যক্তি হয়েও এ বিনয়টা তার চরিত্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বৈশিষ্ট্য। কর্মীদের প্রতি অত্যন্ত দরদি ছিলেন। তাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো খেয়াল রাখতেন। কাউকে যাতে হুট করে চাকরিচ্যুত করা না হয় সে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতেন। মানুষ হিসেবে তো বটেই শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবেও তিনি সফল ব্যক্তিত্ব। আনন্দের বিষয়, তার উত্তরসূরিরাও তার দেখানো পথে কাজ করে যাচ্ছে।