স্যামসন এইচ চৌধুরীকে আমি ষাটের দশক থেকে চিনি। তিনি আমার পিতার বন্ধু ছিলেন। যখন তিনি প্রথম এড্রুক প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকায় আসেন, তখন ষাটের দশকে আমাদের রÅvনকিন স্ট্রিটের বাসায় তাকে প্রথম দেখি। বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাস লিখতে গেলে স্যামসন চৌধুরীর নাম অবশ্যই অগ্রগণ্য হয়ে থাকবে। পাকিস্তান আমলে যখন রাষ্ট্রটি ছিল সাম্প্রদায়িক, সেই বৈরী পরিবেশেও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে তিনি বাংলাদেশের প্রতি আস্থা রেখেছেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাস রেখে বিনিয়োগ করেছেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, যা সত্যিই অনুকরণীয় ও বিরল এক দৃষ্টান্ত।

একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশের শিল্পায়নের ইতিহাস আর স্যামসন এইচ চৌধুরীর জীবন ও কর্মকাণ্ড অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি ছিলেন দেশের একজন সৎ শিল্পপতি এবং সবার শ্রদ্ধার পাত্র। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিও ছিলেন দায়িত্বশীল। স্বাধীনতার পর তিনি যেভাবে বাংলাদেশের শিল্পের বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ওষুধ শিল্পকে দাঁড় করিয়েছেন, যা আজ বিশ্বের বহু দেশে রফতানি হচ্ছে তা তার নামের সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকবে। সৎ ও নীতিনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।