টু্ইটার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর থেকে নিত্য-নতুন কারণে সমালোচিত হয়ে আসছেন ইলোন মাস্ক। পুরো প্রতিষ্ঠানে তোলপাড় করা অদলবদল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নির্বাহী ব্রুস ডেইজলি বলছেন, মাস্ক আসলে কী করছেন, তা নিয়ে তার কোনো ধারণা নেই।

ব্রুস ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টুইটারের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের ভাইস-প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক এ কর্মকর্তার মতে, ইলোন মাস্ক ভেবেছিলেন যে তিনি এসে সবকিছু সমাধান করে ফেলবেন। কিন্তু বিষয়টি খুবই জটিল। মাস্কের প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে এটি বেশ স্পষ্ট যে, তিনি জানেন না কী করছেন।

এ দিকে কয়েক দিন গুঞ্জনের পর টুইটার নিশ্চিত করেছে, ব্যবহারকারীদের এখন থেকে ভ্যারিফায়েড আইডি নির্দেশক ব্লু টিক ক্রয় করতে হবে। 

এখনো সকল দেশে প্রয়োগ করা হয়নি নতুন নীতি। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার অ্যাপল ফোন ব্যাবহারকারীরা টুইটারে ব্লু টিক পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। তার জন্য প্রতি মাসে ৭ দশমিক ৯৯ ডলার খরচ গুণতে হবে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ফেক অ্যাকাউন্টে টুইটার সয়লাব হয়ে পড়বে টুইটার।

এতদিন ব্লু টিক কেবল বিখ্যাত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের পাশেই দেখা যেত। যা পাওয়ার জন্য টুইটারকে দিতে হতো নিজের সত্যিকার পরিচয়। নতুন নেয়া সিদ্ধান্তের কারণে সরকারি ব্যক্তি, তারকা, সাংবাদিক কিংবা কোন পণ্যের ব্র্যান্ডও ব্লু টিক লাভ করতে পারবে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে যে কেউ প্রচারযন্ত্র হিসেবে টুইটারকে ব্যবহার করতে পারবে।

ব্যবসাসফল মাস্ক টুইটারের ক্ষেত্রেও আয়ে বৈচিত্র্য আনতে মনোযোগী। গত মাসেই ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার অধিগ্রহণ করেন তিনি। বড় কর্মকর্তাদের ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে শুধু মাস্কের টুইটার পর্ব। এখন যেখান থেকে বাদ পড়ছেন নিচের দিকে কর্মীরাও। ছাঁটাই ছাড়াও তিনি নিয়েছেন আরো কিছু পদক্ষেপ।

গত শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০ লাখ ডলারের বেশি হারাচ্ছে টুইটার। লোকবল অর্ধেকে নামিয়ে আনার পেছনে এমন যুক্তিও দেখাচ্ছেন ইলোন মাস্ক।