১ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের ঘরে প্রবেশ করেছে এনভিডিয়া করপোরেশন। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চিপ নির্মাতা কোম্পানিটি সম্প্রতি মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে এ কীর্তি গড়ে। এর মাধ্যমে ট্রিলিয়ন ডলারের মূলধনি ক্লাবে প্রথম মার্কিন চিপ নির্মাতা হিসেবে নাম লিখিয়েছে টেক জায়ান্টটি। এআই খাতের সফলতা এনভিডিয়াকে অভাবনীয় মূলধন অর্জনে সহায়তা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি কোম্পানির শেয়ার মূল্য ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে বৃদ্ধির হার প্রায় ২৫ শতাংশ। এআইয়ের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা প্রযুক্তি জায়ান্টটির শেয়ারদর বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। কেননা এনভিডিয়া করপোরেশন এআইয়ের জন্য সবচেয়ে উন্নত চিপ, সিস্টেম এবং সফটওয়্যার তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের সর্বশেষ মূল্য ছিল ৪০৮ ডলার। 

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এনভিডিয়া এআই চিপ তৈরিতে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান শেয়ার মূল্য অতিরিক্ত। অক্টোবরের পর থেকে এনভিডিয়া শেয়ার মূল্য বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ। পুঁজি বাজারের ‘এসঅ্যান্ডপি ৫০০’ সূচকে থাকা অন্য যেকোনো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ‌তুলনায় বেশি। এ ধরনের উত্থান টেক জায়ান্টটিকে প্রতিযোগী বা সমকক্ষদের থেকেও বেশি মূল্যবান করে তুলেছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি এনভিডিয়ার শেয়ার বিক্রি বন্ধের সময় এর প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০১ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছিল। এনভিডিয়া ছাড়া বর্তমানে চারটি মার্কিন কোম্পানির সম্পদের মূল্য ১ ট্রিলিয়নের বেশি। এগুলো হলো অ্যাপল, অ্যালফাবেট (গুগল), মাইক্রোসফট করপোরেশন এবং অ্যামাজন।

সিএফআরএ রিসার্চের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো জিনো বলেন, ‘পরিবর্তনশীল এ পৃথিবীতে ক্রমেই আমরা এআইয়ের ওপর জোর দিচ্ছি। এ পরিপ্রেক্ষিতে এনভিডিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি হিসেবেই দেখছি।’ 

সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের কিছুটা তাক লাগিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। মূলধন সংগ্রহে বিশ্লেষকদের প্রাক্কলনের চেয়েও ৫০ শতাংশের অধিক অর্জন করেছে কোম্পানিটি। ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষকরা এনভিডিয়ার আগের করা প্রাক্কলনকে এক সময় ‘দুর্জেয়’ এবং ‘কাল্পনিক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। কেননা প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ মূলধন লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের সমান।

সামিট ইনসাইটস গ্রুপের সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট কিনগাই চ্যান বলেন, ‘যদিও প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্কলন এ মুহূর্তে উচ্চতর দেখাচ্ছে। তবে আমরা মনে করি এনভিডিয়ার আয়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা প্রতিষ্ঠানটির এআই জিপিইউ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’ 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৃহৎ টেক কোম্পানিগুলো এআই খাতে জোর দিচ্ছে। সবারই প্রত্যাশা এ প্রযুক্তির চাহিদা ভবিষ্যতে বাড়বে। এআই পরিচালনার জন্য কম্পিউটারে যে ‌শক্তিশালী চিপ দরকার হয় সেটি গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) নামে পরিচিত। আর এসব চিপের ৮০ শতাংশের নির্মাতা এনভিডিয়া।

রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং বলেন, ‘২০২২ সালের আগস্টে নতুন এআই চিপ উৎপাদন শুরু করে এনভিডিয়া। এআইয়ের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। ফলে আমরা অতিরিক্ত ক্রয়াদেশও পেয়েছি। এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আমরা উল্লেখযোগ্য চিপ সরবরাহের প্রত্যাশা করছি।’