পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় উদ্যোক্তা, কম্পিউটার প্রোগ্রামারের পাশাপাশি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নাগরিকরাও ছেড়ে যাচ্ছেন রাশিয়া। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির ভেতরে আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনাও অসম্ভব হয়ে উঠছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।
রাশিয়া সামরিক আগ্রাসন চালানোর কারণে জীবনের ভয়ে লাখ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে। শুধু ইউক্রেনই নয়, রাশিয়া ছেড়ে যেতেও দেখা যাচ্ছে অনেককে। বেশকিছু রাশিয়ান উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের রাশিয়া ছাড়ার পেছনের কারণ এবং দেশ ছাড়ার প্রক্রিয়া। কিন্তু যেহেতু তারা দেশের বাইরে গিয়ে নতুন করে শুরুর কথা ভাবছে, সেক্ষেত্রে রাশিয়াবিরোধী মনোভাব ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তাদের বিপদে ফেলবে বলে মনে করছেন তারা।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ইউক্রেন সীমান্তে যখন রাশিয়া সেনা সংগ্রহ করছে, সে সময় ইউগেন কোনাস তার লন্ডনকেন্দ্রিক ডিসি১ল্যাবের জন্য দূরে থেকেই কর্মরত রাশিয়ান কর্মীদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। কিন্তু অন্যদের মতো তিনিও পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করেননি। তার প্রত্যাশা দ্রুতই হাওয়ায় উবে যায়। পরে যখন রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হয়, পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা দেয়া শুরু করে, প্রথমেই ব্যবসা ক্ষেত্রে তার প্রভাবটা টের পাওয়া যায়।
কোনাসের কর্মীরা দেখতে পান ব্যাংক কার্যক্রমের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা চলে এসেছে। তাদের অ্যাকাউন্টে আন্তর্জাতিক মুদ্রা লেনদেন করা যাচ্ছে না। তারপর রুবলের দাম কমে যাওয়ায় সেভিংসগুলোকে ডলারে ভাঙিয়ে নেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর বাইরে লম্বা লাইন দেখা যায়। সে সময়েই কোনাসের রাশিয়ান কর্মীরা সমর্থন জানিয়ে বলেন, ছেড়ে যাওয়ার এটাই সময়।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলোর কথা বাদ দিলে রাশিয়া থেকে একটি তথ্যপ্রযুক্তির কোম্পানি পরিচালনা করা অবাস্তব হয়ে উঠছে। কারণ বিদেশী প্রযুক্তি পরিষেবা হয় নিষিদ্ধ হয়ে রয়েছে অথবা পিছু হটতে শুরু করেছে। গুগল ও মাইক্রোসফট এখানে সব ধরনের বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তাছাড়া রাশিয়া নিজেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার ব্লক করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও ফেসবুক ও টুইটার রাশিয়ায় আবার তাদের কার্যক্রম শুরু করার প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে।
যদিও এমন সব পরিস্থিতিতে কেউই বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া শুধু রাশিয়ায় থেকে যেতে আগ্রহী নন। আবার অনেকের আত্মবিশ্বাস ক্রিপ্টোকারেন্সির কারণে তারা এসব নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সক্ষম হবেন।
ব্ল্যাংক এবং তার স্ত্রীও শুধু রাশিয়ার বাজারে এককভাবে কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন না। কিন্তু এখানে বিনা মূল্যে সবসময় দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকায় ব্ল্যাংক এখানেই একটি টেক প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময়ে মস্কোও টেক মিটআপে খুব আগ্রহী ছিল বলে ব্ল্যাংক বেশ সহায়তা পেয়েছিল। পরে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে তার স্বাভাবিক জীবনে বাধা তৈরি হয়। ফলে তিনিও রাশিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি রাশিয়া থেকে বিনিয়োগ তহবিল তুলে নেয়ার পরই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শত শত রাশিয়ান নাগরিক, বিশেষ করে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারনেটজুড়ে টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোয় হাজার হাজার নাগরিক দেশ ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং এ বিষয়ে একে অন্যকে সাহায্য করছেন।
আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও রাশিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি চালানো বেশ কষ্টসাধ্য। বিদেশী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো হয় রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছে কিংবা কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।
রাশিয়ায় সব ধরনের বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছে গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্ট। এছাড়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারের মতো সেবা ব্লক করতে চাইছে ক্রেমলিন। খুব সম্ভবত মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে চীনের মতো কঠোর অবস্থানে যাবে রাশিয়া।









