যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন একটি সেমিকন্ডাক্টর জোটে অংশগ্রহণে বেশ চাপের মুখে রয়েছে সিউল। পূর্ব এশিয়ায় চীনের বিকল্প গন্তব্য হিসেবে এ জোট গঠন নিয়ে কৌশলগত দোটানায় পড়েছে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো কোম্পানি। দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের ক্রসফায়ারে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাইওয়ান ও জাপানকে নিয়ে নতুন সেমিকন্ডাক্টর জোট গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এতে টেনে নিতে অন্য মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। কিন্তু চীনের মতো বৃহৎ বাজারের সঙ্গে বৈরিতা যে আখেরে লোকসানি ঠেকতে পারে এ ভয়ে পিছুটান ছিল সিউলের। চিপ ৪ নামে অনানুষ্ঠানিক জোটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া। কারণ দেশটির বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখনো চীন।
গত মার্চে ফ্যাব ৪ নামেও পরিচিত এ জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টে গ্রুপটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি সিউল যেন আগস্ট শেষের আগেই কূটনৈতিক চ্যানেল মারফত জানিয়ে দেয়।
প্রস্তাবিত সেমিকন্ডাক্টর জোট নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইওন সুক-ইওলের এক মুখপাত্র সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ব্যাপারে এখন তেমন কিছু বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর খাতে সম্পর্ক জোরদারে বেশকিছু বিকল্প নিয়ে ভাবছে সিউল।
ঘনিষ্ঠ মিত্র ওয়াশিংটনের প্রস্তাব নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ সিউলের। কিন্তু চীনের মতো বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারকে এক নিমিষে ফেলে দিতে পারে না তারা। ২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট রফতানির ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল চীনে, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ১০ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি। কোরীয় চিপ নির্মাতা জায়ান্ট স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের কারখানা রয়েছে চীনের সানজি ও জিয়াংশু প্রদেশে।
অন্যদিকে চিপ জোটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকভিত্তি হারাতে চাইছে না দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকিয়ুনকিওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কিওন সিওক-জুন বলেন, চিপ ৪ জোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে হয়তো জোটভুক্ত দেশগুলোর সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ চেইনে স্থিতিশীলতা আনা যাবে। কিন্তু এতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ক্ষতিকর ঠেকবে।










