ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ কভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ রোধে বিশ্বের প্রথম ফটোথার্মাল ইফেক্টভিত্তিক উচ্চক্ষমতার এয়ার ফিল্টার তৈরি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার একদল বিজ্ঞানী। এটি হেপা ফিল্টার নামেও পরিচিত। কোরিয়ার ইনস্টিটিউট অব এনার্জি রিসার্চ সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছে। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।
ফটোথার্মাল ইফেক্ট হলো এমন একটি কার্যক্রম, যেখানে একটি পদার্থ আলোকশক্তি গ্রহণের পর তাপশক্তিতে রূপান্তর করে। বিশ্বে বর্তমানে ওষুধ সরবরাহ, কোষের মৃত্যু প্রতিরোধ, সেন্সর ও সৌরশক্তিচালিত ব্যাটারিতে এটি ব্যবহার করা হয়। বিদ্যমান হেপা ফিল্টারে প্লাজমিক মেটাল ন্যানোপারটিকলসের কোটিং দেয়ার মাধ্যমে নতুন এ ফিল্টার তৈরির প্রযুক্তিই উদ্ভাবন করেছে গবেষণা দলটি। এটি আলাদা ফটোথার্মাল ইফেক্ট তৈরি করে।
গবেষণার তথ্যানুযায়ী, দৃশ্যমান আলোয় যখন ফটোথার্মাল হেপা ফিল্টার আলো নির্গমন ডায়োডের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়, তখন ১০-১৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে এর তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর না হলেও বিদ্যমান ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়ার কোষ ধংস করে দেয়।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বর্তমানে বাতাস শুদ্ধিকরণ সিস্টেমে যে হেপা ফিল্টার রয়েছে, সেগুলো সেকন্ডারি ইনফেকশনের প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। কেননা এতে দূষণকারী পদার্থ আটকে থাকে এবং ব্যাকটেরিয়ার জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। হেপা ফিল্টার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে অতিবেগুনি রশ্মি ব্যবহার করে। তবে অতিবেগুনি রশ্মি ফিল্টার ক্ষয়ের মাধ্যমে জীবনকাল কমিয়ে দেয়।
গবেষক দলটির নেতৃত্বে থাকা ইও সিয়াং-হোয়ান বলেন, ফটোথার্মাল হেপা ফিল্টার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফিল্টারে থাকা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভাইরাস দূর করা সম্ভব। ফলে সেকন্ডারি কোনো ইনফেকশন আক্রমণের সম্ভাবনাও থাকবে না। ইনস্টিটিউট জানায়, বিদ্যমান ফিল্টারে নতুন প্রযুক্তি ফিল্টার যুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি স্থানীয় এয়ার ফিল্টার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ক্লিনটেককে এটি তৈরির লাইসেন্স ও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।










