সেলফোনের চিপ তৈরিতে বিশ্বের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান কোয়ালকম। কোম্পানিটির স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর এ খাতের শীর্ষে রয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যুগে সেলফোন চিপের পাশাপাশি অটোমোটিভ বা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও হাইব্রিড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতেও কোম্পানিটির অগ্রগতি হয়েছে। খবর ব্যাংকক পোস্ট।

কোয়ালকমের তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট এসটি লিউ বলেন, ‘‌প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোন ও সেলফোনের বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটিংকেও সক্ষম করছে।’ ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটিং বলতে উন্নত প্রযুক্তি, অ্যালগরিদম ও সিস্টেমের ব্যবহার বোঝায়, যা মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে অনুকরণ করে কাজ সম্পাদন ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটিংয়ের মধ্যে রয়েছে এআই, মেশিন লার্নিং, কগনিটিভ কম্পিউটিং ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিকস। 

কোয়ালকম মনে করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যতে হাইব্রিড হওয়া প্রয়োজন। এজন্য তারা একটি হাইব্রিড পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিটির মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজগুলো শুধু ক্লাউড প্রক্রিয়াকরণের ওপর নির্ভর না করে ক্লাউড (রিমোট সার্ভার) এবং এজ ডিভাইসগুলোর (যেমন স্মার্টফোন, আইওটি ডিভাইস বা অন্যান্য সংযুক্ত ডিভাইস) মধ্যে বিতরণ করা উচিত। এছাড়া জেনারেটিভ এআই ডেভেলপার ও প্রোভাইডারদের খরচ কমিয়ে হাইব্রিড এআই এজ ডিভাইসে কম্পিউটিং সুবিধা প্রদান করতেও সক্ষম।  

লিউ বলেন, ‘‌হাইব্রিড এআই কাঠামো কিংবা কোনো ডিভাইসে এর ব্যবহার ব্যয় সাশ্রয়, কর্মসক্ষমতা বৃদ্ধি, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগতকরণের সুবিধা প্রদান করে। বিদ্যুচ্চালিত গাড়িকে আমরা বুদ্ধিমান ডিভাইস হিসেবে দেখি, যা কোম্পানির স্ন্যাপড্রাগন ডিজিটাল চ্যাসিস প্লাটফর্মের মাধ্যমে স্মার্ট রাইড ড্রাইভার সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি গাড়ি থেকে ক্লাউড ও ককপিট পর্যন্ত সংযোগের ক্ষেত্রে জোর দেয়।

প্লাটফর্মটি গাড়ি প্রস্তুতকারকদের নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যা নিরাপদ, কাস্টমাইজযোগ্য নতুন প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত। ভবিষ্যতের গাড়িগুলো কাস্টমাইজেশনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ড্রাইভার বায়োমেট্রিক্সকে সমর্থন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন, যা গাড়ি নির্মাতাদের জন্য নতুন লাভজনক পরিস্থিতির প্রতিনিধিত্ব করে।

২০২২ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অটোমোটিভ ব্যবসা বাবদ আয় বছরে ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার হয়েছে। কোয়ালকম মনে করে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলারে প্রসারিত হবে।

এসটি লিউ আরো বলেন, ‘আইওটির জন্য বাজারে সুযোগও বাড়ছে। কোয়ালকমের আইওটি প্লাটফর্ম চিপস, ইকোসিস্টেম ও অন্য সরঞ্জামগুলোকে ডিজিটাল রূপান্তর ও আধুনিকীকরণে সহায়তা করে।’ 

প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশেষ করে থাইল্যান্ডে আইওটি-সেন্সর সিস্টেম, স্মার্ট সিটি উদ্যোগ, স্মার্ট কারখানা, স্মার্ট লজিস্টিকস এবং স্মার্ট কৃষির উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরে। ভবিষ্যতের কারখানাগুলোয় আরো দক্ষ, অভিযোজনযোগ্য এবং প্রতিরোধমূলক রক্ষণাবেক্ষণকে সমর্থন করতে হবে বলেও মনে করেন। ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য আরো স্থানীয় অংশীদার খোঁজার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। 

ফাইভজি স্মার্টফোনের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফাইভজি ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড প্রযুক্তির বাজারও বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের মতে, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী ফাইভজি স্মার্টফোনের চালান ৬২ শতাংশ বাড়বে। আর এর চার বছর পর অর্থাৎ ২০২৭ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৮৩ শতাংশে উন্নীত হবে।