চীনে উন্নত প্রযুক্তি সুবিধা প্রদানে ফেডারেল বা সরকারি তহবিলের আওতায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে বাধা দেয়া হবে। আগামী ১০ বছর তাদের কার্যক্রমে বাধা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

বিবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘোষণাটি এমন সময়ে দেয়া হয় যখন ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে আরো সরকারি সহায়তার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছে। তারা বিশ্বব্যাপী মাইক্রোচিপের ঘাটতির সম্মুখীন হয়েছে। এ কারণে উৎপাদনও অনেক কমে গিয়েছে।

ইউএস চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট ব্যাখ্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব গিনা রাইমন্ডো বলেন, কেউ যাতে চিপ তহবিল গ্রহণ করে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে আমরা কিছু নীতি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এ তহবিলের অর্থ চীনে বিনিয়োগ করার জন্য তাদের অনুমোদন দেয়া হয়নি। আগামী ১০ বছর তারা চীনে প্রযুক্তি উন্নয়নে সহায়তা করতে পারবে না। যেসব প্রতিষ্ঠান তহবিলের অর্থ নেয় তারা শুধু চীনের বাজারে নোড কারখানাগুলো প্রসারণ করতে পারবে।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ চলছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ২৮ হাজার কোটি ডলারের (২৩ হাজার ২০০ কোটি পাউন্ড) প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। চীনের কাছে প্রযুক্তিযুদ্ধে হারার আশঙ্কায় বাইডেন এ আইনে স্বাক্ষর করেন বলে জানা গিয়েছে।

গাড়ি থেকে শুরু করে সেলফোন তৈরিতে সেমিকন্ডাক্টর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী এ সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহের প্রায় ১০ শতাংশ উৎপাদন করে। এর হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম। পাশাপাশি চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এনভিডিয়া ও এএমডি প্রতিষ্ঠান দুটিকে চীনের কাছে চিপ বিক্রি বন্ধ করার নির্দেশও দেয়।