২০৩০ সাল নাগাদ অভ্যন্তরীণ পর্যায় থেকে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহূত উপাদানের অর্ধেকের বেশি সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বর্তমানে যার হার মাত্র ৩০ শতাংশ। খবর রয়টার্স।
দেশটির চিপ উৎপাদন খাত শক্তিশালী করতে প্রেসিডেন্ট ইওন সুক-ইওল যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটি বাস্তবায়নের একটি অংশ এটি। স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের মতো শীর্ষ মেমোরি চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল কেন্দ্র দক্ষিণ কোরিয়া। এ দুটি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ চেইনকে স্থিতিশীল করতে ও উপাদানের সহজলভ্যতা নিশ্চিতের মাধ্যমে এ খাতের পরাশক্তি হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
দেশটির অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির চিপ উৎপাদন খাতের তথ্যানুযায়ী ২০ শতাংশ যন্ত্রাংশ ও ৫০ শতাংশ উপাদান স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এসে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা থাকলেও শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বহিরাগত সরবরাহের ওপর বেশি নির্ভরশীল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য বিরোধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ছোট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহী করতে এবং চিপ ডিজাইন ফার্মগুলো অধিগ্রহণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ২৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। আগামী বছর থেকে এ বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া শক্তি ও অটো চিপের উন্নয়নে ২০২৪ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৯৫ হাজার কোটি ওন বিনিয়োগ করবে। সেই সঙ্গে ২০২৯ সাল নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সংবলিত চিপের জন্য ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ওন বিনিয়োগ করবে।
দেশটির সরকার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়নে বিনিয়োগের বিষয়ে ভাবছে বলেও সূত্রে জানা গেছে। মূলত যেসব খাত চিপ উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর মধ্যে পেয়ংটায়েক ও ইওঙ্গিন শহরও রয়েছে। এছাড়া যেসব বড় প্রতিষ্ঠান অবকাঠামোর উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে তাদের করমুক্ত সুবিধাও দেয়া হবে।
আগামী ১০ বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ প্রদানে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একত্রে কাজ করবে বলে জানিয়েছে দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয়। মূলত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন খাতের কর্মী বাড়াতেই এ উদ্যোগ। নয় বছর ধরে সেমিকন্ডাক্টর দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি খাতের শীর্ষে রয়েছে।










