চলতি বছরে স্মার্টফোন বিক্রি ২০ কোটি ইউনিট কমতে পারে। সম্প্রতি এমন আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে চীনভিত্তিক শীর্ষ চিপ নির্মাতা কোম্পানি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (এসএমআইসি)। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীনে সাম্প্রতিক করোনা লকডাউনের প্রভাবে স্মার্টফোন ও পিসির বাজারে এ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। খবর রয়টার্স।

প্রথম প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের উপাত্ত প্রকাশ শেষে এসএমআইসির সিইও ঝাও হাইজুন বলেন, বৈশ্বিক চিপস্বল্পতা, স্মার্টফোন, পিসি ও গৃহস্থালি পণ্যের ব্যাপক চাহিদায় গত কয়েক প্রান্তিকে চিপ সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছিল এসএমআইসি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীনে সাম্প্রতিক লকডাউনের ফলে অনেকে ক্রেতা ক্রয়াদেশ বাতিল করছেন। 

বিশ্লেষকদের কাছে হাইজুন বলেন, চলতি বছরে স্মার্টফোনের চাহিদা অন্তত ২০ কোটি ইউনিট কমবে। এতে ভুক্তভোগী স্থানীয় চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানিগুলো। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় লক্ষণীয় পরিমাণে ক্রয়াদেশ বাতিল হচ্ছে।

স্মার্টফোন ও পিসি বিক্রি হ্রাসের সম্ভাবনায় এসএমআইসির উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ শতাংশে নেমে আসছে। গত কয়েক প্রান্তিকে বৈশ্বিক চিপের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এসএমআইসির উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশ ছুঁয়েছিল।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এসএমআইসির উৎপাদন ৫ শতাংশ কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন হাইজুন।

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন ও চীনের সাম্প্রতিক লকডাউনে সার্বিক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, এসএমআইসি সিইওর মন্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চীনের বাণিজ্য নগরী সাংহাইয়ে মাস দেড়েক ধরেই দফায় দফায় লকডাউন আরোপ করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তাইওয়ানভিত্তিক টিএসএমসি, মিডিয়াটেক ও স্থানীয় এমআইসিসহ সাংহাইয়ে চিপ নির্মাণ কারখানা রয়েছে বেশির ভাগ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির।

প্রথম প্রান্তিকে এসএমআইসির আয় লক্ষণীয়ভাবে বাড়লেও চলতি প্রান্তিক নিয়ে ততটা আশা করছেন না সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক আয়-ব্যয়ের উপাত্তে চীনা সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা কোম্পানিটি জানায়, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে এসএমআইসির আয় ৬৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানির নিট মুনাফা গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ১৮১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি ৭২ লাখ ডলার। অবশ্য এর আগের প্রান্তিকে এসএমআইসির নিট মুনাফা ছিল ৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম প্রান্তিকে এসএমআইসির আয়ের ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে ১২ ইঞ্চি ওয়েফার বিক্রি থেকে। বাকি ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ আয় হয়েছে ৮ ইঞ্চি ওয়েফার থেকে।

এসএমআইসির সিইও ঝাও হাইঝুন জানান, শেনঝেন, সাংহাই ও বেইজিংয়ে ২৮ ন্যানোমিটারের ফ্যাব্রিকেশন প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে শেনঝেন ফাউন্ড্রির যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে সেখানে উৎপাদন শুরু হতে পারে। নির্মীয়মাণ ফাউন্ড্রিগুলোর জন্য যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিলম্বের মুখোমুখি হচ্ছে এসএমআইসি। এতে পূর্বপরিকল্পিত সময়ে ফাউন্ড্রি চালু এবং ওয়েফার নির্মাণ ব্যাহত হতে পারে।