চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ওয়্যারেবল ব্যান্ডের বৈশ্বিক বাজার ১ শতাংশ কমেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখ ইউনিট। তবে ভারতের বাজার ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ সময় দেশটিতে ওয়্যারেবলের চাহিদা বছরওয়ারি হিসেবে ১২২ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক বিক্রিতে মন্দার প্রভাব অনেকটাই দূর করেছে। সম্প্রতি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রথম প্রান্তিকে বিশ্ব বাজারে ব্যাসিক ব্যান্ডের জাহাজীকরণ ২৪ শতাংশ কমে ৭৫ লাখ ইউনিটে নেমে এসেছে। কেননা বিক্রেতা ও ভোক্তারা বড় ডিসপ্লের ডিভাইসের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। অন্যদিকে ব্যাসিক স্মার্টওয়াচ বিক্রি ২৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে। এর পেছনে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে ভারতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা। সামগ্রিকভাবে স্মার্টওয়াচের জাহাজীকরণ ১১ শতাংশ কমে ১ কোটি ৫৮ লাখ ইউনিটে নেমে এসেছে।

ক্যানালিসের রিসার্চ ম্যানেজার সিনথিয়া চেন বলেন, ‘‌ভারতে ওয়্যারেবল ব্যান্ডের বাজার উল্লেখজনক হারে বাড়ছে। ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে খাতটি তিন অংকের প্রবৃদ্ধি দেখতে পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফায়ার বোল্ট, নয়েজ ও বোটের মতো ‌স্থানীয় পর্যায়ের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গ্রাহক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দামের পণ্য আনার মাধ্যমে বাজারকে এগিয়ে নিচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ স্মার্টওয়াচের যে চাহিদা তা পূরণ করছে।’

দীর্ঘমেয়াদে বাজার ধরার জন্য এন্ট্রি লেভেল হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পরিবর্তনের সুযোগ তৈরির জন্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বাজারজাত করতে হবে। যেখানে আধুনিক সব ফিচার ও ইন্টিগ্রেটেড ডিভাইস অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশে গ্রাহকদের চাহিদা অনেক কমেছে। ফলে ভারত ছাড়া বাকি দেশগুলো স্মার্ট ওয়্যারেবল ব্যান্ডের বাজারে দুই অংকের লোকসানে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খারাপ মৌসুমের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অঞ্চলে পণ্য জাহাজীকরণ যথাক্রমে ১৩ ও ২১ শতাংশ কমেছে। এর বিপরীতে চীনের বাজার শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে পণ্য জাহাজীকরণ মাত্র ৭ শতাংশ কমেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে হুয়াওয়ে, অ্যাপল ও শাওমির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

ক্যানালিসের আরেক রিসার্চ অ্যানালিস্ট জ্যাক লিথেম বলেন, ‘‌শক্তিশালী ইকোসিস্টেম ও উন্নত ফিচারযুক্ত স্মার্টওয়াচ বাজারজাতের মাধ্যমে অ্যাপল শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘‌প্রথম প্রান্তিকে কুপারটিনো ভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটির পণ্য জাহাজীকরণ ১১ শতাংশ কমলেও কোম্পানিটি ২০ শতাংশ বাজার হিস্যা ধরে  রাখতে পেরেছে।’

অ্যাপলের পর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে শাওমি। বিক্রি বাড়াতে চীনের এ কোম্পানিটি মধ্যম থেকে উচ্চ মানের ব্যাসিক ওয়াচ বাজারজাতে মনোনিবেশ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বিক্রি বাড়াতে সাশ্রয়ী মূল্যের ওয়াচের ওপর নির্ভর করবে। শাওমির পর তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে হুয়াওয়ে ও স্যামসাং।

বড় প্রযুক্তির কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো শুধু ওয়্যারেবল ব্র্যান্ড হিসেবে শীর্ষ পাঁচে উঠে আসে ফায়ার বোল্ট। ভারতের বাজারেই কোম্পানিটির পণ্য বিক্রি ১৯৮ শতাংশ বেড়েছে।