সাংহাই, কুনশানসহ চীনের বেশ কয়েকটি শহরে সাম্প্রতিক লকডাউনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন শিল্প খাতে। উপকরণ সংকটের কারণে করোনাকালে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা নোটবুকের সরবরাহ সংকট দেখা দিচ্ছে। কানেক্টর, ওয়্যারিং, পিসিবি, প্লাস্টিক, ধাতব যন্ত্রাংশ, ছাঁচসহ নোটবুকের বিভিন্ন উপকরণ সংকট তীব্রতর হচ্ছে। খবর ডিজিটাইমস।
চিপস্বল্পতার পাশাপাশি পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট আইসির মতো যন্ত্রাংশস্বল্পতা নোটবুক উৎপাদনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লকডাউনের ফলে লজিস্টিকস খাতে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা নোটবুক খাতের পুরো সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংহাই ও কুনশানের লকডাউন এক বা দুই সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলে আশা করছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু তা এক মাসেরও বেশি সময় প্রলম্বিত হওয়ায় পুরো সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলছে।
গত ২৮ মার্চ সাংহাইয়ে লকডাউন আরোপের পর অ্যাসেম্বলি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নোটবুক ওডিএম নির্মাতা কুয়েন্টা কম্পিউটার ও ইনভেনটেকের। নোটবুকের প্রধান অ্যাসেম্বলি ও যন্ত্রাংশ হাব কুনশানে লকডাউন ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন শ্রমিক দিবসের আগে তা চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ লকডাউনের ফলে শুধু যে সাংহাই ও কুনশানের নোটবুক উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে তা নয়, বরং চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় চংকিং ও চেংদুর অ্যাসেম্বলি কারখানায় নোটবুক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কানেক্টর, ওয়্যারিং, পিসিবি ও মেকানিক্যাল মেটাল পার্টসের মতো বিভিন্ন জরুরি উপকরণের মজুদ হ্রাস নোটবুক নির্মাতা কোম্পানিগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নোটবুক অ্যাসেম্বলিতে এক হাজারেরও বেশি উপকরণ বা যন্ত্রাংশ প্রয়োজন। এতে ব্র্যান্ডের নোটবুক নির্মাতা ও অরিজিনাল ডিজাইন ম্যানুফ্যাকচারাররা (ওডিএম) কম-বেশি উপকরণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও তারা সিপিইউ বা ডির্যাম চিপের পর্যাপ্ত মজুদ করে রেখেছে, কিন্তু অন্যান্য উপকরণ সংকট মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাশ্রয়ী দামের নোটবুকগুলোও এ সংকটে ভুক্তভোগী হচ্ছে বলে জানায় সূত্রগুলো।
এর আগে কভিড-১৯ মহামারীর দুই বছরেই নোটবুক বিক্রি চাঙ্গা ছিল। ঘরে থেকে অফিস, যোগাযোগ, অনলাইন ক্লাস ও বিনোদন নির্ভরতার ফলে নোটবুকের চাহিদা বাড়ে। ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড নোটবুক বিক্রি হয়। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে নোটবুকের চাহিদা কমলেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নোটবুকের বিক্রি চাঙ্গা থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংক্রমণ বৃদ্ধি ও লকডাউনের ফলে সৃষ্ট সরবরাহ চেইন ও উপকরণ সংকটের কারণে বার্ষিক বিক্রি কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।










