কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এছাড়া উদীয়মান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার স্পেসে যেকোনো ধরনের হামলা থেকে দেশটিকে সুরক্ষা দিতেও তার এ আদেশ কার্যকরী হবে। খবর টেকরাডার ডটপ্রো।

সাম্প্রতিক সময়ে কোয়ান্টাম ইনফরমেশন সায়েন্সের (কিউআইএস) বৈশ্বিক অঙ্গনের নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিউআইএস বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে বিস্তৃত ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে একটি প্রতিশ্রুতিশীল অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে কোয়ান্টাম কম্পিউটার। প্রচলিত কম্পিউটারের পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সক্ষমতা বহুগুণ। এসব কম্পিউটার মূলত যেকোনো তথ্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নতুন নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত থেকে শুরু করে ওষুধ শিল্পসহ সব খাতে নতুন নতুন উদ্ভাবন সম্ভব হয়েছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে দারুণ প্রভাব রেখেছে।

হোয়াইট হাউজ ফ্যাক্ট শিটের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নতুন এ নির্বাহী আদেশের ফলে এখন থেকে জাতীয় কোয়ান্টাম ইনিশিয়েটিভ কমিটিকে আরো শক্তিশালী করবে, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে আরো উন্নত ও অগ্রগামী করে তুলবে। একই সঙ্গে এ কমিটি এখন থেকে হোয়াইট হাউজের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট, ইউএস কংগ্রেস, ফেডারেল ডিপার্টমেন্ট ও এজেন্সিগুলো এখন থেকে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং এর আধুনিকায়ন নিয়ে অতিসাম্প্রতিক, নির্ভুল এবং যথাযথ তথ্য জানতে পারবে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতি ও আধুনিকায়নকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা স্মারকেও স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। মূলত কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে মার্কিন সাইবার জগতে যেসব নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে, তা মোকাবেলা করার জন্য এ নিরাপত্তা স্মারক প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন অদূরভবিষ্যতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর তথ্য উন্মুক্ত করতে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে সরকারি যেসব গোপনীয় তথ্য এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে তা উন্মুক্ত করতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ইন্টারনেটে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেয়া ক্রিপ্টোগ্রাফি, ব্যবসায়িক ও বিভিন্ন কোম্পানির গ্রাহকদের সংরক্ষিত তথ্য হাতিয়ে নিতেও রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকাররা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাহায্য নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ন্ড অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএসটি) শিগগিরই নতুন কোয়ান্টাম-রেজিসট্যান্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন করবে, যা ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে যেকোনো সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রদানে সহায়তা করবে।

একটি দেশের সব তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ব্যবস্থাকে নতুন একটি স্ট্যান্ডার্ডে স্থানান্তর করা সময়সাধ্য ব্যাপার। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আইটি অবকাঠামোগুলো আধুনিকীকরণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা উচিত বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-সংক্রান্ত যাবতীয় হুমকি মোকাবেলায় দ্রুত প্রস্তুতি নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

একই সময়ে নতুন প্রণীত জাতীয় নিরাপত্তা স্মারকটি ফেডেরাল এজেন্সিগুলোকে সরাসরি পরিচালনা করবে, যাতে আমেরিকার বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সুরক্ষায় তারা একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা উন্নয়ন করতে পারে। পাশপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণা, উন্নয়ন ও অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রযুক্তি প্রতিপক্ষ দেশ দ্বারা দখলের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

সামনের দিনগুলোয় এনআইএসটি তাদের নতুন কোয়ান্টাম-রেজিসট্যান্স ক্রিপ্টোগ্রাফিক স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন করলে এবং ফেডারেল এজেন্সিগুলো তাদের আইটি অবকাঠামো নতুন ব্যবস্থায় উন্নীত করলে এ ব্যাপারে বাইডেন প্রশাসন থেকে আরো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।