বিদেশী চিপ কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এ বিনিয়োগ বাইডেন সরকারের জন্য বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেহেতু এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে তাই গোটা বিষয়টিই একটি আইনের আওতায় আনতে চায় সরকার। হোয়াইট হাউজের একটি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কর্মকর্তা পিটার হ্যারেল বলেন, চিপ উৎপাদনে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ছে। এজন্য বিপুল পরিমাণ প্রণোদনাও দেয়া হচ্ছে। এ খাতের নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনও করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে চীন থেকে বিশেষায়িত চিপ ও চিপ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু এ বিনিয়োগ যেন দেশের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত না করে সেদিকেও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি দেয়া উচিত।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ দিতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিশেষ একটি ক্ষমতা দেয়া হবে। এর মাধ্যমে উচ্চপ্রযুক্তি খাতের বিদেশী কোম্পানিতে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো সন্দেহ হলে তাতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে সরকার, বিশেষ করে চীনের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, শিগগিরই আদেশটি জারি হতে পারে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক থেকে আদেশটি কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্য চেম্বার অব কমার্স বলছে, তাদের প্রত্যাশা, বাইডেন সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতি জারি করবে। এ আদেশের মাধ্যমে যেন গোটা খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে অর্থ ও বাণিজ্য, উভয় বিভাগকেই অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি, যা প্রাথমিকভাবে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম খাতে বিনিয়োগে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করবে।
হ্যারেল বলেন, বিদেশে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়ে নেয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এমনভাবে আইন প্রণয়ন করা উচিত যার মাধ্যমে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এবং সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে যে ফাঁকগুলো আছে তা পূরণ করা যায়।
প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো সারাহ বাউরলে। এক প্রতিবেদনে তিনি লিখেছেন, বাজার উন্মুক্ত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের যে প্রতিশ্রুতি তা যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। মার্কিন ব্যবসার জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয় এবং তা যেন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। দেশের বাইরে বিনিয়োগ করার বিষয়টি অবশ্যই যথাযথ আইনসিদ্ধ হতে হবে, সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে হতে হবে।
যেসব অংশীদার এরই মধ্যে এ ধরনের আইন তৈরি করেছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাইডেন প্রশাসন। হ্যারেল বলেন, কোন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা এক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবেন সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব খাতের সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত সেসব দিকে বিনিয়োগের বিষয়ে খুবই সতর্ক থাকা উচিত।










