চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের বাজারে স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ইউনিট, পূর্ববর্তী প্রান্তিকের চেয়ে যা ৫ শতাংশ কম। বৈশ্বিক প্রযুক্তিবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ভোক্তা চাহিদা হ্রাস ও পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতার কারণে স্মার্টফোন বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭০ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রির মাধ্যমে ভারতের স্মার্টফোন বাজারে শীর্ষস্থান দখলে রেখেছে শাওমি। অন্যদিকে ৬৭ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রির মাধ্যমে দ্বিতীয় স্থান স্যামসাংয়ের। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা রিয়েলমি, ভিভো ও অপোর স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৬১ লাখ, ৬০ লাখ ও ৫৫ লাখ ইউনিট।

ক্যানালিসের বিশ্লেষক সানিয়াম চৌরাশিয়া বলেন, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভেন্ডরদের কার্যক্রম খুবই কম ছিল। মূলত ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি চীনের স্মার্টফোন উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি তদন্তের কারণে কার্যক্রম আরো কমেছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের প্রকৃত আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়েছে এবং ব্যয়ও কমে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। শাওমি, ভিভো ও অপোসহ চীনের প্রধান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি তদন্তের পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছে। তবে এসব সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায় তেমন গুরুতর কোনো প্রভাব পড়েনি। পাশাপাশি তাদের বাজার হিস্যাতেও খুব বেশি উত্থান-পতন হয়নি।

রেডমি সিরিজের স্মার্টফোন উৎপাদন ও বাজারজাতে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন এলেও ভারতের বাজারে শীর্ষে ছিল শাওমি। অন্যদিকে অপো ও ভিভো কে১০ ও টিওয়ান সিরিজের ডিভাইসগুলো ই-স্টোর ও ই-রিটেইলারদের কাছে সরবরাহের মাধ্যমে তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রিমিয়াম ক্যাটাগরিতে স্যামসাংয়ের ফ্ল্যাগশিপ এস সিরিজের গ্রহণযোগ্যতা থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বাজার হিস্যা বাড়াতে সহায়তা করেছে। যেখানে কুপারটিনোর প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ভারতের পিএলআই স্কিম ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আইফোন ১৩-এর উৎপাদনে কাজ করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আসন্ন বিভিন্ন সিরিজের স্মার্টফোনের দাম নির্ধারণে কাজ করছে।

চৌরাশিয়া বলেন, স্মার্টফোনের ইনভেন্টরি উল্লেখজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনকারী তথা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী চ্যানেল সহযোগিতার সুবিধা পেতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে ব্র্যান্ডগুলো বিভিন্ন ডিভাইস বিক্রিতে ছাড় দেয়ার কথা ই-কমার্স প্লাটফর্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। মূলত ছুটির মৌসুম শুরুর আগে স্টক খালি করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনেও এ ধরনের অফার মূল্যে স্মার্টফোন বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হবে। মূলত তৃতীয় প্রান্তিকে ভোক্তাদের চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন সিরিজের ডিভাইস বাজারজাতের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো অফলাইন রিটেইলারগুলোকেও ভালো অফারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে স্মার্টফোন বিক্রিতে সহায়তা করছে।

২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধে গত বছরের মতো স্মার্টফোন কেনার উচ্চ চাহিদা না থাকলেও স্মার্টফোন রিপ্লেসমেন্ট কার্যক্রমের কারণে ছুটির মৌসুমে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে। রুপির দরপতন, খুচরা মূল্যবৃদ্ধি ও চীনের ব্র্যান্ডগুলোর ওপর বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠায় ২০০ ডলারের স্মার্টফোন সেগমেন্ট সেভাবে এগোতে পারছে না। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনো স্বল্পমেয়াদে সতর্কতামূলক পর্যায়ে রয়েছে।