প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা চীনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ে বিশ্ববাজার থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে অনর হুয়াওয়ের অন্যতম একটি ব্র্যান্ড ছিল। ২০২০ সালে এর মালিকানা শেনজেন ঝিক্সিন নিউ ইনফরমেশন টেকনোলজি কোম্পানির হাতে চলে যায়। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনর নিজস্ব সেলফোন বাজারজাত করে আসছিল। স্মার্টফোনে খাতে আরো সমৃদ্ধ হতে এবার নিজস্ব চিপ উৎপাদনকারী কোম্পানি চালু করেছে কোম্পানিটি। খবর গিজমোচায়না।

অনরের চিপ ডিজাইন উদ্যোগটি সাংহাই অনার ইন্টেলিজেন্ট টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি নামে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নিবন্ধিত মূলধনসহ সাংহাইয়ের লিংগাং ফ্রি ট্রেড জোনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা অনর টারমিনাল কোম্পানির মালিকানায় কাজ করবে। 

অনরের পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন প্রতিষ্ঠানটি চীনে তার পাঁচটি গবেষণা কেন্দ্রের একটি। অন্য গবেষণা কেন্দ্রগুলো বেইজিং, শেনজেন, জিয়ান ও নানজিংয়ে অবস্থিত। নতুন ইউনিটের প্রাথমিক গুরুত্বের মধ্যে রয়েছে চিপ ডিজাইন, বিক্রয় সম্পর্কিত পরিষেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের বিকাশ।

যদিও অনরের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি যে চিপের বিকাশ বা উন্নয়ন ঘটানো তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হবে কিনা। তবে অপোর চিপ ডিজাইন দলকে ভেঙে দেয়া এবং হাজার হাজার প্রকৌশলীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের পর অনরের বর্তমান পদক্ষেপটি অনেকেরই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কেননা, অপোর পদক্ষেপটি বিশ্ব অর্থনীতি ও স্মার্টফোনের বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তাছাড়া চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সম্পর্কিত বিষয়গুলোও চলে আসে। 

অনরের প্রধান নির্বাহী ঝাও মিং বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের চিপ ডিজাইন কৌশল নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে।’ তবে তিনি জোর দেন, অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কিংবা বাইরের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের সিদ্ধান্তগুলো মূলত পণ্যের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।

মার্চে অনর প্রথম নিজস্ব ডিজাইনের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি কমিউনিকেশন চিপ, অনর সিওয়ার আনে। ৫জি সিগন্যাল উন্নত করার জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে অনর জানায়, আরো জটিল সিস্টেম-অন-চিপ ডিজাইনের জন্য, কোয়ালকম এবং মিডিয়াটেকের মতো প্রতিষ্ঠিত সরবরাহকারীদের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে। 

অন্যদিকে চীনের অন্যতম স্মার্টফোন বিক্রেতা শাওমি সম্প্রতি চিপ ডিজাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। চিপ ডিজাইনকে তারা মূল ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচনা করে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজন বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। 

২০১৩ সালে হুয়াওয়ের শাখা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনর খুব দ্রুত চীনের অন্যতম প্রধান স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকাজুড়ে ২০টি আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। তবে মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ২০২০ সালের নভেম্বরে চীন সরকারের মালিকানাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে অনরকে বিক্রি করে দেয়া হয়। 

অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চীনের মোট স্মার্টফোনের চালান ১৪ শতাংশ হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও গত বছর অনরের পণ্যের চালান ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ কোটি ২২ লাখ ইউনিটে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।  ব্র্যান্ডটির বাজার শেয়ার বর্তমানে ১২ শতাংশ বেড়ে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।