২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত ফাউন্ড্রি বাজারের বার্ষিক বৃদ্ধির হার (সিএজিআর) ১৬ শতাংশের বেশি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে প্রযুক্তি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গার্টনার। এ খাতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৫ সাল নাগাদ বৈশ্বিক বাজার হিস্যা ৬৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি)। ফাউন্ড্রি বা চিপ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে টিএসএমসি এগিয়ে থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং অনেকটাই পিছিয়ে। তবে এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহ এখনো তুঙ্গে।
কয়েক বছরে বিশ্বে ফাউন্ড্রির মোট ব্যবসায় স্যামসাংয়ের হিস্যা ছিল ১৭ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রযুক্তি জায়ান্টটি এ ব্যবসায় তাদের অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এলএসআই বিভাগ মূলত ফাউন্ড্রি ব্যবসা দেখভাল করে। বিভাগটি গত দুই বছরে এ খাতের শেয়ার ১৬ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার বিষয়টি দেখতে পেয়েছে। বর্তমানে এর হার ৪০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পথে রয়েছে। মূলত ৮০ শতাংশের বেশি সিস্টেম এলএসআই মুনাফা ফাউন্ড্রি পরিষেবা থেকে আসে। এ কারণে স্যামসাংয়ের আশা তারা ফাউন্ড্রি ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারবে এবং প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।
অতীতে স্যামসাংয়ের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসর (এপি), ডিসপ্লে
ড্রাইভার আইসি, এমনকি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মেমোরির নির্দিষ্ট বাজার ফাউন্ড্রি আউটপুটের অর্ধেকের বেশি অবদান রাখত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কোয়ালকম, এনভিডিয়া ও এএমডির কাছ থেকে ফাউন্ড্রি তৈরির চাহিদাপত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার এ প্রযুক্তি জায়ান্টের ফাউন্ড্রি ব্যবসা আরো ২০ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মুনাফায় ২০২১ সালে ফাউন্ড্রি ব্যবসার অবদান ৭ দশমিক ৩ শতাংশ থাকলেও চলতি বছর তা ৯ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীতের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুনাফায় এ খাতের অবদান ৩ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ হয়ে ৬ শতাংশে উন্নীত হওয়ার ধারণাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফাউন্ড্রি ব্যবসায় যন্ত্রাংশ কেনা, কর্মী নিয়োগসহ সামগ্রিক ব্যয়ে স্যামসাং বর্তমানে টিএসএমসির প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে। তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্যয় বর্তমানে স্যামসাংয়ের তুলনায় দুই-আড়াই গুণ বেশি।
ব্যয়ের পাশাপাশি টিএসএমসির গ্রাহকও বাড়ছে। বিশ্বের এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান টিএসএমসির গ্রাহক, যেখানে স্যামসাংয়ের ফাউন্ড্রি ব্যবসার সঙ্গে মাত্র ১৫০টি প্রতিষ্ঠান জড়িত। ২০০৫ সালে স্যামসাং তাদের ফাউন্ড্রি ব্যবসা চালু করে। এরপর ২০১৭ সালে গ্রাহকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব অবসানে ফাউন্ড্রি থেকে এপি/সক, ডিডিআই, সিআইএসসহ অন্যান্য বিভাগকে আলাদা করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি কোয়ালকম, ইন্টেল ও এনভিডিয়ার কাছ থেকে ক্রয়াদেশ পাওয়ার আশাও করছে।
পারতপক্ষে তিন ন্যানোমিটার জিএএ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানটির ফাউন্ড্রি ব্যবসার বিস্তারে সহায়তা করবে। চতুর্থ প্রজন্মের ডির্যামে আইপি ঠিকানা সংরক্ষণের জন্য এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট লিথোগ্রাফি (ইইউভি) ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। তবে কয়েক বছর ধরে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করলেও স্যামসাংয়ের গ্লোবাল ফাউন্ড্রি বাজার শেয়ারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। গত কয়েক বছর ফাউন্ড্রি বাজারের প্রবৃদ্ধির পেছনে সেলফোন বা হ্যান্ডসেটের বাজার মুখ্য ভূমিকা রাখলেও সামনের বছরগুলোয় উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং (এইচপিসি) উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
২০২১ সালে ডির্যামের জন্য ১০ ট্রিলিয়ন কোরিয়ান ওন, ন্যান্ড বা এনএএনডির জন্য সাড়ে ১২ ট্রিলিয়ন ওন এবং ফাউন্ড্রির জন্য স্যামসাং ১৩ ট্রিলিয়ন ওন ব্যয় নির্ধারণ করেছিল বলে জানা গিয়েছে। সামগ্রিকভাবে এর পরিমাণ সাড়ে ৩৫ ট্রিলিয়স ওন বা ৩ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। বর্তমানে ডলারের সঙ্গে কোরিয়ান ওনের পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় তা স্যামসাংয়ের বিনিয়োগ ব্যয়ে চাপ প্রয়োগ করছে।










