রাশিয়ার কাছে প্রায় ৭ কোটি ৪ লাখ ডলার সমমূল্যের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার পণ্য রফতানি করেছে এসার। তাইওয়ানভিত্তিক কম্পিউটার নির্মাতা সংস্থাটি ৮ এপ্রিল ২০২২ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে এ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত খবরে বলা হয়, যদিও এটি অবৈধ চালান নয়। তবে এসারের এ ধরনের পদক্ষেপ ডেল ও এইচপির তুলনায় সম্পূর্ণ বিপরীত। পশ্চিমা এ প্রতিষ্ঠান দুটি ইউক্রেনে মস্কোর অভিযান পরিচালনা শুরুর পর পরই ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল ২০২২-এ তাদের সব চালান বন্ধ করে দেয়।
কাস্টমস প্রতিবেদন বলছে, এসারের উৎপাদিত সরঞ্জামগুলো রাশিয়ায় সরবরাহ হয়েছে সুইজারল্যান্ডে নিবন্ধিত সম্পূর্ণ এসারের মালিকানাধীন একটি শাখা কোম্পানির মাধ্যমে। যেহেতু পণ্যগুলো তাইওয়ানের বাইরে থেকে এসেছে, তাই তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাইপের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেনি। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থায় ওই রফতানি প্রক্রিয়ার সময় এসারের পণ্য নিষিদ্ধ ছিল না।
গত বছরের ৮ এপ্রিল এক বিবৃতিতে এসার বলেছিল, ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের কারণে এসার রাশিয়ায় তার ব্যবসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে নির্মাতাটির সে ঘোষণার কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।
সুইজারল্যান্ডের শাখা সংস্থা এসার সেলস ইন্টারন্যাশনাল এসএর মাধ্যমে রাশিয়ায় অব্যাহত বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তাইওয়ানের এসার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যসংক্রান্ত প্রযোজ্য সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং বাণিজ্য আইন কঠোরভাবে মেনে চলেছে। এছাড়া সুইস সংস্থাটি গত বছরের ৮ এপ্রিল থেকে রাশিয়ায় কোনো ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ সরবরাহ করেনি। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সম্মতি দেয়ার সময় বেসামরিক ব্যবহারের জন্য রাশিয়ার বাজারে সীমিতসংখ্যক ডিসপ্লে এবং আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
শিপমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, পিসি মনিটর ও ল্যাপটপসহ এসারের পণ্যগুলো ২০২২ সালের এপ্রিলের পরও রাশিয়ায় পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স বলছে, রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া কিছু এসার পণ্য কোথা থেকে এসেছে এবং কখন এগুলো রাশিয়ায় এসেছে তা নির্ধারণ করা যায়নি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুইস নিষেধাজ্ঞাগুলো ডিসেম্বর পর্যন্ত ল্যাপটপ কম্পিউটার ও কম্পিউটিং সরঞ্জাম রাশিয়ার বাজারে বিক্রির অনুমতি ছিল। ১৬ ডিসেম্বর ২০২২-এর পর সুইজারল্যান্ড থেকে রাশিয়ায় এসারের নতুন নিষিদ্ধ পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। সংস্থাটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, রাশিয়ার আমদানিকারকরা তৃতীয় দেশ থেকে এসারের ডিভাইস সংগ্রহ করতে পারে।
কনসাল্টিং কোম্পানি আইডিসি রাশিয়ার তথ্য বলছে, ২০২১ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে রাশিয়ায় বিক্রি হওয়া পিসির মধ্যে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল এসার। এ সময়ে এইচপি ও ডেলের যৌথ সরবরাহ ছিল ২০ দশমিক ৮ শতাংশ।










