একসময় এসি ছিল শুধু উচ্চবিত্ত শ্রেণীর যন্ত্র। সে জায়গা এখন অনেকটাই বদলেছে। তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে তাতে করে এখন আর বিলাসিতার পর্যায়ে নেই এসি, বরং তা চলে এসেছে মধ্যবিত্তের নাগালে। এসি ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন এত বেড়ে গেছে, চাহিদা অনুযায়ী এসি সরবরাহ করতেই হিমশিম খাচ্ছে বিভিন্ন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান।
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ এখন অনেকটাই গ্রীষ্মপ্রধান হয়ে উঠছে। বেশির ভাগ সময়জুড়ে গরম ও বাড়তি তাপমাত্রার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে মানবজীবন। এ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ওপর।
সাধারণত মার্চ থেকেই দেশের আবহাওয়া গরম হতে শুরু করে, ফলে এ সময়ের পর থেকেই এসির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়। গত কয়েক বছর ধরেই এ সেক্টর বার্ষিক প্রায় ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে। পাশাপাশি এসির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ১৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি কিছুদিনের দাবদাহের ফলে বিক্রেতাদের ধারণা শিগগিরই আবার ক্রেতারা আসতে শুরু করবেন এসি কেনার জন্য।
বাজার তথ্যের পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা জার্মান ওয়েব পোর্টাল স্ট্যাটিস্টার তথ্য বলছে, বাংলাদেশে এসি বিক্রির পরিমাণ প্রতি বছর বাড়ছে। এ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ২০১৩ সাল থেকে। তখন থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এসির বাজার। শুধু করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালে এসির বিক্রিতে কিছুটা ভাটা দেখা গিয়েছিল। সে বছর লকডাউনের কারণে অফিস-আদালত ও রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ ছিল। ফলে এসির চাহিদাও কমে যায়। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হলে পরের বছরই তা আবার বেড়ে যায়।
উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, বছরে ১০-১২ লাখ (ইউনিট) এসি বিক্রি হয়। বাসাবাড়িতে এক টন থেকে দুই টন ক্ষমতার এসির চাহিদা বেশি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ চাহিদা দেড় টন ক্ষমতার এসির। অন্যদিকে অফিস বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় মূলত বেশি জায়গাজুড়ে এসির ব্যবহার হয়। ফলে সেখানে অনেক বেশি ক্ষমতার এসি ব্যবহৃত হয়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, বর্তমানে এসির বাজারের প্রবৃদ্ধি ১৫-২০ শতাংশ, যা আরো বাড়তে পারে।
এভাবে ব্যবহার বাড়ার কারণে এসির বাজার নিয়ে এখন ভাবতে শুরু করেছে অনেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান। বছর দশেক আগেও দেশে এসির বাজার ছিল উচ্চবিত্তকেন্দ্রিক। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। আগে বিদেশী ব্র্যান্ডের এসি বেশি দামে কিনতে হতো গ্রাহকদের। বর্তমানে সে বাজারের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দেশীয় উৎপাদকরা। চাহিদার প্রায় সবই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে।
বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও অনেকে বাংলাদেশে এসি উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপন করেছে। দেশে এসি উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইলেক্ট্রো মার্ট, ওয়ালটন, ট্রান্সকম, সিঙ্গার বাংলাদেশ, বাটারফ্লাই, র্যাংগস ইলেকট্রনিকস, এসকোয়্যার ইলেকট্রনিকস, ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল, মিনিস্টার, ভিশন, এলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।










