আইওএসসহ অন্যান্য সিস্টেমে সার্চ ইঞ্জিন পরিষেবা দেয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গুগলের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে অ্যাপল। তবে শিগগিরই হয়তো এ নির্ভরশীলতার অবসান ঘটতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটি বর্তমানে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন তৈরিতে কাজ করছে। খবর টেকটাইমস।
সার্চ ইঞ্জিন তৈরির কথা ভাবলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি চালু করতে আরো চার বছর লাগবে বলে এ প্রকল্পের বিষয়ে অবগত সূত্রে জানা গিয়েছে। ২০১৮ সালে লেজারলাইক অধিগ্রহণ করেছিল অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীরা পুনরায় গুগলে যোগদানের জন্য চলে যান। মূলত তাদের এ প্রস্থানের কারণেই সার্চ ইঞ্জিন চালুর সময় এত পেছাতে বাধ্য হয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি।
দি ইনফরমেশন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সার্চ ইঞ্জিন চালুর বিষয়ে অ্যাপল ও গুগলের মধ্যকার চুক্তির বিষয়ে আলোকপাত করেছে। এছাড়া কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট কীভাবে তাদের আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাকসহ অন্যান্য ডিভাইসের জন্য সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করবে সে বিষয়েও জানিয়েছে। ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল একটি ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন বানাচ্ছে, যেটি সার্চের জন্য আর গুগলের ওপর নির্ভরশীল হবে না।
লেজারলাইকের শ্রীনিবাসন ভেঙ্কাটাচারীসহ অন্যান্য সহপ্রতিষ্ঠাতা পুনরায় গুগলে যোগদানের জন্য চলে যাওয়ায় অ্যাপলের সার্চ ইঞ্জিন চালু হতে চার বছর সময় লাগবে। নাইনটুফাইভ ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, গুগলের অন্যতম প্রতিযোগী হিসেবে অ্যাপলের নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। তারা যেটি তৈরি করতে যাচ্ছে সেটি বাস্তবায়নেও অনেক সময় লাগবে। বর্তমানে সার্চের জন্য অ্যাপল ও গুগলের মধ্যে চুক্তি চলমান। এখনো আইওএস, আইপ্যাডওএস, ম্যাকওএস, সিরিসহ অন্যান্য অ্যাপল সিস্টেমের জন্য প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের সেবাই নেবে অ্যাপল।
একাধিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গুগল ও অ্যাপলের মধ্যে সার্চ-সংক্রান্ত চুক্তি রয়েছে। এছাড়া কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটির ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে থাকার জন্য প্রতি বছর ২ হাজার কোটি ডলার দেয়। তবে চুক্তিতে একেক বছরের জন্য একেক ধরনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চুক্তিমূল্য ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের মধ্যে।
গত বছর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাক ডিভাইসে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের জন্য গুগলের কাছ থেকে বছরে দেড় হাজার কোটি ডলার পায় অ্যাপল। এ দুটি প্রযুক্তি জায়ান্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের দায়ের করা অ্যান্টিট্রাস্ট মামলা ও তদন্তের কারণে এ তথ্যগুলো প্রকাশ্যে আসে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো সার্চ ইঞ্জিন পছন্দের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের তেমন কোনো সুযোগ দেয় না। তদন্তে দেখা যায়, অ্যাপল থেকে গুগলের পরিষেবা গ্রহণের জন্য গ্রাহকদের বাধ্য করা হয়।










