অর্থনীতিতে শ্লথগতি এবং ভোক্তা ব্যয় হ্রাসের ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের স্মার্টফোন বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজারে গত প্রান্তিকে স্মার্টফোন বিক্রি ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চীনের বাজারে শীর্ষ স্মার্টফোন বিক্রেতা কোম্পানি ভিভোর হিস্যা ছিল ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। ১৮ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ ব্র্যান্ড ছিল অপোর। এছাড়া তৃতীয় স্থানে থাকা অনরের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ।

সাম্প্রতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও চলতি বছরে চীনের স্মার্টফোন বিক্রিতে দুই অংকের প্রবৃদ্ধির আশাবাদ কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের।

শীর্ষস্থান নিয়ে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। মেংমেং ঝ্যাং নামে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এক রিসার্চ অ্যানালিস্ট বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে শীর্ষ তিনে রয়েছে ভিভো, অপো ও অনর। তবে ভিভো ও অপোর স্মার্টফোন বিক্রি বছরওয়ারি যেখানে ২০ শতাংশ কমেছে সেখানে অনরের বিক্রি বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত হুয়াওয়ের বিক্রিও বছরওয়ারি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ফাইভজি সাপোর্ট পাওয়া না গেলেও হুয়াওয়ের নোভা ১০ সিরিজি ও এনজয় ৫০ খুব জনপ্রিয় ছিল।

আইফোন ১৪ প্রো ও আইফোন প্রো ম্যাক্স মডেলে ভর করে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অ্যাপলের বিক্রি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে প্রযুক্তিবিষয়ক বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনে ৭ কোটি ১১ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে, গত বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে যা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ কম।

আইডিসির হিসাবেও শীর্ষ স্মার্টফোন বিক্রেতা কোম্পানি ভিভো। ভিভো এক্স সিরিজে ভর করে স্থানীয় বাজারে শীর্ষস্থান তাদের। তবে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তালিকায় অপো দ্বিতীয় শীর্ষ ব্র্যান্ড হলেও আইডিসিতে দ্বিতীয় স্থান অনরের। এ৫৭ ও এ৯৭ ব্র্যান্ডের হাত ধরে চীনের বাজারে তৃতীয় বৃহ? স্মার্টফোন ব্র্যান্ড অপো।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল ভূখণ্ড চীনে স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ইউনিট, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১০ শতাংশ কমেছে। ক্যানালিসের আগের এক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, সর্বাধিক স্মার্টফোন বিক্রির দিক থেকে শীর্ষ চারেই ছিল চীনা ব্র্যান্ডের আধিপত্য। ১ কোটি ৩২ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি করে শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা ধরে রেখেছে ভিভো। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অনরের স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ। অপোর স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১৮ লাখ। ১ কোটি ৬ লাখ ইউনিট বিক্রির মাধ্যমে চতুর্থ স্থান শাওমির। ৯৯ লাখ আইফোন বিক্রির মাধ্যমে পঞ্চম স্থান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাপলের।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের বাজারে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বিক্রিও ১০ শতাংশ কমেছে। তবে সার্বিক স্মার্টফোন বাজারে এ সেগমেন্টের হিস্যা বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই প্রান্তিকে চীনে স্মার্টফোন বাজারে প্রিমিয়াম সেগমেন্টের হিস্যা ছিল ৩১ শতাংশ। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের এক প্রতিবেদনে এমনটা দাবি করা হয়।

খুচরা বাজারে ৪০০ ডলারের বেশি মূল্যের স্মার্টফোন প্রিমিয়াম সেগমেন্টের আওতাভুক্ত। এ সেগমেন্টকেও তিন ভাগে ভাগ করা হয়—সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম, প্রিমিয়াম ও আলট্রা প্রিমিয়াম। ৪০০ থেকে ৫৯৯ ডলার মূল্যের স্মার্টফোন সাশ্রয়ী প্রিমিয়ামের আওতায় পড়ে। ৬০০ থেকে ৭৯৯ ডলারের স্মার্টফোন প্রিমিয়াম এবং ১ হাজার ডলার ও তার বেশি দামের ফোন আলট্রা প্রিমিয়ামের আওতায় পড়েছে।

প্রিমিয়াম সেগমেন্ট নিয়ে কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক মেংমেং ঝ্যাং বলেন, কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা সামলে ২০২০ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে চীনের স্মার্টফোন বাজার। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে সর্বোচ্চ বিক্রির পর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দশকের সর্বনিম্নে দাঁড়ায়। এতে ২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রিমিয়াম সেগমেন্টেও বিক্রিতে পতন হয়। মূলত চীনের কয়েকটি শহরে আরোপিত লকডাউনের কারণে এতে প্রভাব পড়েছে। প্রিমিয়াম সেগমেন্টের গ্রাহক মূলত শহরে অবস্থান করায় ওই লকডাউনে ফোন কেনাকাটা কমিয়েছে।

তবে সার্বিক স্মার্টফোন বিক্রি কমলেও আলট্রা প্রিমিয়াম সেগমেন্টে চাঙ্গা বিক্রি অ্যাপলের। চীনে ১ হাজার ডলার বা তার চেয়ে বেশি দামের আইফোন বিক্রি ১৪৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সেগমেন্টে স্যামসাংয়ের বিক্রিও ১৩৩ শতাংশ বেড়েছে।