২০৩০ সাল নাগাদ মেটার ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ক্ষেত্র ও পারস্পরিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মেটাভার্সের বাজার ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানি প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
গত দুই বছর কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ই-কমার্স ব্যাপক হারে প্রসারিত হয়েছে। মেটাভার্সের বাজার তৈরির বিষয়ে জানাতে গিয়ে পরামর্শ প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ই-কমার্স ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বাজার বাড়াতে সহায়তা করবে। এরপর ভার্চুয়াল লার্নিং খাত ২৭ হাজার কোটি ডলার, বিজ্ঞাপন ২০ হাজার ৬০০ কোটি এবং গেমিং খাত ১২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার সহায়তা করবে।
মেটাভার্স একটি ডিজিটাল স্পেস। যেখানে ব্যবহারকারীরা থ্রিডিমেনশনাল অ্যাভাটার বা ডিজিটাল রিপ্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত জায়গায় চলাফেরা করতে পারে, যোগাযোগ করতে পারে। এটি ওয়েবথ্রির অংশ। যেটিকে বিশ্লেষক ও গবেষকরা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ম্যাকেঞ্জির জ্যেষ্ঠ অংশীদার এরিক হাজান বলেন, মেটাভার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি কৌশলগত ইনফ্লেকশন পয়েন্টের প্রতিনিধিত্ব করে। আমাদের জীবনযাপন, পারস্পরিক যোগাযোগ, শিখন, উদ্ভাবন ও সহযোগিতার উপায়কে প্রভাবিত করার একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাইভেট ইকুইটি সংস্থা মেটাভার্সে ১২ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১১০ শতাংশ বেশি।
ম্যাকেঞ্জি জানায়, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ডেমোগ্রাফিক টেইলউইন্ডস, ভোক্তা-নেতৃত্বাধীন ব্র্যান্ড বিপণন ও অংশগ্রহণ এবং বাজার প্রস্তুতিসহ বেশ কয়েকটি কারণ প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিনিয়োগের গতি বাড়িয়েছে। পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে থাকা ৩ হাজার ৪০০ ভোক্তা ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভের ওপর জরিপ পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি পোশাক, ফ্যাশন ও বিলাসপণ্য, ভোক্তাপণ্য, আর্থিক পরিষেবা, খুচরা বিক্রি এবং টেলিকম, মিডিয়া ও প্রযুক্তি খাতেও জরিপ চালিয়েছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, মেটাভার্সের বর্তমান ভার্সন মূলত গেমিং খাতকে প্রাধান্য দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন অ্যাপগুলো সামাজিকীকরণ, ফিটনেস, বাণিজ্য, ভার্চুয়াল লার্নিং ও অন্যান্য বিষয়কেন্দ্রিক। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটি গেমার মেটাভার্সের বিভিন্ন ভার্সনে প্রবেশ করতে পারে।
ম্যাকেঞ্জির আরেক জ্যেষ্ঠ অংশীদার লারেইনা ইয়ে বলেন, ভার্চুয়ালি ব্যবহারকারীদের যুক্ত করার প্রচেষ্টা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। বর্তমানে এটি চাক্ষুষ। সাধারণ মানুষ প্লাটফর্মে অর্থ ব্যয় করছে এবং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক পরিধি বাড়ছে। ম্যাকেঞ্জির গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রতি দশজনের মধ্যে ছয়জন বাস্তবে অবস্থানের পরিবর্তে মেটাভার্সের অভিজ্ঞতা গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ৭৯ শতাংশ বাস্তবে বা ভার্চুয়ালি কোনো কিছু কেনা, ৭৮ শতাংশ কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং ৭৬ শতাংশ ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যায়াম করার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মেটাভার্সের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুবাই মেটাভার্স পরিকল্পনার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটির অর্থনীতিতে মেটাভার্স সেক্টরের অবদান ৪০০ কোটি ডলারে উত্তীর্ণ করা। মে মাসে দুবাইয়ের ভার্চুয়াল অ্যাসেটস রেগুলেটরি অথরিটি মেটাভার্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথম নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল স্পেসে যুক্ত হয়েছে। গত মাসে মেটাভার্সে প্রথম বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে বর-কনে প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠান কেন্দ্র, কেক ও পোশাক নির্ধারণ করেছিল।










