মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলে বড় অংকের বিনিয়োগের পর এবার ওয়ারেন বাফেটের চোখ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিপ নির্মাতা কোম্পানি তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে (টিএসএমসি)। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি টিএসএমসির ৪১০ কোটি ডলারের শেয়ার ক্রয়ের চুক্তি করেছে ওয়ারেন বাফেট নেতৃত্বাধীন বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে অবশ্য ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার ক্রয়ের খবর পাওয়া গিয়েছে। বাফেটের এ শেয়ার ক্রয়ের খবরে আজ টিএসএমসির শেয়ারদরে তেজি ভাব দেখা গিয়েছে। সর্বশেষ খবরে দেখা যায়, গতকাল টিএসএমসির শেয়ারদর ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া তৃতীয় প্রান্তিকে টিএসএমসির ছয় কোটি শেয়ার ক্রয়ের চুক্তি করেছে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। উল্লেখ্য, টিএসএমসির বৈদেশিক বিনিয়োগকারীর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাকরক, ভ্যানগার্ড গ্রুপ ও সিঙ্গাপুরের সার্বভৌম অর্থ তহবিল জিআইসি।
বার্কশায়ার অতীতে প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ার না কিনলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বৃহৎ কোম্পানিগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে দেখা গিয়েছে। অ্যাপলের বড় আকারের শেয়ার ক্রয়ের পর এবার শীর্ষস্থানীয় চিপ কোম্পানির শেয়ার কিনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের ওমাহাভিত্তিক কনগ্লোমারেটটি। ফটোনিক্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (পিআইডিএ) স্পেশাল রিসার্চ কনসালট্যান্ট নবুনাগা চাই বলেন, বাফেট যখন কোনো কোম্পানির দিকে বিনিয়োগ করেন, তার মানে অন্তত ১০ বছর কোম্পানির পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়েছে। যেমনটা হয়েছিল অ্যাপলের বেলায়। দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়েই সাধারণত বিনিয়োগে এগোন এ বিনিয়োগ গুরু।
সম্প্রতি বিওয়াইডি থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয় বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। চীনের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) কোম্পানির তুলনায় সেমিকন্ডাক্টর খাতকে বাফেট খুবই সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন বলে মনে করেন নবুনাগা চাই। গত প্রান্তিকে টিএসএমসির দুর্দান্ত মুনাফায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে টিএসএমসির মোট আয় বেড়েছে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ, পরিচালন আয় বেড়েছে ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নিট মুনাফা ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
এনভিডিয়া, কোয়ালকম, অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের চিপ তৈরি করে দেয় টিএসএমসি। বিশ্বের সর্বাধুনিক চিপের সিংহভাগই সরবরাহ করে তাইওয়ানভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা জায়ান্টটি।
সামনের দিনগুলোতে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে এমন খাতের মধ্যে চিপ নির্মাণ খাত অন্যতম। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বচালিত
গাড়ি থেকে শুরু করে ডাটা সেন্টার ও সার্ভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে চিপ গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
তৃতীয় প্রান্তিকে আরো বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার কিনেছে বার্কশায়ার। এর মধ্যে রয়েছে শেভরন, অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, সিলানিজ করপোরেশন, প্যারামাউন্ট গ্লোবাল ও আরএইচ। তবে বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছে বাফেট নিয়ন্ত্রণাধীন বিনিয়োগ জায়ান্টটি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড, ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন করপোরেশন, জেনারেল মোটরস, ক্রুগার ও ইউএস ব্যানকর্প।
যেসব ব্যবসা ঠিকমতো বোঝেন না এতদিন সেসব ব্যবসা থেকে দূরে থাকার পলিসি অনুসরণ করেছেন বাফেট। কিন্তু শুরুর দিকে অ্যাপল ও গুগলের মতো কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করার জন্য অনুশোচনা করেছেন ৯২ বছর বয়সী এ বিলিয়নেয়ার। বর্তমানে যেসব কোম্পানিতে বার্কশায়ারের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ রয়েছে সে তালিকায় শীর্ষে অ্যাপল। ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্টটিতে ৩০ হাজার ৬২০ কোটি ডলারের শেয়ার রয়েছে বার্কশায়ারের।










