আগামী তিন বছরের মধ্যে কয়েক হাজার কোয়ান্টাম কম্পিউটার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন (আইবিএম)। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অরবিন্দ কৃষ্ণ এ কথা জানিয়েছেন। খবর টেকরাডার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে কৃষ্ণ বলেন, ২০২৫ সালে বিক্রির জন্য যেসব কম্পিউটার বাজারে আনা হবে সেগুলোয় ৪ হাজার কিউবিটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতা থাকবে। তুলনা করতে গেলে বর্তমান সময়ের কম্পিউটারে ১২৭ কিউবিট কম্পিউটিং সক্ষমতা রয়েছে।

নতুন ডিভাইসগুলোর কার্যকারিতার বিষয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৃষ্ণ আরো বলেন, এগুলো ট্রাক বহরের রাস্তা পরিবর্তনের পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকি মডেল পরিবর্তনেও সহায়তা করবে। গতানুগতিক কম্পিউটারের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধানে পৃথিবীর আকৃতির ডিভাইসের প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়াটসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন কৃষ্ণ। তিনি জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাটি নির্ধারিত সময়ের পর স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ও ফল জানিয়ে থাকে। সেদিক থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তুলনায় কোয়ান্টাম কম্পিউটারের উন্নয়ন তুলনামূলক কঠিন বলেও জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইবিএম একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। যেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি কতটা কঠিন সে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। গবেষণাপত্রে কোয়ান্টাম পাওয়ারের জন্য অ্যাপ্লিকেশনের প্রাপ্যতা নিশ্চিতের একটি পদ্ধতির কথা জানানো হয়।

পত্রে আইবিএম জানায়, রাসায়নিক ও ফিজিক্যাল সিস্টেমের জন্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার কার্যকর। কিন্তু বর্তমানে যেসব কোয়ান্টাম প্রসেসর রয়েছে, সেগুলো খুব কম সময়ে যথাযথ ফল দিতে পারে। এর সমাধানে প্রতিষ্ঠানটি একটি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। সেটি হলো ক্লাসিক্যাল ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিং পাওয়ারের সমন্বয়। যেটিকে প্রযুক্তির ভাষায় এনট্যাঙ্গেলমেন্ট ফোর্জিং বলা হয়। এটি সফল হলে বর্তমানে বিদ্যমান কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের কার্যক্ষমতাকে দ্বিগুণ করে দেবে।