চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো ব্যয় বেড়েছে। প্রযুক্তিবাজার বিশ্লেষক সংস্থা ক্যানালিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক ব্যয় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ২৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডাটা অ্যানালিটিকস ও মেশিন লার্নিং, ডাটা সেন্টার কনসলিডেশন, অ্যাপ্লিকেশন মাইগ্রেশন, ক্লাউড-ন্যাটিভ ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভিস ডেলিভারিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে।

ক্যানালিসের উপাত্তে দেখা গিয়েছে, ক্লাউড পরিষেবা ব্যয় আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৬০০ কোটি ডলার বেড়েছে। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় তা ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্লাউড পরিষেবায় শীর্ষ তিন ব্র্যান্ড ছিল অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট অ্যাজুরে ও গুগল ক্লাউড। গত প্রান্তিকে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠানের হিস্যা ছিল ৬৩ শতাংশ। তিন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪২ শতাংশ।

বিশ্ব অর্থনীতি যখন মূল্যস্ফীতি, সুদহার বৃদ্ধি ও মন্দার আশঙ্কায় তখন ক্লাউড পরিষেবার চাহিদা বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো পরিষেবা ব্যয়ের ৩১ শতাংশ গিয়েছে এডব্লিউএসের ঘরে। বিশ্বের শীর্ষ ও ক্লাউড পরিষেবা কোম্পানিটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাজুরের বাজার হিস্যা ছিল ২৪ শতাংশ। মাইক্রোসফট মালিকানাধীন কোম্পানিটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪০ শতাংশ। গুগল ক্লাউডের হিস্যা ছিল ৮ শতাংশ। অ্যালফাবেট মালিকানাধীন কোম্পানিটির বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে ৪৫ শতাংশ।

ক্লাউড পরিষেবা খাতে আধিপত্য বিস্তারে এডব্লিউএস ও মাইক্রোসফটের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হয়েছে। এতে অ্যাজুরের সম্প্রসারণ বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিয়েছে মাইক্রোসফটের জন্য। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একাধিক চুক্তি করেছে মাইক্রোসফট। এর মধ্যে রয়েছে ১০ কোটি থেকে শতকোটি ডলার বা তার চেয়ে বেশি অর্থের চুক্তি। বৈচিত্র্যময় ও সহজতর বাজার ইকোসিস্টেম, বিস্তৃত পরিষেবা ও বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার অংশীদারত্বের ফলে এডব্লিউএসকে বেশ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারছে অ্যাজুরে।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ক্যানালিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স স্মিথ বলেন, প্রযুক্তি খাতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী খাত হিসেবে নিজের স্থান অক্ষুণ্ন রেখেছে ক্লাউড পরিষেবা। ছোট ও বড় সব প্রতিষ্ঠানের জন্যই এ খাতে বিকাশের ভালো সুযোগ থাকলেও শীর্ষস্থান নিয়ে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের লড়াই লক্ষণীয়।

এডব্লিউএস ও মাইক্রোসফট উভয়ই ক্লাউড অবকাঠামো নির্মাণে বড় অংকের ব্যয় করছে। আগামী বছরের মধ্যে আটটি অঞ্চলে ২৪টি অ্যাভেইলেবিলিটি জোন চালুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এডব্লিউএস। অন্যদিকে একই সময়ে ১০টি নতুন অঞ্চলে এ ধরনের জোন চালু করতে চায় মাইক্রোসফট। এছাড়া বৈশ্বিক চাহিদা আমলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সম্প্রসারণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট দুটি।

গত মাসে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য বিশেষ একটি পাবলিক ক্লাউড উন্মোচন করে মাইক্রোসফট। মাইক্রোসফট ক্লাউড ফর সভরিনটি নামে এ ক্লাউড পরিষেবায় থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ পরিষেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের ডাটার ওপর অধিকতর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্লাউডে পরিচালন ও সুশাসনে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিতের সুযোগ পাবে। নিজস্ব ওয়েবসাইটে শেয়ার করা এক ব্লগপোস্টে মাইক্রোসফট জানায়, ইতালীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এবং বেলজিয়ামভিত্তিক টেলিকম প্রতিষ্ঠান প্রক্সিমাসের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্লাউডটি উন্মোচন করা হয়। মহামারীর সময়ে পাবলিক সেক্টরে বিশেষ ডিজিটাল অগ্রগতি এবং বিশেষ করে অ্যামাজন ও গুগলের সঙ্গে পাল্লা দিতে এ সিদ্ধান্ত মাইক্রোসফটের।

মাইক্রোসফট জানায়, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং কম খরচ ছাড়াও তাদের এ ক্লাউড পণ্যটি ডাটা গভর্ন্যান্স, সিকিউরিটি কন্ট্রোল, নাগরিকদের গোপনীয়তা, ডাটা রেসিডেন্সিসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয়তাই পূরণ করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সরকারি ক্লাউডের বাজার দাঁড়াতে পারে ৭ হাজার ১২০ কোটি ডলার, যেখানে ২০২১ সালে ছিল ২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার।