বিশ্বজুড়ে চলমান সরবরাহ সংকটের কারণে ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে ভারতের স্মার্টফোন বাজার মাত্র ২ শতাংশ বেড়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর সময়েও যেখানে এ খাতে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে, সেখানে প্রথম প্রান্তিকের হার খুবই নগণ্য। সম্প্রতি বৈশ্বিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি বছরের বাকি সময় ভারতে স্মার্টফোন কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কঠিন হবে বলে জানিয়েছে ক্যানালিস। প্রতিষ্ঠানটির গবেষক সানিয়াম চৌরাশিয়া বলেন, ভারতে জ্বালানি তেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। পাশাপাশি মার্চে পাইকারি মূল্যস্ফীতি ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রাহারের উত্থান-পতন, মুদ্রাস্ফীতি এবং অধিক উৎপাদন ব্যয়ের কারণে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুনাফা অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে বাধ্য করবে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বের বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতে ৩ কোটি ৮০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে। গত বছরের তুলনায় যা মাত্র ২ শতাংশ বেশি। মূলত নেতৃস্থানীয় উৎপাদনকারীরা সরবরাহ সংকটে পড়ার কারণে বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে। চৌরাশিয়া আরো বলেন, প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশ যখন কভিড-১৯-এর তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলা করেছে তখন ভারতে এর প্রভাব কম ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের বাজার শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। তবে শীর্ষ উৎপাদনকারীদের জন্য যন্ত্রাংশ সংকট বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। কেননা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের জন্য যন্ত্রাংশ সংরক্ষণে বেশি ব্যস্ত ছিল।
বিশ্বের অন্যান্য ব্র্যান্ড স্থিতিশীল সরবরাহের মাধ্যমে প্রথম প্রান্তিকে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শীর্ষ উৎপাদনকারীদের জায়গা দখলে নিয়েছে। সানিয়াম চৌরাশিয়া বলেন, সরবরাহ সংকট নিরসনে উৎপাদনকারীরা বর্তমানে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। চ্যানেল প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভালো বিক্রির পূর্বাভাস দিচ্ছে। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শাওমি ভারতে ৮০ লাখ ইউনিট, দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ৬৯ লাখ, রিয়েলমি ৬০ লাখ, ভিভো ৫৭ লাখ, অপো ৪৬ লাখ এবং অন্যান্য ব্র্যান্ড ৬৭ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি করেছে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ভারতের স্মার্টফোন বাজারের বিস্তারে সর্বস্তরের মানুষ ভালো প্রভাব বিস্তার করবে। পাশাপাশি মাঝারি থেকে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন বিক্রি ২০২২ সালে ভোক্তাদের আকর্ষণে সহায়ক হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তি বাজারে বিভিন্ন অনিশ্চয়তা বিরাজমান থাকায় স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা, গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা ও আকর্ষণীয় ফিচার এ বছর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।










