বিশ্বব্যাপী গুগল প্লে-স্টোরের পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চলমান তদন্তের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতি নিয়ন্ত্রক সংস্থাও (কেপিপিইউ) গুগলের সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কেপিপিইউ জানিয়েছে, তাদের সন্দেহ গুগল তার প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে শর্তাধীন বিক্রয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ায় ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন বিতরণে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
কেপিপিইউ বলছে, একটি প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, গত ১ জুন থেকে ইন্দোনেশিয়ান অ্যাপ ডেভেলপারদের গুগলের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা ১৫-৩০ শতাংশ ফি কেটে নেয়। গুগল পে চালুর আগে অ্যাপ ডেভেলপারদের মাত্র ৫ শতাংশ ফি দিতে হতো, যা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি গুগল পে ব্যবহার না করলে অ্যাপ ডেভেলপারদের প্লে-স্টোর ছাড়ার কথাও বলা হয়েছিল। কেপিপিইউ বলছে, গুগল ২৭ কোটি মানুষের দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে ৯৩ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
গুগল এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করলেও অন্যান্য দেশে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে যুক্তি দিয়েছিল, তাদের কেটে নেয়া সার্ভিস ফি বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের কাছে অ্যান্ড্রয়েড সেবা সহজ করেছে এবং অ্যাপ ডেভেলপারদের বৈশ্বিক প্লাটফর্ম দিয়েছে।
গত দশকে পেমেন্ট পরিষেবা, অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম এবং বিজ্ঞাপন পরিষেবা সম্পর্কিত প্রতিযোগিতা বিরোধী কাজের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন গুগলকে ৮০০ কোটি ইউরো জরিমানা করেছে। বুধবার এক শীর্ষ ইউরোপীয় আদালত একটি রায় বহাল রেখে বলেছে, গুগল প্রতিযোগিতার সব নিয়ম ভঙ্গ করেছে এবং কোম্পানিটিকে রেকর্ড ৪১০ কোটি ইউরো জরিমানা করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও আগস্টে বলেছিল, তারা অ্যাপ অন্তর্ভুক্ত পেমেন্ট আইনের সন্দেহভাজন লঙ্ঘনের জন্য গুগলসহ অ্যাপ স্টোর অপারেটরদের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিকল্পনা করেছে। সিউল গত বছর প্রধান অ্যাপ স্টোর অপারেটরদের সফটওয়্যার ডেভেলপারদের তাদের অর্থ প্রদানের সিস্টেম ব্যবহার করতে বাধ্য করা ও কার্যকরভাবে তাদের অ্যাপ-মধ্যস্থ কেনাকাটায় কমিশন চার্জ করা থেকে বিরত রাখতে আইন পাস করেছে, যা গুগলবিরোধী আইনের তকমা পেয়েছে।
কেপিপিইউ পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত পরিচালনা করবে এবং একজন কর্মকর্তা বলেছেন, যদি গুগলের দ্বারা একচেটিয়া বিরোধী আইন লঙ্ঘন করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে এ সময়ের মধ্যে অর্জিত মোট লাভের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হতে পারে।










