আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সি-ব্যান্ড ফাইভজি চালুর সময় স্বেচ্ছায় পিছিয়েছে ভেরিজন কমিউনিকেশনস ও এটিঅ্যান্ডটি। সম্প্রতি দেশটির ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন (এফএএ) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স।

বিমানবন্দর এলাকায় নেটওয়ার্ক ব্যবহারে কোনো উড়োজাহাজ যেন বাধার সম্মুখীন না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে কাজ করছে এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কার্যক্রম চলাকালীন নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান দুটি স্বেচ্ছায় ফাইভজি প্রযুক্তির বিস্তার ও ব্যবহার বন্ধ রাখবে। জানুয়ারির শুরুতে দুটি প্রতিষ্ঠান আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত কিছু ওয়্যারলেস টাওয়ার ব্যবহারের পাশাপাশি বিমানবন্দর এলাকায় থাকা অন্যগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল।

সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ভেরিজন জানায়, নতুন চুক্তির আওতায় সামনের মাসগুলোয় বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় ফাইভজি প্রযুক্তির প্রসার ও ব্যবহারে স্বেচ্ছায় যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো তুলে নেয়া হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরো বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহক ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা পাবে।

এটিঅ্যান্ডটি জানায়, ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় ফাইভজির সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে আরো টাওয়ার কার্যকরের পাশাপাশি সিগন্যালের শক্তি ও পরিধি বাড়ানো সহজ হবে।

এটিঅ্যান্ডটি আরো জানায়, এয়ারলাইনসগুলো যেন কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই তাদের উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে সেজন্য তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে উড়োজাহাজের আল্টিমিটারে ফাইভজি প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে বিমানের উচ্চতা পরিমাপে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জরুরি অবতরণের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। শুরুর দিকে ফাইভজি তরঙ্গের প্রভাবে কিছু উড়োজাহাজের উড্ডয়নে সমস্যা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কিছু উড়োজাহাজে রেডিও আল্টিমিটারের রেট্রোফিট সম্পন্নের আহ্বান জানায়। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিলি নলেন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানকে ফাইভজি তরঙ্গের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য রেডিও আল্টিমিটারে ফিল্টার যুক্ত করার আহ্বান জানান। মূলত সামনের মাস থেকে প্রধান বিমানবন্দরগুলোয় যেন পরিষেবায় ক্ষতিকর কোনো প্রভাব না পড়ে, সেটি নিশ্চিতেই এ কথা বলা হয়।

সম্প্রতি এফএএর সঙ্গে এক বৈঠকে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারলাইনস ফর আমেরিকা জানায়, ২০২৩ সালের জুলাই নাগাদ ৪ হাজার ৭০০ উড়োজাহাজে ফিল্টার যুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে এটি সম্পন্নের সম্ভাবনার বিষয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করে।

এক বিবৃতিতে এফএএ জানায়, প্রধান বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলোর জন্য যে ফিল্টার ও পরিবর্তনযোগ্য ইউনিট প্রয়োজন, ২০২৩ সালের জুলাই নাগাদ সেগুলোর সংযোজন সম্পন্ন হয়ে যাবে। এর পর থেকে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে সামান্য বিধিনিষেধের আলোকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

অন্যদিকে দুর্গম অঞ্চলে ফাইভজি সিগন্যাল ছড়িয়ে দিতে নতুন ড্রোন তৈরি করেছে টেলিকমিউনিকেশন জায়ান্ট এটিঅ্যান্ডটি। এর মাধ্যমে দুর্গম বা দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার এলাকায় ইন্টারনেট তরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়া যাবে। ড্রোনগুলোকে ফাইভজি ফ্লাইং কাউ নামকরণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে এটিঅ্যান্ডটি জানায়, পরীক্ষার সময় এসব ড্রোন ১০ স্কয়ার মাইল এলাকায় শক্তিশালী ফাইভজি তরঙ্গ বিতরণে সক্ষম হয়েছে।