সেপ্টেম্বরে ক্রয়াদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাহক বা ক্রেতাদের কাছে চিপ পৌঁছে দেয়ার সময় চারদিন কমে এসেছে, যা এ বছরের হিসাবে সবচেয়ে কম। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তিবিদ, বিশ্লেষক ও বাজার-সংশ্লিষ্টদের আশা সরবরাহ সংকট ধীরে ধীরে প্রশমিত হচ্ছে। খবর ব্লুমবার্গ।
সুসকেহান্না ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের গবেষণা অনুযায়ী, লিড টাইম হচ্ছে চিপের ক্রয়াদেশ ও ক্রেতা বা গ্রাহকের কাছে পণ্য পৌঁছে দেয়ার সময়ের ব্যবধান। গত মাসে তা ২৬ সপ্তাহে (২৬ দশমিক ৩) নেমে এসেছে, এর আগের মাসে যা ২৭ সপ্তাহ ছিল। সুসকেহান্নার একজন গবেষক ক্রিস্টোফার রোলান্ড এক রিসার্চ নোটে জানান, মূল পণ্য, পাওয়ার ম্যানেজমেন্টসহ অ্যানালগ চিপের ক্ষেত্রে এ সময় কমে এসেছে।
বৈশ্বিক চিপ সংকটের কারণে গত বছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় গাড়ি, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক পণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারীরা সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ নিশ্চিতে হিমশিম খেয়েছে। সরবরাহ সংকটের কিছু বিষয় এখনো বিদ্যমান। তবে বর্তমানে চিপ উৎপাদনকারীরা বিপরীত সমস্যার বিষয়ে ভাবছে। চাহিদা কমতে থাকায় বর্তমানে ইনভেন্টরি বাড়তে শুরু করেছে।
কভিড-১৯ মহামারীর সময় ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে ডিভাইসের চাহিদা কমে যাওয়ায় ইন্টেল করপোরেশন ও অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) বিক্রি কমেছে। এর মধ্যে ব্যক্তিগত কম্পিউটারও রয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে এএমডি পণ্য বিক্রির যে পূর্বাভাস দিয়েছিল চলতি মাসের শুরু পর্যন্ত সেখান থেকে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যয় কমাতে ও লোকসানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কর্মীদের অব্যাহতি দেয়ার পাশাপাশি নিয়োগ কার্যক্রমও শিথিল করেছে ইনটেল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। দেশটির চিপ উৎপাদন খাতের বিকাশকে বাধা প্রদানে সব ধরনের প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধে আইন ও বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে বাইডেন প্রশাসন। এদিকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার ইঙ্গিত দিয়েছে তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো জায়গায় তৈরি করা চিপের সংস্পর্শ থেকে চীনকে দূরে রাখার কথা বলা হয়েছে। মূলত বেইজিংয়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি সামরিক খাতের অগ্রগতি রোধে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং টানা চতুর্থ প্রান্তিকে অবিক্রীত ইনভেন্টরি শিপমেন্ট রেকর্ড হওয়ায় বিশ্বব্যাপী ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ কম্পিউটার শিপমেন্টে পতন হয়েছে। ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে কম্পিউটারের বাজারজাত ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গার্টনার সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিশ্বজুড়ে বাজার বিশ্লেষণের দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি কম্পিউটার বিক্রি কমেছে। এর আগে ক্যানালিসের গবেষণায় এ বাজারের পতন দুই অংকে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্বব্যাপী কম্পিউটার নির্মাতাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে লেনোভো গ্রুপ লিমিটেড। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির বাজারজাত বা বিক্রি প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। কম্পিউটার বিক্রিতে পাঁচটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের একটি এইচপি ইনকরপোরেশন। বছরের একই সময়ে এ প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার বিক্রি ২৮ শতাংশ কমেছে, যা সবচেয়ে বড় পতন বলেও জানিয়েছে এইচপি।
চিপের বাজার নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্টেলান্টিসের প্রধান কার্লোস তাভারেস। ফরাসি সংবাদপত্র লে পারিসিয়েনের কাছে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের বাজার প্রতিকূলে থাকবে। তাভারেস বলেন, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকবে। এরপর চিপ সংকটাবস্থার একটু উন্নতি হতে পারে। আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করার জন্য সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকারীরা পুনরায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।










