চীনের মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর কাছে চিপ নির্মাণসামগ্রী রফতানি সীমিত করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। সেমিকন্ডাক্টর খাতে চীনের উত্থান ঠেকানো এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় এ পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন। বিষয় সম্পর্কে অবগত চার সূত্রের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জো বাইডেন প্রশাসন চীনের মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দক্ষিণ কোরীয় মেমোরি চিপ জায়ান্টরাও। শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের মতো কোম্পানির কারখানা রয়েছে শেনঝেনে। উল্লেখ্য, চীনে ইন্টেল করপোরেশনের ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ ব্যবসা কিনে নিচ্ছে এসকে হাইনিক্স।

চীনভিত্তিক মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলো বাইডেন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় এলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ প্রাপ্তি কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

বলা হচ্ছে, মার্কিন মেমোরি চিপ কোম্পানিগুলোর সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে হোয়াইট হাউজ। কিন্তু ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল করপোরেশন ও মাইক্রন টেকনোলজি বৈশ্বিক ন্যান্ড চিপ বাজারের মাত্র এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

স্মার্টফোন ও ব্যক্তিগত কম্পিউটারের (পিসি) মতো ডিভাইস ও অ্যামাজন, ফেসবুক ও গুগলের ডাটা সেন্টারে ডাটা মজুদে ব্যবহূত হয় ন্যান্ড চিপ। কত ন্যান্ড চিপ রয়েছে তার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় মেমোরি চিপ কত গিগাবাইটের হবে।

মেমোরি চিপের ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে শীর্ষস্থান দক্ষিণ কোরিয়ার। বৈশ্বিক মেমোরি চিপ সরবরাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের। ডির্যাম বাজারে শীর্ষ তিন প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন টেকনোলজির সম্মিলিত বাজার হিস্যা ৯৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

সেমিকন্ডাক্টরের অন্যান্য সেগমেন্টে সাফল্য দেখালেও ডির্যাম সেগমেন্টে দফায় দফায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে চীন। ২০১৭ সালে এ সেগমেন্টে প্রবেশ করেছিল চীনা কোম্পানি সিনহুয়া ইউনি গ্রুপ। কিন্তু বড় অংকের অর্থ ঢেলেও সফলতার মুখ দেখেনি তারা। গত বছর প্রায় দেউলিয়াত্বের মুখে এ সেগমেন্ট থেকে বিদায় নেয় সিনহুয়া ইউনি গ্রুপ। কয়েক বছরে মেমোরি চিপে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধিতে চীনে তাই স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেইজিংয়ের জন্য। এজন্য সিউলকে চাপে রাখছে বেইজিং। ওদিকে বৃহত্তম বাজার হওয়ায় সহজেই চীনের সঙ্গে বিচ্ছেদ ভালো সিদ্ধান্ত হবে না দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন চিপ ৪ জোটে অংশগ্রহণে বেশ চাপের মুখে সিউল।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের ক্রসফায়ারে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাইওয়ান ও জাপানকে নিয়ে নতুন সেমিকন্ডাক্টর জোট গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একে টেনে নিতে অন্য মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। কিন্তু চীনের মতো বৃহৎ বাজারের সঙ্গে বৈরিতা যে আখেরে লোকসান ঠেকতে পারে এ ভয়ে পিছুটান রয়েছে সিউলের। চিপ ৪ নামে অনানুষ্ঠানিক জোটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারে দক্ষিণ কোরিয়া।