ইউক্রেনের কম্পিউটারে নতুন আরেকটি ধ্বংসাত্মক ওয়াইপার ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এটি তৃতীয় ম্যালওয়্যার। খবর দ্য ভার্জ।

ম্যালওয়্যারটিকে ক্যাডিওয়াইপার নাম দেয়া হয়েছে। স্লোভাকিয়াকেন্দ্রিক সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইসেটে গবেষকরা ম্যালওয়্যারটির সন্ধান পান। সম্প্রতি এক টুইটে এ-সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, ম্যালওয়্যারটি ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ডিভাইসের সঙ্গে যেসব ড্রাইভ যুক্ত থাকে, সেখানকার যাবতীয় ব্যক্তিগত ও পার্টিশন তথ্য মুছে দেয়। টুইটারে শেয়ার করা স্যাম্পল কোডের তথ্যানুযায়ী, ম্যালওয়্যারটি ড্রাইভে থাকা ফাইলগুলোকে নাল বাইট ক্যারেক্টার দিয়ে ওভাররাইট করে। ফলে সেসব ফাইল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

ইসেটের থ্রেট রিসার্চ বিভাগের প্রধান জিন ইয়ান বুটিন ভার্জকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, আমরা জানি, ওয়াইপার যদি কাজ করে তাহলে সেটি পুরো সিস্টেমকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে। তবে এর সামগ্রিক প্রভাব কেমন হবে সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত খুব বেশি ডিভাইসে ম্যালওয়্যারটির আক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইসেট এখন পর্যন্ত মাত্র একটি প্রতিষ্ঠানকে ক্যাডিওয়াইপারের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে দেখেছে।

ক্যাডিওয়াইপারের আগে ইসেটের গবেষকরা ইউক্রেনের কম্পিউটারে একই ধরনের আরো দুটি ম্যালওয়্যারের সন্ধান পেয়েছিলেন। গবেষকরা প্রথম ধরনটির নাম দিয়েছিলেন হারমেটিকওয়াইপার। ২৩ ফেব্রুয়ারি এটির সন্ধান পাওয়া যায়। এর পরদিনই রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালায়। আইজ্যাকওয়াইপার ম্যালওয়্যারটি ২৪ ফেব্রুয়ারিতেই উন্মুক্ত করা হয়। ইসেটের গবেষকরা জানান, উন্মুক্তের কয়েক মাস আগে থেকেই ম্যালওয়্যার দুটির উন্নয়ন কার্যক্রম চলে আসছিল।

নির্ধারিত ডিভাইস বা কম্পিউটারে আক্রমণের ক্ষেত্রে ওয়াইপার প্রোগ্রাম ও র্যানসমওয়্যার একই বৈশিষ্ট্যের। তবে র্যানসমওয়্যার হামলা হলে হামলাকারীরা নির্দিষ্ট অর্থ আদায় না করা পর্যন্ত ফাইল এনক্রিপ্টেড করে রাখে। কিন্তু ওয়াইপার স্টোরেজ থেকে তথ্য চিরতরে মুছে দেয়। পরবর্তী সময়ে সেগুলো পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগ থাকে না। ম্যালওয়্যারটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে নির্ধারিত ডিভাইসের সব তথ্য চিরতরে মুছে গুরুতর ক্ষতি করা।

রাশিয়াপন্থী হ্যাকাররা যেখানে ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ইউক্রেনের কম্পিউটারে থাকা তথ্য মুছে দিচ্ছে, সেখানে ইউক্রেনের সমর্থনে থাকা হ্যাকাররা আক্রমণাত্মক কৌশল হিসেবে রাশিয়ার ব্যবসায়ী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে।